|
|
কামারুজ্জামানের মামলায় সাক্ষীর জেরা চলছে
0পাঁচ বিয়ে করেছেন এক ছেলে ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী
0 ভাইবোনের সম্পদ আত্মসাতকারী প্রতারণামূলক ও নীতিহীন কাজে জড়িত
স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী মনোয়ার হোসেন খান ওরফে মোহন মুন্সীর জেরা অব্যাহত রয়েছে। ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ অনুষ্ঠিত শুনানিতে সারাদিন তাকে জেরা করেন। আজ বুধবার জেরার বাকি অংশ অনুষ্ঠিত হবে। জেরাতে তথ্য প্রকাশ হয়-সাক্ষী মোহন মুন্সী প্রথম স্ত্রীকে দু'বার বিয়ে করেছেন এবং এ পর্যন্ত পাঁচটি বিয়ে করেছেন। তিনজন মারা গেছে, দুজন স্ত্রী জীবিত। মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়ার সুবাদে তার ছেলে নাসিমের শেরপুর জেলার রাজস্ব অফিসে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর চাকরি পেয়েছেন। জাল দলিলের মাধ্যমে ভাইবোনদের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার বোনেরা আদালতে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রতারণামূলক ও নীতিহীন কাজের কারণে ভাই-বোনদের সঙ্গে বর্তমানে তার সম্পর্ক ছিন্ন রয়েছে। তার এক ছেলে ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে এলকায় মাদক ব্যবসায় জড়িত। ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা রয়েছে। এ মামলায় তার ছেলে ইব্রাহীমকে জেলেও যেতে হয়েছিলো।
দ্বিতীয় সাক্ষী মনোয়ার হোসেন খান ওরফে মোহন মুন্সীকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা :
প্রশ্ন : গাছের কথা বলেছিলেন, কি গাছ বিক্রি করেছিলেন?
উত্তর : একটা কাঁঠাল গাছ, দু'টি আম গাছ।
প্রশ্ন : যে গাছ বিক্রি করেছিলেন কতো মণ খড়ি হয়েছিলো?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : কোন সময়ে গাছ লাগানো হয়েছিলো জানেন?
উত্তর : নানার আমলে।
প্রশ্ন : আপনি বলেছিলেন গাছ ২৫০ টাকায়, স্বর্ণ বিক্রি করেছিলেন ২শ টাকায় এগুলো বিক্রি করেছেন। আপনি অসত্য বলেছেন। কারণ ওই সময় স্বর্ণের ভরি ছিলো ১২০ টাকা, কাঠের মণ ছিলো ২ টাকা।
উত্তর : আমি অসত্য বলিনি। রাগান্বিত হয়ে আপনি (জেরাকারী আইনজীবী) কি আমার সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন?
প্রশ্ন : আপনি বলেছেন নানার দোকানে চাকরি করতেন, বেতন কতো ছিলো?
উত্তর : বেতন পাবো কীভাবে। কোনো বেতন নিতাম না। কারণ আমরাই মালিক ছিলাম।
প্রশ্ন : জবানবন্দীতে বলেছেন কামারুজ্জামান সাহেব মাইকে ঘোষণা দিয়েছিলেন রাজাকার নিয়োগের।
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : টাঙ্গারপাড়া ও বেলুয়া কোন থানায়?
উত্তর : শ্রীবর্দী থানায়।
প্রশ্ন : এসব জায়গা আপনার বাড়ি থেকে কতো দূরে?
উত্তর : ১০ মাইল দূরে।
প্রশ্ন : স্বাধীনতার সময় সেখানে যাওয়ার কি ব্যবস্থা ছিলো?
উত্তর : সাইকেল চালিয়ে গেছি।
প্রশ্ন : কতোবার গেছেন?
উত্তর : একবার গেছি।
প্রশ্ন : সেখানকার মুজিবরকে চেনেন? তিনি কোন ব্যাংকে চাকরি করতেন?
উত্তর : সে সময় সোনালী ব্যাংকে চাকরি করতেন। পরে অগ্রণী ব্যাংকে চাকরি করেন। এপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল আপত্তি জানিয়ে বলেন, ওই সময় সোনালী ব্যাংক ছিলো কীভাবে।
প্রশ্ন : তিনি কি আপনার আত্মীয় হন?
উত্তর : না আমার আত্মীয় নন।
প্রশ্ন : শেরপুরে তখন সদর হাসপাতাল ছিলো?
উত্তর : ছিলো।
প্রশ্ন : চিকিৎসক (ডাক্তার) কে ছিলো?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : আপনি বলেছেন হাসপাতালে ছিলেন।
উত্তর : আর্মিরা নিয়ে গেছে। আমার গ্যাস্ট্রিক আলসার হয়েছিলো।
প্রশ্ন : '৭১ সালে সদর হাসপাতাল নামে কিছু ছিলো না। পরিবার পরিকল্পনা অফিস ছিলো।
উত্তর : এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : কামারুজ্জামান সাহেব যখন দোতলায় মিটিং করতেন তখন আপনি কি করতেন?
উত্তর : আমি সিঁড়ির নীচে থাকতাম।
প্রশ্ন : আপনি বলেছেন, হান্নান প্রিন্সিপালকে মাথা মুড়িয়ে চুনকালী মাখানো হয়েছে। তার মাথা যে ন্যাড়া করেছে তার নাম জানেন?
উত্তর : নাপিত করেনি। মোমিন নামে এক লোক করেছে। তার বাবার নাম বোচা মিয়া, গরু চুরি করতো।
প্রশ্ন : হান্নান প্রিন্সিপাল ও তার স্ত্রী বেঁচে আছেন?
উত্তর : জীবিত আছেন। শেরপুর শহরে থাকেন।
প্রশ্ন : তাদের চেনেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : তাদের এক ছেলে চিকিৎসক আরেকজন ইঞ্জিনিয়ার।
উত্তর : তাদের কে কী করে বলতে পারবো না। একজন চিকিৎসক আরেকজন ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে।
প্রশ্ন : আপনি বলেছেন পাকিস্তান আর্মিদের সঙ্গে কামারুজ্জামান উর্দুতে কথা বলতেন (একটি উর্দু বাক্য পড়ে শুনিয়ে বলা হয়)।
উত্তর : পাকিস্তানি আর্মিরা উর্দুতে কথা বলতো। আমরা বুঝতে পারতাম না। তাদের ইংরেজিতে কথা বলতে শুনানি।
প্রশ্ন : উর্দু বাক্য শুনানি বলা হয় এটা বোঝেন?
উত্তর : বলতো পারবো না।
প্রশ্ন : আসকার ডাক্তারকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছিলো। কতদিন পরে ধরে নিয়ে আসা হয়?
উত্তর : হান্নান প্রিন্সিপালকে ধরে আনার দু'দিন পরে আসকার ডাক্তারতে ধরে আনা হয়।
প্রশ্ন : আসকার ডাক্তার ও তার পরিবার কী শেরপুর শহরে থাকে?
উত্তর : শেরপুরেও থাকে ঢাকায়ও থাকে।
প্রশ্ন : শেরপুরে কি তাদের আর কোনো ঠিকানা আছে?
উত্তর : পুরান গরু হাটি ও এগ্রিকালচার কলেজের পাশে আছে।
প্রশ্ন : আসকার ডাক্তারের মূল বাড়ি কোন থানায়?
উত্তর : আসকার ডাক্তার শ্রীবর্দীর লোক নন, শেরপুরের লোক।
প্রশ্ন : তার বাড়ি শ্রীবর্দী থানার কালীবাড়ি গ্রামে।
উত্তর : ময়মনসিংহে।
প্রশ্ন : কখনো কামারুজ্জামান স্যারের বাড়ি গেছেন?
উত্তর : কখনো যাইনি।
প্রশ্ন : উনার বাড়ির নাম জানেন?
উত্তর : আমি জানি কড়ইতলা, পৌরসভার মধ্যে। পরে আবার বলেন, পৌরসভার মধ্যে কি না আমার জানা নেই।
প্রশ্ন : কুমরী মুদিপাড়া যা পৌরসভা থেকে ৫/৬ কি. মি. দূরে এটা গোপন করার জন্য অসত্য কথা বলেছেন।
উত্তর : আমাকে বার বার মিথ্য বাদী বলবেন না। এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : খরখরিয়ার গোলাম মোস্তফাকে চেনেন?
উত্তর : আসকার ডাক্তারকে ধরে আনার কতোদিন পর তাকে ধরে আনা হয়।
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : কোন মাসে, কতো তারিখে বাংলা বা ইংরেজি কতো তারিখে হবে?
উত্তর : ৩৫/৩৬ তারিখ, জানি না।
প্রশ্ন : খরখরিয়ার মানুষদের চেনেন ?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : গোলাম মোস্তফার আত্মীয়-স্বজনকে চেনেন?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : রিটায়ার্ড আর্মি নাসিরের কথা বলেছেন, তার বয়স কতো ছিলো?
উত্তর : ৫৫ বছর।
প্রশ্ন : তিনি কোন গ্রামের?
উত্তর : খড়মপুরের মানুষ।
প্রশ্ন : নাসির বাঙ্গালি না অবাঙ্গালি?
উত্তর : বাঙ্গালি।
প্রশ্ন : নকলা শেরপুর থেকে কতো দূর?
উত্তর : ১০/১২ মাইল দূরে।
প্রশ্ন : নুরুলদি কোন থানায়?
উত্তর : জামালপুর থানায়।
প্রশ্ন : আপনি এসব জায়গায় গেছেন?
উত্তর : আমি যাইনি।
প্রশ্ন : সুশীলের কথা বলেছেন, তার আত্মীয়-স্বজনকে চেনেন?
উত্তর : পরিচয় ছিলো না। ক্যাম্পে দেখা হয়েছে।
প্রশ্ন : মুসলমান বানাইতে দেখেছেন?
উত্তর : আমার স্যার (কামারুজ্জামান) সুশীলকে মুসলমান বানিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যান।
প্রশ্ন : আপনি ক্যাম্পে ছিলেন?
উত্তর : একই ক্যাম্পে ছিলাম।
প্রশ্ন : সুশীল ক্যাম্পে কতোদিন ছিলো?
উত্তর : ৭/৮ দিন ছিলো।
প্রশ্ন : তাকে কবে মুসলমান বানান?
উত্তর : কোন সালে কোন মাসে মনে নেই।
প্রশ্ন : প্রিন্সিপাল হান্নান ও আসকারকে, গোলাম মোস্তফাকে ধরে আনার ঘটনার কয়দিন পর সুশীলকে মুসলমান করা হয়?
উত্তর : ৮/১০ দিন পর।
প্রশ্ন : সুশীল নাম কাল্পনিক ঘটনা। আসলে এ ধরনের কোনো ব্যক্তি নাই। এটা অসত্য?
উত্তর : এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : মোল্লাপাড়া আপনাদের বাড়ি থেকে কত দূরে?
উত্তর : দেড় কি. মি. দূরে।
প্রশ্ন : মোল্লা পাড়ার কাজলকে চেনেন?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজনকে চেনেন?
উত্তর : মা বাবা নাই। জেঠাতো ভাই বোন আছে।
প্রশ্ন : কাজলকে কবে ধরে নিয়ে আসে?
উত্তর : মাস তারিখ মনে নাই।
প্রশ্ন : আসকার ডাক্তার, গোলাম মোস্তফার ঘটনার কতদিন পর কাজলকে ধরে নিয়ে আসে?
উত্তর : সুশীলের ঘটনার ২০/২৫ দিন পরে কাজলকে ধরে নিয়ে আসে।
প্রশ্ন : কাজল কোথায় কিভাবে গুলীবিদ্ধ হয়ে মারা যায়?
উত্তর : আমি দেখিনি।
প্রশ্ন : মেজর রিয়াজ কোথায় গুলীবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন?
উত্তর : কামালপুরের যুদ্ধে আহত হয়।
প্রশ্ন : কামালপুর শেরপুর থেকে কতো দূর?
উত্তর : বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : কামালপুর কোন থানায়?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : ঘটনার দিন তারিখ বলতে পারবেন?
উত্তর : বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : দারোয়ান হিসেবে যোগদান বা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়ার আনুমানিক কতদিন পর যুদ্ধ হয়?
উত্তর : আড়াই/তিন মাস পর।
প্রশ্ন : তখন টেলিফোনের ব্যবস্থা কোথায় ছিলো?
উত্তর : সুরেন সাহার বাড়ির ক্যাম্পে আর্মিরা টেলিফোন লাগিয়েছিল।
প্রশ্ন : সুরেন সাহার বাড়ির আশেপাশে ঘরবাড়ি ছিলো?
উত্তর : ছিলো।
প্রশ্ন : সুরেন সাহার বাড়িতে যেখানে ডিউটি করতেন সেখান থেকে রাস্তা দেখা যায়?
উত্তর : রাস্তা দেখা যেতো না।
প্রশ্ন : ওই সময় একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি কতো ছিল?
উত্তর : দেড় টাকা।
প্রশ্ন : জহুরুল মুন্সীকে আগে থেকে চিনতেন?
উত্তর : একদিন দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের সময়।
প্রশ্ন : তার বাড়ি চেনেন?
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : তাকে আটকের সময় জানেন?
উত্তর : দিন মাস তারিখ মনে নাই।
প্রশ্ন : আলবদর ক্যাম্পে যোগদানের কয়দিন পর জহুরুল মুন্সীকে আটক করা হয়?
উত্তর : ৩ মাস পর। একবারই আটক ছিল।
প্রশ্ন : সোহাগপুরে আক্রমণ আপনি ক্যাম্পে যোগদানের কতদিন পরে হয়?
উত্তর : ৩ থেকে সাড়ে তিন মাস পরে সোহাগপুরের ঘটনা ঘটে।
প্রশ্ন : কখনো সেখানে যাননি?
উত্তর : না যাইনি।
প্রশ্ন : সোহাগপুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা হয়েছে?
উত্তর : দেখা হয়নি।
প্রশ্ন : আলোকপাড়া আপনার এলাকা থেকে কত দূরে?
উত্তর : শেরপুর থানার মধ্যেই।
প্রশ্ন : ওই এলাকার কাসেম সাহেব কি করতেন?
উত্তর : ঘর গৃহস্থালী করতেন।
প্রশ্ন : তার ছেলে, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরিচয় আছে?
উত্তর : তার এক ছেলের সঙ্গে পরিচয় আছে। অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরিচয় নেই।
প্রশ্ন : দেশ স্বাধীনের কত দিন পর তার সঙ্গে দেখা হয়েছে?
উত্তর : ৬/৭ মাস পর শেরপুর শহরে দেখা হয়।
প্রশ্ন : কাসেম সাহেবের সঙ্গে সেসব কথা এসব অসত্য বলেছেন?
উত্তর : এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি জবানবন্দীতে অনেক ক্যাম্পের কথা বলেছেন। মিলিটারি ক্যাম্প, রাজাকারের ক্যাম্প, আলবদরের ক্যাম্প কয়টা?
উত্তর : সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ছিলো। যেমন, নয়ানী বাজার, জি কে স্কুল, সিও অফিস ক্যাম্প, জামালপুর ক্যাম্প, ঝগড়ার চর ক্যাম্প।
প্রশ্ন : সেনাবাহিনীর লোকজন তাদের ক্যাম্পে থাকতো?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : সেনাবাহিনীর বদলি নিয়োগ কামারুজ্জামান করতেন?
উত্তর : তিনি আলবদরদের নিয়ন্ত্রণ করতেন।
প্রশ্ন : যারা আলবদর করতো তাদের সকলের পরিচয়পত্র থাকতো?
উত্তর : ছিলো না।
প্রশ্ন : আপনাদের সময় রাজাকারের কমান্ডার কে ছিলো?
উত্তর : জানি না।
প্রশ্ন : আলবদর কমান্ডার কে ছিলো?
উত্তর : আমার স্যার ছিলো।
প্রশ্ন : শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান কে ছিলো?
উত্তর : বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : অস্ত্র-শস্ত্রের পাহারা কে দিতো?
উত্তর : অস্ত্র পাহারার লোক ছিলো। আমি সিঁড়ির নিচে বসে থাকতাম।
প্রশ্ন : রাতে তালাবদ্ধ থাকতো?
উত্তর : হ্যাঁ। নিজে আমি ও অন্যান্যরা থাকতো।
প্রশ্ন : দারোয়ান একজনই ছিলো?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : রান্নাঘরের ব্যবস্থা ছিলো?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : স্বাধীনতার পর কামারুজ্জামানের সাথে কখন দেখা হয়েছে?
উত্তর : বহুদিন পরে। নির্বাচনের সময় দেখা হয়।
প্রশ্ন : '৭১-'৭৫ পর্যন্ত কামারুজ্জামান কি করেছেন জানেন?
উত্তর : জানা নেই। আমার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি।
প্রশ্ন : স্বাধীনতার আগে থেকে কামারুজ্জামান যে কলেজে পড়তেন সে কলেজ থেকে স্বাধীনতার পর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন?
উত্তর : বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : এরপর তিনি ঢাকার একটি কলেজ থেকে বিএ এবং '৭৫ সালে ঢাকার আইডিয়াল কলেজ থেকে এমএ পাস করেন।
উত্তর : জানা নেই। স্বাধীনতার পর কামারুজ্জামান এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করেছেন।
প্রশ্ন : আপনি যেহেতু চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন সে হিসেবে এলাকা থেকে পলাতক হওয়ায় তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয়নি?
উত্তর : অঠিক, ঠিক নয়।
প্রশ্ন : এখন যে সাক্ষ্য দিচ্ছেন এবং ২০ বছর আগে একটা তদন্ত হয়েছিল আপনি তাদের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন?
উত্তর : তদন্ত হয়েছে কি না আমি জানি না। কোনো বক্তব্য দেইনি।
প্রশ্ন : আজকে যে কথা বলছেন এই কথাগুলো প্রথম কোথায় বলেছেন?
উত্তর : আমি ডিসি অফিসে ২০১০ সালের শেষের দিকে কামারুজ্জামান সাহেব সম্পর্কে কথা বলি।
প্রশ্ন : এরপর এই আদালতে বলছেন?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : বক্তব্য দেয়ার পর স্বাক্ষর করেছেন?
উত্তর : হ্যাঁ স্বাক্ষর করেছি। নাম লেখেছি মোহন, পরে আবার লেখেছে আলবদর মোহন।
প্রশ্ন : তদন্ত সংস্থার লোকজন গেছে?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনার জবানবন্দী ভিডিও রেকর্ড করেছে?
উত্তর : বলতে পারবো না।
প্রশ্ন : আপনার জবানবন্দী নির্জন কক্ষে একাকী লেখা হয়েছে?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : কতজন ছিলো?
উত্তর : দুজন কর্মকর্তা ছিলো। একজন আমার জবানবন্দী টাইপ করেন, অন্যজন জিজ্ঞাসা করেন।
প্রশ্ন : আপনার বড় ভাই যার সঙ্গে কামারুজ্জামান সাহেবের সঙ্গে পরিচয় ছিলো তার বয়স কত?
উত্তর : আমার চেয়ে ৬/৭ বছরের বড়।
প্রশ্ন : আপনার বয়স কত?
উত্তর : ৬০-৬৫ পরে বলেন ৬০ বছর।
প্রশ্ন : বড় ভাই লেখাপড়া করেছেন?
উত্তর : নয় ক্লাস পড়েছেন।
প্রশ্ন : চাকরি করতেন?
উত্তর : রেজিস্ট্রি অফিসে মোহরার ছিল।
প্রশ্ন : আপনার কয় ছেলে মেয়ে?
উত্তর : তিন ছেলে ২ মেয়ে। সবাই বিবাহিত।
প্রশ্ন : লেখাপড়া করেছে?
উত্তর : মেঝ ছেলে নাসিম ৭ ক্লাস পর্যন্ত পড়েছে। অন্যরা পড়েনি।
প্রশ্ন : ছেলেরা কি কাজ করে?
উত্তর : মাসুম পলিশের কাজ করে, ইব্রাহিম দোকানদারী করতো, নাসিম নায়েবদের অফিসে চাকরি করে। ৭/৮ মাস হলো চাকরি করে। চাষবাষের জমি নাই, গরু-ছাগল নাই।
প্রশ্ন : ছেলে নাসিমের পুরো নাম নূরুন্নবী খান নাসিম?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : সাক্ষী হওয়ার পর ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারিখে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শেরপুরের জেলা রাজস্ব বিভাগে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে চাকরি হয়?
উত্তর : সত্য নয়। পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছে।
প্রশ্ন : আপনার ছেলে ইব্রাহিম মাদক ব্যবসায়ী এবং ছিনতাইকারী?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : কয়েকবার জেলও খেটেছে?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : এলাকার নজরুলের মোবাইল ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২০০৭ সালের ১ আগস্ট আপনার ছেলে ও দু' সহযোগীর বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩৯২ ধারায় মামলার হয়। পরে মামলার কারণে জেল হয়?
উত্তর : সত্য নয়। গ্রেফতার হয়নি।
প্রশ্ন : আপনার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় নিউজ হয়েছে?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : মাহবুবুল ইসলাম ময়না আপনার বড় ভাই?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : আপনি জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগে বড় ভাই মাহবুবুল ইসলাম ময়না শেরপুরের সি : সহযোগী জজ আদালতে মামলা করেছে, মামলা নং- ২৭৮/২০০৫। ওই মামলা তাদের সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে করা হয়। যা বিচারাধীন রয়েছে?
উত্তর : এটা সত্য নয়।
প্রশ্ন : মামলায় আপনার বোনেরা সাক্ষ্য দিয়েছেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি ঝাড়-ফুঁ দেন?
উত্তর : আমি ঝাড়-ফুঁ দেই।
প্রশ্ন : যাদের সন্তান হয় না তাদের ফুঁ দেন?
উত্তর : ফুঁ দেই।
প্রশ্ন : আপনার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ প্রতারণার অভিযোগ করেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : এক ডাক্তারের স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, এ কারণে বিচার হয়েছে?
উত্তর : এটা অসত্য।
প্রশ্ন : প্রতারণামূলক ও নীতিহীন কাজের জন্য ভাই-বোনেরা সম্পর্ক ছিন্ন করেছে?
উত্তর : সত্য নয়। কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার কারণে ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। কামারুজ্জামানের সাথে তাদের সম্পর্ক আছে।
প্রশ্ন : আপনার কয় বিয়ে?
উত্তর : আমি পাঁচটি বিয়ে করেছি।
প্রশ্ন : প্রথমে ময়নাকে বিয়ে করলে শ্বশুর রাজি না হওয়ায় পরে আবার বিয়ে করেন?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : বিয়ের তারিখ মনে আছে?
উত্তর : মনে নাই। একটা করি, মরে যায় পরে বিয়ে করি। ৩ স্ত্রী মারা গেছেন। এখন দুজন আছে।
প্রশ্ন : স্কুলে টিপ দিয়ে বেতন নেন, না স্বাক্ষর করেন?
উত্তর : স্বাক্ষর করি। ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল তারিখে বেতন তুলেছি এটা আমার স্বাক্ষর। সব সময় নিজ স্বাক্ষরে বেতন তুলি।
প্রশ্ন : স্কুলের দেয়া তথ্যে ৮ম শ্রেণী পাস বলে উল্লেখ রয়েছে এবং জন্ম তারিখ বলা হয়েছে ১৯৬০ সালের ১ নবেম্বর।
উত্তর : আমি এ কাগজে (সেলারি রোল) পড়তে পারি না।
প্রশ্ন : যুদ্ধের সময় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হয়েছিলো?
উত্তর : যুদ্ধের আগে পরীক্ষা বাতিল হয়েছে সবখানে।
প্রশ্ন : মিলিটারিরা মাইক দিয়ে ঘোষণা দেয়, সবাইকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা বলেছিলেন, যে পরীক্ষায় অংশ নেবে তার সাক্ষাৎ মৃত্যু? কামারুজ্জামান মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেননি।
উত্তর : জানা নেই।
প্রশ্ন : কামারুজ্জামান ছাত্র সংগঠনের নেতা হওয়াতে, আলবদর নেতা হওয়া, অপহরণ করা, ক্যাম্পে তার অবস্থান ও তার সঙ্গে দেখা হবার বা কামারুজ্জামানকে জড়িয়ে যে সকল কথা বলেছেন তা মিথ্যা ও বানোয়াট?
উত্তর : এসব অসত্য।
প্রশ্ন : তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক এবং অন্যায়ভাবে লাভবান হয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সাক্ষ্য দিয়েছেন?
উত্তর : এটা অসত্য।
প্রশ্ন : কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে যে কথা বলেছেন তা অন্যের শিখানো মতে একেক সময় একেক রকম কথা বলেছেন?
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : আপনি সুযোগসন্ধানী, ধুরন্ধর, সুবিধাবাদী ও ধান্দাবাজ লোক।
উত্তর : এটা সত্য নয়।

