Quantcast
ঢাকা, সোমবার 30 July 2012, ১৫ শ্রাবণ ১৪১৯, ১০ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৩৩০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

সরকারের টার্গেট ঈদে যাত্রীবাস রাজধানী থেকে কোন মতে পার করা

দেশের ১৮ হাজার কিমি সড়কের ৭০শতাংশই বেহাল দশা চরম ভোগান্তিতে পড়বে ঈদে ঘরমুখো মানুষ

মেরামতের অভাবে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। ছবিটি রাজধানীর শ্যামপুর এলাকা থেকে তোলা -সংগ্রাম

কামাল উদ্দিন সুমন : সারাদেশে বেহাল রাস্তা ঘাটের কারণে জনগণের কাহিল দশা। চরম দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করতে হয় ভঙ্গুর রাস্তা দিয়ে। এতে করে দুর্ঘটনা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা। আর আসন্ন ঈদে এবার ঘরমুখো মানুষের দুভোর্গ বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। যদিও সরকারের টার্গেট রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলা এবং বিভাগীয় শহরগামী যাত্রাবাহী বাস কোন মতে রাজধানী  এলাকা পার করা। এজন্য তারা কাজ শুরু করেছে। রাজধানী থেকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে বের হওয়ারও পথ নির্ধারণ করে দিয়েছে যোগাযোগা মন্ত্রনণালয়। সূত্র মতে রাজধানীতে ট্রাফিকের চারটি ডিভিশন রয়েছে। আর এ চারটি ডিভিশনকে রাস্তায় চলাচলকারী প্রায় সাড়ে ছয় লাখ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয় আর রাজধানী জুড়ে ৩হাজার কিমি এলাকার ৪ টি ট্রাফিক বিট ছাড়া ও সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ পোষাকে কয়েক শ লোক। যারা রাজধানী থেকে যানবাহন বের হতে সহায়তা করবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এবং জেলা ও বিভাগীয় শহরের রাস্তাঘাট মেরামত না করায় ঘরমুখী মানুষকে পড়তে হবে চরম ভোগান্তিতে।

সরকারের বিগত সাড়ে তিন বছরে অধিকাংশ সড়ক মেরামত করার উদ্যোগ না নেয়ায়  ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শুধু নয় দেশের মহাসড়কের বেহালদশা। এসব সড়কে যাতায়াতকারী লোকজনের সীমাহীন দুর্ভোগ আর নিদারুণ কষ্টের শেষ নেই। বেহাল সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে  কষ্টে পড়া মানুষ অসহায়। বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন নিদারুণ কষ্টে যাতায়াত করে। এদিকে  গত বছরের ১৭ আগস্ট মহাসড়ক সংস্কারের জন্য পাঁচ শর্তযুক্ত ৬৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। আর এরই মধ্যে আবুল হোসেনের স্থলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি কিছু কাজ শুরু করেছেন বলে জানা যায়। তবে বেহাল রাস্তা ঘাটের খোঁজ  নিয়ে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) অধীন জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক ১৮ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সড়কের দশা বেহাল ও ত্রুটিপূর্ণ। 

বুয়েটের হিসাব মতে দেশের ১১৮০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মহাসড়কের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্পট হচ্ছে ২০৯টি। তার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩৮টি, ঢাকা-খুলনা রোডে ৩৮ টি, বাকিগুলো ঢাকা-সিলেট ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন মহাসড়কে।এছাড়া দেশের ৬৭টি জেলার প্রায় সড়ক চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। বেহাল রাস্তা ঘাটের কারণে যেমন বাড়ছে সীমাহীন দুর্ভোগ তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনা।

সরকারি হিসাবে  গত দেড় দশকে সাড়ে ৭০ হাজার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।  আহত হয়েছে আরও অর্ধলক্ষাধিক। এর মধ্যে ২০০০ থেকে ২০১২ সালের এ সময় পর্যন্ত সারাদেশে ৫০ হাজার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৩৮ হাজার লোক। আহত হয়েছে আরও ৩৫ হাজার। সরকারি হিসাবে বছরে গড়ে তিন হাজারের বেশি লোক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। তবে বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ১২ থেকে ২০ হাজার। বেসরকারি হিসাবে এ বছরের গত সাড়ে সাত মাসে দু'হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। মহাসড়কের ৩০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১০০ কিলোমিটারের অবস্থাই বেহাল। মাইলের পর মাইল হাজার-হাজার খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। চিহ্নিত হয়েছে মহা-দুর্দশাপূর্ণ ২৫টি স্থান। অতীতে সড়কপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে যেখানে সাড়ে ৫-৬ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হতো বর্তমানে সেখানে ১২-১৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোন কারণে সড়ক বন্ধ থাকলে ২০-২২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। সড়কটির এমন নাজুক অবস্থা ২০ বছরে আর কখনো হয়নি। সড়কের এ বেহাল অবস্থার কারণে সড়কের ওপর একটি যান বিকল হলে শত শত যান আটকা পড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কমপক্ষে ২৫টি স্পট যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বারৈয়ারহাট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রয়েছে ১৮টি স্পট। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বর্তমান বেহাল অবস্থা সম্পর্কে সড়ক ও জনপথের একজন কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টির মধ্যে সড়কের পলেস্তারা খসে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হলেও এ মুহূর্তে সংস্কারের কোন উপায় নেই। তাই সড়ক সচল রাখতে ইট-বালি দিয়ে খানাখন্দ ভরাট করা হচ্ছে। টঙ্গীর মিলগেট থেকে ময়মনসিংহের ভালুকা পর্যন্ত রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এ দূরত্বের মধ্যে এখন পিচঢালা পথ পাওয়া যাবে সব মিলিয়ে মাত্র ২০ কিলোমিটারের মতো।  ওই সব অংশে সমতল মাটির দেখাও মিলবে না। সেখানে আছে কেবল গর্ত, পানি আর কাদা। মহাসড়কের দুই পাশের দোকানপাট এবং শিল্প-কারখানাগুলোর ভিত্তির উচ্চতা রাস্তার উচ্চতার চেয়ে বেশি। তাই পানি নিষ্কাশনের উপায় নেই, না থাকায় রাস্তায় বেহাল দশা সৃষ্টি হয়ে থাকে।