|
|
এলডিপি'র ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া
গতকাল রোববার স্থানীয় একটি হোটেলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির উদ্যোগে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য পেশ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে ঈদের পর পরই কঠোর আন্দোলন করার ঘোষণা দিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল রোববার জোটের অন্যতম শরীক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) এক ইফতার পার্টিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
খালেদা জিয়া বলেন, অন্যায়-জুলুম-অবিচারের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষার জন্য আমরা ১৮ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে ঈদের পর সংগ্রাম করব। আমাদের পক্ষেই দেশের মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব। এজন্য নিজ নিজ দলকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে এলডিপি'র সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদের আয়োজনে এই ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথি ছিলেন খালেদা জিয়া। এতে জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। ইফতার শুরুর আগে দেশের সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মঞ্চে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে এলডিপি'র সভাপতি অলি আহমেদ, মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি একই টেবিলে বসে ইফতার করেন।
ইফতারপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আরো বলেন, বর্তমানে জুলম-নির্যাতন-অবিচারের বিরুদ্ধে আমরাই বিজয়ী হতে পারব। কারণ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আমরা সফলকাম হয়েছি। গণমাধ্যমে স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে সাবেক তিনবারের এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। ক্ষমতাসীনদের হাতে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হচ্ছে। গত সাড়ে তিন বছরে ১৪ জন সাংবাদিক হত্যা হয়েছে। এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাই দেশ রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের আজ ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
এর আগে অলি আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে ফেলেছে। এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তাই এই রোজায় সবাইকে শপথ নিতে হবে। ঈদের পর আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করব।
ইফতার পার্টিতে জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমীর এ কে এম নাজির আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মজিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান মিঞা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি খন্দকার গোলাম মুর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মুসলিম লীগের নির্বাহী সভাপতি এ এইচ এম কামারুজ্জামান খান, পিপলস পার্টির সভাপতি গরীব নেওয়াজ প্রমুখ অংশ নেন।
এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে জে (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ড. আবদুল মঈন খান, কেন্দ্রীয় নেতা এম মোরশেদ খান, বেগম রাজিয়া ফয়েজ, বেগম সেলিমা রহমান, ড. ওসমান ফারুক, মাহমুদুল হাসান, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জেড মোহাম্মদ আলী, আবদুল মান্নান, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, অধ্যাপক এম এ মান্নান, শামসুজ্জামান দুদু, এডভোকেট আহমেদ আজম খান, বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, মোহাম্মদ শাহজাহান, আ ন হ এহছানুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিরিন সুলতানা, নাসের রহমান, রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম প্রমুখ ইফতারে অংশ নেন।
ইফতারে এলডিপি'র সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মামদুদুর রহমান চৌধুরী, আবদুল গনি আববাসী, আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ নেতাও ছিলেন।

