Quantcast
ঢাকা, সোমবার 30 July 2012, ১৫ শ্রাবণ ১৪১৯, ১০ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৫১৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

মোবাইল বোমা তৈরির বিশেষজ্ঞসহ গ্রেফতার ৩ \ চার দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার : মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রিত বোমা তৈরির বিশেষজ্ঞসহ তিন বোমাবাজকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়া ও ভাষানটেকের মাটিকাটা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- সোহরাব হোসেন উজ্জল (২৭), খন্দকার এনামুল হক মিতুল (২৭) ও এস এম আবু হোসাইন সারওয়ার (৩২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রিত বোমা ও ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে মিন্টো রোডস্থ ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় ডিবি পুলিশের পক্ষ হতে দাবি করা হয় গ্রেফতারকৃত তিনজনই বোমা তৈরির কাজে জড়িত। তাদের মধ্যে সারওয়ার বোমা তৈরিতে বিশেষজ্ঞ। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন তথ্য জানান ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পশ্চিম মশিউর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (এসি) বাকি বিল্লাহ ও ইন্সপেক্টর প্রলয় কুমার।

গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নারী কর্মী আয়েশা সিদ্দীকা তার হাতব্যাগে থাকা বোমার বিস্ফোরণে আহত হন। এক সহকর্মী মোড়কে ভরে বোমাটি তার ব্যাগে দিয়েছিল। পুলিশ ওই দিনই আয়েশার সহকর্মী জুবায়ের আহমেদকে গ্রেফতার করে, যিনি বোমাটি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এছাড়া নুরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়। প্রেমের সম্পর্ক ভেস্তে যাওয়ায় জুবায়ের আয়েশাকে শিক্ষা দিতে বোমাটি দিয়েছিল বলে জুবায়ের স্বীকার করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, নুরুল ইসলামের মাধ্যমে তিনি ২০ হাজার টাকায় ওই বোমাটি কেনেন।

বোমা বিশেষজ্ঞ আবু হোসাইন সারওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে ইলেকট্রিকের কাজ করি। কাজের এক পর্যায়ে আমি চিন্তা করি মোবাইল ফোনের ভাইব্রেশন কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিভাইস দিয়ে বোমা তৈরি সম্ভব। এই চিন্তা থেকে আমি এই বোমা তৈরি করার কাজ শুরু করি। দীর্ঘ কয়েকমাস চেষ্টার পর আমি সেটি রপ্ত করি। সারওয়ার সাংবাদিকদের জানান, পথমে একটি কোটায় দিয়াশলাইয়ের বারুদ, কাঁচের গুড়াসহ আরও কিছু মিলিয়ে একটি ডিভাইস তৈরি করি। এরপর মোবাইল ফোন ভাইব্রেশন তারের সঙ্গে অন্য একটি তার লাগিয়ে ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করি। এরপর ওই মোবাইলের সিম নম্বরে রিং দিলেই সঙ্গে সঙ্গে সেটি বিস্ফোরিত হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কার্যকারিতা অনুসারে তার মধ্যে বারুদ দিলে এক সঙ্গে অনেক মানুষ মারা সম্ভব এই বোমা দিয়ে। এর আগে আমি পরীক্ষামূলক এই বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছি। তবে হত্যার উদ্দেশে এটিই প্রথম। এই বোমাটি বানাতে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ হবে বলে সে জানায়।

উপ-কমিশনার মশিউর রহমান জানান, পুরো ঘটনাটিই পরিকল্পিত। আয়েশা সিদ্দীকাকে বোমা মেরে হত্যার পুরো রহস্যই এখন উদঘাটিত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আরও চারদিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ বলছে, তিন লাখ টাকায় আয়েশা সিদ্দীকাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। আর মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রিত বোমা তৈরির ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। প্রধান করিগর গ্রেফতার হওয়ায় এটি আর প্রসার লাভ করবে না। তাদের চার দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন আদালতে চালান দেয়া হয়েছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান জানান, রাজধানীর আগারগাঁও পিকেএসএফ ভবনের সামনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সহকারী প্রোগ্রামার আয়েশা সিদ্দীকার সঙ্গে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগে রক্ষিত মোবাইল নিয়ন্ত্রিত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা হয়, যার নম্বর ২৭।