|
|
৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : তিন হাজার ২৮৫ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান ডেসটিনি গ্রুপের সভাপতি লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদ ও ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ প্রতিষ্ঠানটির ২২ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কলাবাগান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি দায়ের করা হয়।
মামলা নং ৩২ ও ৩৩। দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। গতকাল বিকেলে দুদকের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
দুদক জানায়, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন ও ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কিন্তু বর্তমানে তাদের পৃথক দুটি অ্যাকাউন্টে ৫৬ লাখ ও ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বাকি টাকা তারা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে। দুদক জানায়, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে কমিশন হিসেবে তা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা কর্মকর্তা ও এজেন্টদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করে।
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল হারুন ও ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তারা হলেন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মাদ হোসেন, পরিচালক সাঈদ-উর-রহমান, গোফরানুল হক, মেজবাহ উদ্দিন স্বপন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ইরফান আহমেদ সানি, মিসেস ফারাহ দীবা, জমসেদ আরা চৌধুরী, শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ বিশ্বাস, ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়বুর রহমান, জাকির হোসেন, আজাদ রহমান, আকরাম হোসেন সুমন, মিসেস শিরিন আক্তার, মো: রফিকুল ইসলাম সরকার, মো: মজিবুর রহমান, মো: সুমন আলী খান, মো: সাইদুল ইসলাম খান (রুবেল), মো: আবুল কালাম আজাদ, লে. কর্নেল দিদারুল আলম।
ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন লিমিটেড (ডিটিপিএল) কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণ ও বিনিয়োগকারীদের অধিক লাভে প্রলুব্ধ করে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) পদ্ধতিতে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এর মাধ্যমে অবৈধভাবে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৬৩০টি গাছ ও পাওলোনিয়া ট্রি স্ট্যাম্প বিক্রি করে সর্বমোট ২ হাজার ৩শ' ৩৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করে। এরমধ্যে ডিটিপিএল কর্তৃপক্ষ মোট ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৮০টি গাছ এবং ২১ হাজার পাওলোনিয়া ট্রি স্ট্যাপ জনগণের মধ্যে সরবরাহ করেন বলে দাবি করেন। তারা ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৮০টি গাছ বিক্রি করে ২শ' ৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ২১ হাজারটি পাওলোনিয়া স্ট্যাম বিক্রি করে ১ কোটি১৯ লাখ টাকা সংগ্রহ করে কিন্তু ডিটিপিএল কর্তৃপক্ষ এমএলএম পদ্ধতিতে গাছ বিক্রির বিধান না থাকা সত্ত্বেও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের মাধ্যমে ২০০৬ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতারণাপূর্বক আইন ও বিধিবিধান লংঘন করে গাছ বিক্রি করে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে।
দুদক সূত্র জানায়, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের পরিচালকরা নিজ নিজ স্বার্থে বেতন-ভাতা, অনারিয়াম, ডিভিডেন্ট ও ইনসেন্টিভ এবং কমিশন গ্রহণের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ১৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং স্থিতি আছে ৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ফারাহ দীবার ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ৮১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৭৩ কোটি ২৭ লাখ এবং স্থিতি আছে ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ১ কোটি ৯১ লাখ টাকা, উত্তোলন করেছেন ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং স্থিতি আছে মাত্র ১ লাখ টাকা। পরিচালক
সাঈদ-উর রহমানের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ১৭৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ১৬৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং স্থিতি আছে ৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
পরিচালক গোফরানুল হকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ৮৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৮৩ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং স্থিতি আছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
পরিচালক মেসবাহউদ্দিন স্বপনের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ৭৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৭৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং স্থিতি আছে ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। পরিচালক নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস ও মিতু রানী বিশ্বাসের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৩৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং স্থিতি আছে ৩২ লাখ টাকা।
পরিচালক শেখ তৈয়বুর রহমান ও সেলিনা রহমানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ৩৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৩০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং স্থিতি আছে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। পরিচালক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ১৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং স্থিতি আছে মাত্র ৪৫ লাখ টাকা।
পরিচালক ইরফান আহমেদ সানীর ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। পরিচালক জামসেদ আরা চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে ১৮ কোটি ২১ লাখ টাকা আর স্থিতি আছে ২ কোটি টাকা। পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলমের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে ২২ কোটি ৪২ লাখ টাকা, এর মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে জমার চেয়েও ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা বেশি।

