|
|
প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন
সংগ্রাম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিবিসি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়নের ব্যাপারে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। বারবার তাগিদ দেয়ার পরও তারা এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেয়নি। গতকাল সোমবার সাক্ষাৎকারটি বিবিসিতে প্রচারিত হয়। লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৫ দিনের বৃটেন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে এই সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারে পদ্মা সেতু দুর্নীতি ও মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ, গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মানবাধিকার, র্যাবের কর্মকান্ড, সংবিধান সংশোধন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও এ ব্যাপারে কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি। তাদের কাছে এ জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ দিতে নিজেও বিশ্বব্যাংককে তাগাদা দিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আবুল হোসেনের পদত্যাগকে ‘সাহসী' সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই তদন্ত নির্বিঘ্ন করতে আবুল হোসেন পদত্যাগ করেছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ র্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালে বিএনপি সরকার র্যাব প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমান সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের চেষ্টা করছে। তবে রাতারাতি এটা বন্ধ করা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘রক্তচোষা' বলেছেন কেন-বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে এ কথা বলেননি। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধানকে ৬০ বছর বয়সে সরে যেতে হয়। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বয়স ৭০-৭১ বছর। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ৩০-৪০ শতাংশ সুদ নেয় বলে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করতে পারেননি। বরং তার সরকারই (মহাজোট সরকার) ১০ শতাংশ দারিদ্র্য কমিয়েছে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পথ বন্ধ করতে সরকার সংবিধান সংশোধন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী আল জাজিরাকেও একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

