Quantcast
ঢাকা, রোববার 29 July 2012, ১৪ শ্রাবণ ১৪১৯, ৯ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৭০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

নরসিংদীতে বন্দুক ও টেটাযুদ্ধে নিহত ৩\ আহত অর্ধশতাধিক

নরসিংদী সংবাদদাতা : হেলাল নামে কাশিমপুর পীরের এক মুরিদকে জুয়ার আড্ডা থেকে ধরে এনে পায়ের রগ কেটে দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুফতি ওসমান সমর্থক ও কাশিমপুরী পীরের মুরিদদের মধ্যে সৃষ্ট এক রক্তক্ষয়ী বন্দুক ও টেটাযুদ্ধে খোকা মিয়া (৩৫), ফারুক মিয়া (৪০) ও এজাজ মিয়া (৩৫) নামে ৩ ব্যক্তি নিহত  এবং কমবেশি অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টায় রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চলের কাচারীকান্দী গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে শহিদ মিয়া (২৬), কবির (২৮), কমলা বেগম (৩০), আল-আমিন (২০), এজাজ মিয়া (২৫), কামাল (৩৫), আব্দুল আলী (৩০), শাহ আলম (৩৫), হেলাল মিয়া (২৫), ওমর আলী (৪০), খোকন মিয়া (৩০), সাদেক মিয়া (৩০), নজরুল ইসলাম (৫০), হারিছ মিয়া (১৪), হানিফা মিয়া (৪০)সহ ১৫ জনকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর গ্রামটিতে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় গ্রুপই যার যার নিরাপদ অবস্থানে ওঁৎপেতে বসে রয়েছে। যেকোন সময়ই বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে গ্রামের শান্তিপ্রিয় জনগণ। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গ্রামটিতে ব্যাপক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।

জানা গেছে, কাচারীকান্দী গ্রামে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাশিমপুর পীরের কয়েকশত মুরিদানা রয়েছে। এসব মুরিদানরা দাঁড়িয়ে দরুদ পাঠ করে বলে স্থানীয় আলেম মুফতি ওসমানের সমর্থকরা তাদেরকে বেদাআতি বলে আখ্যায়িত করে। এ নিয়ে দীর্ঘ এক বছর ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বনদ্ব চলে আসছিল। মুফতি ওসমান স্থানীয় কাচারীকান্দী মাদরাসার মোহতামিম। তার সমর্থক একটি ছাত্র সংগঠন রয়েছে। এরা রাতের বেলায় গ্রামে পাহারা দেয়। কিছুদিন পূর্বে এই পাহারারত অবস্থায় ছাত্ররা গ্রামের একটি জুয়ার আড্ডা থেকে জনৈক সুখু মিয়ার ছেলে হেলাল মিয়াকে ধরে এনে অমানবিকভাবে মারধোর করে তার পায়ের রগ কেটে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গ্রামে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। উভয় পক্ষেই টেটা, বল্লম ইত্যাদি রণসাজে সজ্জিত হয়ে যার যার অবস্থানে বসে থাকে। এ খবর জানতে পেরে গ্রামের নেতৃস্থানীয় লোকেরা আগামী মঙ্গলবার ঘটনা মীমাংসার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু শনিবার সকাল ৮টায় ঘটনাক্রমে দুই গ্রুপের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। উভয় পক্ষে কমবেশি সহস্রাধিক লোক যুদ্ধে অংশ নেয়। উভয় গ্রুপই আগ্নেয়াস্ত্রসহ স্থানীয় টেটা, বল্লম, এককাইট্টা, সুপারির ফলা, তীর, বাঁশের লাঠি, ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা স্থায়ী বন্দুক ও টেটাযুদ্ধে ৩ ব্যক্তি নিহত ও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। আহতদের মধ্যে কিছু লোককে নবীনগর হাসপাতালে এবং কিছু লোককে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে একজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে এবং ২ জন নবীনগর হাসপাতালে নেয়ার পর মারা গেছে। এ ব্যাপারে পাড়াতলী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু নূর জানিয়েছেন, কুমিল্লার কাশিমপুর পীরের মুরিদদের নেতৃত্ব দান করেন আব্দুল ওহাব নামে একজন পুলিশ কনস্টেবল। তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জে কর্মরত রয়েছেন। তবে তারা সরাসরি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছে বলে তা জানা যায়নি। তবে এলাকার মুফতি ওসমানের ব্যক্তিগত চলাফেরা রহস্যজনক। তার সমর্থকদের অনেকেই অস্ত্রধারী। এদের হাতে বিভিন্ন সময় পিস্তল, পাইপগান ইত্যাদি আগ্নেয়াস্ত্র পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া মুফতি ওসমান প্রায়ই তার অনুসারীদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। মুফতি ওসমান স্থানীয় কাশিমপুর মাদরাসার মুহতামিম হলেও তিনি কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় অবস্থান করেন। তবে কি কারণে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন তা জানা যায়নি। তবে এলাকার লোকজনের ধারণা তিনি কোন একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত থাকতে পারেন। ইদানিং তিনি নিজেকে বড় ধরনের একজন নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন। এলাকার সকল শ্রেণীর মানুষই তার ব্যাপারে অনেকটা আশঙ্কিত ও আতঙ্কিত।

এ ব্যাপারে নরসিংদীর পুলিশ সুপার খ. মহিদ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুলিশ ১ জন নিহত হবার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। বাকি ২ জন সম্পর্কে পুলিশ কোন তথ্য পায়নি। স্থানীয়ভাবে প্রভাব প্রতিষ্ঠার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাচারীকান্দী গ্রামের উত্তর পাড়া ও দক্ষিণ পাড়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। মুফতি ওসমান সম্পর্কে পুলিশের কাছে তেমন কোন তথ্য নেই। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত করবে। এ ছাড়া পুলিশ মূল হত্যাকারীসহ এ পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে অর্ধশত লোককে গ্রেফতার করেছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন নরসিংদীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল বারী জানিয়েছেন, মুফতি ওসমান কোনক্রমেই ইসলামী আন্দোলনের সাথে জড়িত নয় এবং চরমোনাই'র পীর সাহেবের মুরিদ হিসেবেও তিনি তাকে চেনেন না।