|
|
মাওলানা সঈদীর মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অব্যাহত
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশ্ববরেণ্য মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনিত ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের জেরা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তাকে বেলা পৌনে ২টা থেকে সোয়া ৩টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা জেরা করা হয়। মামলার তদন্তকালে তিনি যে কেস ডকেট তৈরি করেন তাতে সাক্ষীদের দেয়া জবানবন্দীসহ অন্যান্য তথ্য রয়েছে। কেস ডকেটে লিখিত তথ্য থেকে তিনি এডভোকেট মিজানুল ইসলামের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব প্রদানকালে জানান, পারেরহাটে আর্মি এসেছিল ৭ই মে ১৯৭১ তারিখে। চিথলিয়া গ্রামে মানিক পসারীর বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয় ৮ই মে তারিখে। আরেক সাক্ষীর জবানবন্দী থেকে তিনি বলেছেন, চিথলিয়ায় মানিক পসারীর বাড়িতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগের কয়েক দিন আগে পারেরহাট বাজারে ৩০/৩৫টি দোকান লুট হয়। এতে দেখা যায় নিজের দেয়া তথ্যেই রয়েছে অসঙ্গতি। এই তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ৮ মে'র কয়েক দিন আগে যদি পারেরহাট বাজারে লুটপাট হয়ে থাকে তাহলে তা ৭ মে'র আগে। অথচ তিনি বলেছেন, পারেরহাট বাজার লুট হয়েছিল ৭ই মে পাকিস্তান আর্মি আসার পর। তাহলে কোন তথ্যটি সঠিক সেটা পর্যালোচনার অবকাশ রাখে।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অনুপস্থিতিতে বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে তার এই বিচার। গুরুতর অসুস্থতার কারণে তাকে কোর্টে আনা সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল জেরায় মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী। আজ বুধবার পুনরায় তার জেরা অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল মঙ্গলবার জেরার উল্লেখযোগ্য অংশ নিচে দেয়া হলো-
প্রশ্ন : অজিত কুমার শীল আপনাদের পছন্দমত সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে আদালতে উপস্থাপন করেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনার কাছে অজিত কুমার শীলের ছেলে কোন অভিযোগ করেনাই।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : সাক্ষী আব্দুল লতিফ হাওলাদারের সাথে সর্বপ্রথম কবে আপনার সাক্ষাৎ হয়।
উত্তর : ১/৮/২০১০ তারিখ পারেরহাট রাজলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয়ে।
প্রশ্ন : ঐ দিন তার জবানবন্দী রেকর্ড করেছিলেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আব্দুল লতিফ হাওলাদারকে রাজলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয়ে হাজির করার জন্য কোনো নোটিশ দিয়েছিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : মাহবুবুল আলম হাওলাদার তদন্ত সংস্থার যে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন তাতে আব্দুল লতিফ হাওলাদারের নাম সাক্ষী হিসেবে ছিল না।
উত্তর : জি, ছিল না।
প্রশ্ন : তিনি আপনার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন তাতে পারেরহাটের আওয়ামী লীগের কোন নেতার নাম বলেননি।
উত্তর : জি, বলেননি।
প্রশ্ন : তদন্তকালে আপনি আব্দুল লতিফ হাওলাদারের বাড়ি যাননি।
উত্তর : জি, যাইনি।
প্রশ্ন : তদন্ত শেষে গিয়েছিলেন?
উত্তর : গিয়েছি।
প্রশ্ন : চিথলিয়া গ্রামে পাকিস্তান আর্মি কত তারিখে গিয়েছিল?
উত্তর : ৮ই মে '৭১ তারিখে একবারই গিয়েছিল।
প্রশ্ন : তার কয়েক দিন আগে পারেরহাট বাজারে ৩০/৩৫টি দোকান লুটের কথা আছে।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : পারেরহাট এলাকায় পাকিস্তান আর্মি কত তারিখে প্রথম যায় বলে আপনি তদন্তে পেয়েছেন?
উত্তর : ৭ই মে।
প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে মানিক পসারীর বাড়িতে ক'টি ঘর পোড়নো হয়েছিল?
উত্তর : ৫/৬টি ঘর।
প্রশ্ন : আব্দুল লতিফ হাওলাদারের বাড়িতে আপনি সমন নিয়ে কবে যান?
উত্তর : তারিখ নোটে নেই।
প্রশ্ন : লতিফ হাওলাদারের বাড়িতে যাওয়ার সময় আপনার সাথে কে ছিল?
উত্তর : মাহবুবুল আলম হাওলাদার।
প্রশ্ন : বাড়িতে যেয়ে কাকে পেলেন?
উত্তর : উনার স্ত্রীকে পেয়েছিলাম।
প্রশ্ন : উনার স্ত্রীর কথাবার্তার অডিও বা ভিডিও আপনি রেকর্ড করেননি।
উত্তর : জি, না।
প্রশ্ন : লতিফ হাওলাদারের ছেলে-মেয়ে বা নাতি-নাতনি ক'জন?
উত্তর : আমি জিজ্ঞাসাবাদ করি নাই।
প্রশ্ন : আপনি তার ঘরের ভেতরে গিয়েছিলেন?
উত্তর : না, বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।
প্রশ্ন : ঐখানে কতক্ষণ ছিলেন?
উত্তর : অনুমান আধা ঘণ্টা।
প্রশ্ন : অন্য কোন ব্যক্তির সাথে এ সময় দেখা হয়নি?
উত্তর : আশপাশের লোকের সাথে দেখা হয়েছে, তাদের নাম খেয়াল নেই।
প্রশ্ন : তাদেরকে আব্দুল লতিফ হাওলাদারের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : আব্দুল লতিফ হাওলাদার সম্পর্কে কোন তথ্যই তারা দেয়নি।
উত্তর : সত্য নয়। তারা আমাকে বলেছে যে, মাঝে মধ্যে লতিফ হাওলাদারকে বাড়িতে দেখা যায়।
প্রশ্ন : আব্দুল লতিফ হাওলাদারের অবস্থান সনাক্ত করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে কোন নির্দেশ দিয়েছিলেন?
উত্তর : দিয়েছিলাম।
প্রশ্ন : পুলিশ কবে কি রিপোর্ট দেয়?
উত্তর : পুলিশ জানায় যে, তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তারিখ মনে নেই।
প্রশ্ন : প্রসিকিউশনের রিপোর্ট দাখিলের সময় পুলিশের যে ব্যক্তি আপনাকে রিপোর্ট দিতেন তিনি থানায় কি রিপোর্ট দিয়েছিলেন। সেই রিপোর্ট দেখেছিলেন?
উত্তর : ঐ রিপোর্ট আমি তলব করি নাই।
প্রশ্ন : লতিফ হাওলাদারের বাড়িতে আপনি মোট কতবার গিয়েছিলেন?
উত্তর : ২ বার গিয়েছি। তারিখ মনে নেই।
প্রশ্ন : দ্বিতীয় বার যখন যান তখন কি মাহবুব আলম হাওলাদার দিলেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : দ্বিতীয় বার কে সাথে ছিলেন?
উত্তর : এস আই আব্দুল মালেক খান।
প্রশ্ন : দ্বিতীয়বার গেলে তার স্ত্রী ছাড়া কাউকে পাননি।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : তার বাড়িতে ক'টি ঘর?
উত্তর : ২টি।
প্রশ্ন : তিনি আপনাকে দ্বিতীয় দিন বলেছিলেন যে, তার স্বামী বাড়িতে নেই।
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : এই উত্তর পাওয়ার পর আপনি তার বাড়ি থেকে চলে আসেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : দ্বিতীয়বার লোকজন আপনার পরিচয় দেয়নি?
উত্তর : তারা নিজেরাই চিনে ফেলে।
প্রশ্ন : প্রথমবার যাদের সাথে দেখা হয় তারা কি দ্বিতীয়বারও ছিল?
উত্তর : কেউ কেউ ছিল।
প্রশ্ন : তাদের কাছে আব্দুল লতিফ হাওলাদারের সন্ধান চেয়েছিলেন?
উত্তর : জি।
প্রশ্ন : দ্বিতীয় দিন ক'টার সময় তার বাড়িতে যান?
উত্তর : মনে নেই।
প্রশ্ন : তার পেশা কি?
উত্তর : কৃষি কাজ করে।
প্রশ্ন : উনার ক্ষেত-খামার কোথায়?
উত্তর : আলাদাভাবে খোঁজ খবর নেইনি।
প্রশ্ন : তাকে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে ট্রাইব্যুনালে রিপোর্ট দাখিলের পর তার কোন খোঁজ খবর নিয়েছেন?
উত্তর : পরে আর কিছু জানি না।
প্রশ্ন : আব্দুল লতিফ হাওলাদারকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আপনি প্রসিকিউশনের কাছে হাজির করেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি এবং প্রসিকিউশন আব্দুল লতিফ হাওলাদারকে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : প্রসিকিউশনের শেখানো মতে সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় আব্দুল লতিফ হাওলাদারকে আদালতে উপস্থাপন করেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি ছাড়া প্রত্যেক সাক্ষীকে হাজির করার জন্য প্রসিকিউশন থেকে সমন নিয়েছেন আপনি।
উত্তর : কয়েকজনকে সমন ছাড়াই প্রসিকিউশনের কাছে হাজির করেছি। কারণ সমন দেয়া সাক্ষীদের তখন পাওয়া যাচ্ছিল না।
প্রশ্ন : যশোরের কতজন সাক্ষীর প্রতি সমন জারি করে আপনার নিকট দেয়া হয়েছিল?
উত্তর : খেয়াল নেই।
প্রশ্ন : যশোরের কতজন সাক্ষীকে হাজির করার জন্য আপনি প্রসিকউশনের কাছে এনে দিয়েছিলেন?
উত্তর : ৩ জন।
প্রশ্ন : ঢাকার কতজন সাক্ষীকে হাজির করার জন্য প্রসেস আপনার কাছে প্রসিকিউশন দিয়েছিলেন?
উত্তর : খেয়াল নেই।
প্রশ্ন : ঢাকার কতজন সাক্ষীকে হাজির করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আপনি তাদের কাছে গিয়েছিলেন? তাদের নাম বলুন।
উত্তর : ৭ জনের কাছে যাই। তারা হলেন- ১. রবিউল আনাম, ২. ফাতেমা বেগম, ৩. মোহাম্মদ নাসের, ৪. এজাব উদ্দিন, ৫. সৈয়দ মাসুমুল কবির, ৬. মোবারক হোসেন, ৭. আবেদ খান।
প্রশ্ন : আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদেরকে আপনি লিখিত আদেশ দিয়েছিলেন কিনা?
উত্তর : আমি কোন লিখিত আদেশ দেইনি। আদালতের সমন জানিয়েছি।

