|
|
রমযান
মিয়া হোসেন : পবিত্র রমযানের প্রথম অংশের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে আজ। আজকের ইফতারের মাধ্যমে রহমতের দশ দিন শেষ হয়ে যাবে। আগামীকাল থেকে শুরু হবে মাগফিরাতের অংশ। রহমতের দশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল ঠিকই। কিন্তু আমরা আল্লাহর কাছ থেকে কতটুকু রহমত পেয়েছি। তার হিসাব-নিকাশ করে মাগফিরাতের দশদিনে আল্লাহর কাছ থেকে জীবনের সকল পাপ থেকে মাফ পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
আল্লাহতাআলা রোযার আদেশ দেবার পর বলেছেন ‘লাআল্লাকুম তাত্তাকুন' অর্থাৎ সম্ভবত তোমরা তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করবে। রোযা হতে যে সুফল লাভ করা যায় তা রোযার উদ্দেশ অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। শুধু পানাহার, কামাচার থেকে বিরত থাকলেই উদ্দেশ্য সফল হবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ইন্নামাল আ'মালু বিন্নিয়্যাত অর্থাৎ সকল কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। তাই যে ব্যক্তি রোযার উদ্দেশ জেনে নেবে, ভাল করে বুঝে নেবে আর তা দ্বারা মূল উদ্দেশ হাসিলের চেষ্টা করবে সে তো সফলকাম হবে। কিন্তু যে এটার উদ্দেশ জানবে না এবং তা হাসিলের চেষ্টা করবে না, রোযা দ্বারা তার কোন উপকার হবার আশা করা যায় না। তাই রোযার মূল উদ্দেশকে ভালভাবে উপলব্ধি করতে হবে এবং তা হাসিলের যথার্থ চেষ্টা করতে হবে।
আল কুরআনে বর্ণিত ‘তাত্তাকুন' শব্দটি ‘ওয়াকয়ুন’’ মূলধাতু থেকে গৃহীত হয়েছে। এর অর্থ বেঁচে থাকা। এর আরেকটি অর্থ ভয় করা। যেমন আয়াতে এসেছে ‘ওয়াত্তাকুল্লাহ' অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করো। ‘ওয়াত্তাকুন্নার' জাহান্নামের আগুনকে ভয় করো। তাকওয়া হলো গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকা। যেহেতু এগুলো প্রত্যেকটি ভয়ের বিষয়। যদি রোযা রাখার পরও গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকতে না পারে তাহলে সে রোযা হবে অন্তঃসারশূন্য রোযা। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তি অহেতুক ও মিথ্যা কথা, কাজ থেকে বিরত থাকতে পারলো না তার পানাহার ও কামাচার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। তাই রোযা রেখে তাকওয়ার মহান গুণাবলী অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে। নিজের চক্ষু, কর্ণ, জবান, পেট ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে হারাম খাওয়া, হারাম দেখা, হারাম শোনা এবং হারাম বলা ইত্যাদি থেকে নিজেকে হেফাজত করতে হবে। মূলত শুধু গুনাহের কার্যাবলী থেকে বেঁচে থাকার নাম তাওকয়া নয় বরং গুনাহের যাবতীয় কাজ বর্জন করে নেক আমলসমূহ কার্যকর করাই হল বাস্তবে তাকওয়া।

