Quantcast
ঢাকা, রোববার 29 July 2012, ১৪ শ্রাবণ ১৪১৯, ৯ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৭৪৯ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

নিজ ভিটে ছাড়া হয়ে বিপর্যস্ত ১২৫ বছর বয়সী ইউসূফ মোমিন

আসামে বোড়ো সহিংসতায় ঘরবাড়ি হারিয়ে মুসলমানরা আশ্রয় শিবিরে

ভারতের আসামে দাঙ্গায় জন্মভিটে ছেড়ে আশ্রয়ের সন্ধানে নারী ও শিশুসহ একটি মুসলিম পরিবার -ইন্টারনেট

রাজশাহী অফিস : ভারতের আসামে সাম্প্রতিক দাঙ্গায় জন্মভিটে হারিয়েছেন ১২৫ বছর বয়সী ইউসুফ মোমিন। আসামের শেরফাংগুড়িতে তাঁর বাড়ি। হিংসার আগুনে এই বয়সে সবকিছু খুইয়ে এই বৃদ্ধ মানুষটি মানসিক ও শারীরিকভাবে একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ভিটে ছেড়ে এখন তিনি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।

গতকাল শনিবার কোলকাতার গণশক্তি পত্রিকার এক রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, হিংসা কবলিত এলাকা থেকে পালিয়ে এসে এখন ইউসুফ মোমিন পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের আলিপুর দুয়ার ২নং ব্লকের যশোডাঙ্গার  মোমিন পাড়ার শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন। আসাম সীমান্ত পেরিয়ে এখনও বহু মানুষ এই এলাকায় আসছেন। মূলত বাকসা, উদালগুড়ি, চিরাং ও কোকরাঝাড় এলাকা থেকেই মানুষ আসছেন। শুক্রবারও বেশ কিছু মানুষ এদিকে চলে এসেছেন। আলিপুর দুয়ার ২নং ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ছাউনি করে দেয়া হয়েছে। চাল, সবজি কিনে দেয়া হয়েছে। এলাকার সব ভাষাভাষির মানুষ এই নিরাশ্রয়, দুর্গত মানুষদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন।

গণশক্তির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ১২৫ বছর বয়সী ইউসুফ মোমিন বেশ কয়েকটি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সাক্ষী। এই সংঘর্ষ যাতে না হয়, তার জন্য একসময় তাঁর একটা বড় ভূমিকাও ছিলো। কিন্তু বয়সের ভারে এখন আর পারেন না। হিংসার রেশ ছড়িয়ে পড়তেই পরিবারের অন্যান্যদের নিয়ে অনেক ঝুঁকি নিয়েই আসামের সীমানা পেরিয়ে চলে এসেছেন দেউরা খাতুন ও অঞ্জুমান খাতুনদের মতো নিঃস্ব মহিলারা। ঘরের যা কিছু ছিলো তা আগে লুট করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। সন্তানদের নিয়ে গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে কোনরকমে নৌকায় নদী পার হয়ে রাতের অন্ধকারে বারোভিষাতে আশ্রয় নেন। এঁদের সকলেরই একটাই চিন্তা, কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন। একেবারেই গরিব মানুষ। নতুন করে কীভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে সেটাও একটা বড় ভাবনা এই সব মানুষদের কাছে। ভিটেমাটি হারানো এইসব মানুষের অভিযোগ, আসাম সরকার সঠিক সময়ে আক্রান্ত মানুষদের রক্ষা করার উদ্যোগ নেয়নি। তাঁদের প্রশ্ন পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণেই থাকে, তাহলে তাঁদের মতো ঘরছাড়া মানুষেরা কেন ফিরতে পারছেন না?