Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 August 2012, ১৮ শ্রাবণ ১৪১৯, ১৩ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২১২১ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী চ্যালেঞ্জ করলেন তদন্ত কর্মকর্তাকে

সিসি ক্যামেরায় প্রমাণ আছে যে সাক্ষী আইয়ুবকে এজলাস কক্ষে এনে বসিয়ে রাখা হয়েছিল

আজকের মধ্যে আইও'র জেরা শেষ করতে চরমপত্র ট্রাইব্যুনালের

শহীদুল ইসলাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশ্ব বরেণ্য মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন যে সিসি ক্যামেরা পরীক্ষা করলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে যে সাক্ষী আইয়ুব আলী হাওলাদারকে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে বিচার চলাকালীন সময়ে কোন একদিন এনে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এটা এজলাস কক্ষের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) পরীক্ষা করলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে। অথচ এই সাক্ষীর ব্যাপারে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে রিপোর্ট দিয়েছিল যে আসামীর (মাওলানা সাঈদী) লোকেরা তাকে ভয়-ভীতি দেখানো ও বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়ার কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব নয়। প্রসিকিউশনের এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্যই আইয়ুব আলী হাওলাদারের সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ইতোপূর্বে যে ১৫ জন সাক্ষী আদালতে শপথ পড়ে জবানবন্দী প্রদান ছাড়াই তদন্ত কর্মকর্তার দেয়া বক্তব্যই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে আইয়ুব আলী তাদেরই একজন। তদন্ত কর্মকর্তা এই অভিযোগ সত্য নয় বলে জবাব দিলেও সিসি ক্যামেরা পরীক্ষা করার চ্যালেঞ্জ প্রসিকিউশন গ্রহণ করেননি বা আদালতও তাতে সায় দেয়নি। ১৯ (২) বিধিতে গ্রহণ করা এই ১৫ জনের সাক্ষীর জবানবন্দী নিয়ে প্রশ্ন করার সময় প্রাসঙ্গিকভাবে একই সাথে প্রসিকিউশন আরও ৩১ জন সাক্ষীর সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করার সময় তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা হয় ট্রাইব্যুনালে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, আমরা যে ১৫ জনকে এ্যালাউ করেছি তার বাইরে কারো নিয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন না। এ নিয়ে আধাঘণ্টারও বেশি বিতর্ক হয় যা উত্তেজনা ও উত্তাপে রূপ নেয়। এডভোকেট মিজানুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমি দরখাস্ত দিব। চেয়ারম্যান বলেন, দরখাস্ত রিজেকটেড। আমরা ১৫ জনের বাইরে আপনাকে যেতে দিব না। একই সাথে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ করতেও তিনি মিজানুল ইসলামকে নির্দেশ দেন। তবে এব্যাপারে কোন লিখিত আদেশ দেননি। ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও একেএম জহির আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে যার বিচার সেই মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গতকালও আদালতে আনা হয়নি তার শারীরিক অবস্থা এখনো খারাপ থাকার কারণে।

গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা। শেষের আধাঘণ্টা চলে বিতর্ক। আইয়ুব আলী হাওলাদার সম্পর্কে প্রশ্নের একপর্যায়ে শরাফত আলী ও আব্দুর রাজ্জাকের নাম আসলে তখন সরকার পক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর হায়দার আলী তাতে আপত্তি দিলেই বিপত্তিটা বাধে। এই বিতর্ক দিয়েই শেষ হয় গতকালের জেরা। আজ বৃহস্পতিবার পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অনুষ্ঠিত হবে। গতকালের জেরায় এডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী।

গতকাল বুধবারের জেরার উল্লেখযোগ্য বিবরণ নিম্নরূপ

প্রশ্ন : সাক্ষী শরাফত আলী এবং আব্দুর রাজ্জাককে আপনি প্রসিকিউশনের কাছে হাজির করেছিলেন কার আদেশ বলে?

উত্তর : আদালতের আদেশ বলে।

প্রশ্ন : মাহবুবুল আলম হাওলাদারের জিয়ানগর থানায় দায়েরকৃত মামলায় সাক্ষী আব্দুল লতিফ হাওলাদার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : মাহবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও লুটপাটের কথা আব্দুল লতিফ হাওলাদারের জবানবন্দিতে নেই?

উত্তর : জি, বলেননি।

প্রশ্ন : রাজাকার ক্যাম্পে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে মারপিট করা হয় মর্মে আব্দুল লতিফ হাওলাদার আপনার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। ঐরূপ ডিভকটিম কাউকেই আপনি এই মামলার সাক্ষী করেননি?

উত্তর : জি, করি নাই।

প্রশ্ন : ঐ জবানবন্দিতে ভানু সাহা ও গৌরাঙ্গ সাহার ৩ বোনের ধর্ষণের কোন কথা নেই?

উত্তর : জি, নেই।

প্রশ্ন : মদন সাহার ঘর এবং দোকান ভেঙ্গে নিয়ে সাঈদী সাহেবের শ্বশুর বাড়িতে রাখা এবং স্বাধীনতার পরে ফেরত দেয়া এবং মাখন সাহার বাড়ি থেকে ২২ সের সোনা লুট হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোন কথা আপনার কাছে আব্দুল লতিফ হাওলাদার প্রদত্ত জবানবন্দিতে নেই?

উত্তর : জি, নেই।

প্রশ্ন : সাক্ষী আব্দুল লতিফ হাওলাদার নিখোঁজ ছিল মর্মে যে রিপোর্ট দিয়েছেন সেই তথ্য সঠিক নয়?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : এই সাক্ষীকে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য প্রসিকিউশনের নিকট হাজির করেছিলেন মর্মে আপনার বক্তব্য সত্য নয়?

উত্তর : আপনার বক্তব্য সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনার শেখানো মতে সাক্ষ্য প্রদান করতে রাজি না হওয়ায় আপনি তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেননি?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : সাক্ষী সুরেশ চন্দ্র মন্ডল এই মামলার অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত আছেন এই তথ্য সর্বপ্রথম আপনি কবে কার কাছ থেকে পেয়েছেন?

উত্তর : ২০/৯/১০ তারিখে মাসিমপুর এলাকার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজে উপস্থিত হয় আমার কাছে বলেন এবং তার জবানবন্দি আমি রেকর্ড করি।

প্রশ্ন : ২০/৯/২০১০ তারিখে আপনি মাসিমপুর গ্রামে যাবেন মর্মে আগে থেকে লোকজনকে জানিয়েছিলেন?

উত্তর : নির্দিষ্ট করে না জানালেও সাধারণভাবে সবাইকে জানিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : কাকে কাকে জানিয়েছিলেন?

উত্তর : জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের জানাই। এছাড়াও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় এ খবর দেয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন : স্থানীয় সাংবাদিকরাও তথ্য সংগ্রহ করেছিল?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : পিরোজপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডারের সাথে আপনার দেখা হয়েছিল তখন?

উত্তর : দেখা হয়েছিল। তবে তাদের নাম বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : মাছিমপুর পিরোজপুর উপজেলা ও পিরোজপুর পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত?

উত্তর : জি।

প্রশ্নর পিরোজপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডারের কোন জবানবন্দি নেননি, সাক্ষীও করেননি?

উত্তর : জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সাক্ষী করি নাই। জবানবন্দি নেইনি।

প্রশ্ন : পিরোজপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রথম কমান্ডার কে ছিলেন? এ সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছেন?

উত্তর : তা আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : পিরোজপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোন সদস্যকেই আপনি জিজ্ঞাসাবাদ করেননি, জবানবন্দি রেকর্ড করেনি, তাদেরকে সাক্ষীও করেননি?

উত্তর : জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জবানবন্দি রেকর্ড করি নাই, সাক্ষীও করি নাই।

প্রশ্ন : পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র তদন্তকালে কে ছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : মাছিমপুর এলাকা পিরোজপুর পৌরসভার কত নং ওয়ার্ডে?

উত্তর : ৮নং ওয়ার্ডে।

প্রশ্ন : এই ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর কে ছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : তদন্তকালে পিরোজপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন মতিউর রহমান সর্দার?

উত্তর : এটা আমি জানি না।

প্রশ্ন : আপনার তদন্তকালে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডার কে ছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে না থাকায় বলতে পারছি না।

প্রশ্ন : তদন্তকালে আপনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন কি না?

উত্তর : জি, না।

প্রশ্ন : তদন্তকালে আপনি স্থানীয় হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন?

উত্তর : সুনির্দিষ্টভাবে কারো সাথে যোগাযোগ করি নাই। তবে স্থানীয় গন্যমাণ্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করেছি।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পিরোজপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বা সেক্রেটারি কে ছিলেন সে বিষয়ে কোন খোঁজ খবর নিয়েছিলেন?

উত্তর : ঐভাবে খোঁজ নেইনি।

প্রশ্ন : মাছিমপুর ১৯৭১ সালে পৌরসভার অধীনে না কি ইউনিয়ন কাউন্সিলের অধীনে ছিল?

উত্তর : ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রশ্ন : তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যানের খোঁজ করেছিলেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : মাছিমপুর গ্রামের জনসংখ্যা আপনার তদন্তকালে অনুমান কত ছিল?

উত্তর : এ সম্পর্কে কোন তথ্য আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : সুরেশ চন্দ্র মন্ডলের বাড়ি কি মাছিমপুর গ্রামে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : তদন্তকালে তার বাড়িতে গিয়েছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : মাছিমপুর গ্রামের কতজনকে আপনি সাক্ষী করেছেন?

উত্তর : মোট ৫ জন। এরা হলেন, ১. আশিস কুমার মন্ডল, ২. সুমতি রানী মন্ডল, ৩. সমর মিস্ত্রী, ৪. এডভোকেট গোপাল কৃষ্ণ মন্ডল এবং ৫. সুরেশ চন্দ্র মন্ডল।

প্রশ্ন : এই ৫ জনের বাড়িই কি ১৯৭১ সালে ঐ গ্রামে ছিল?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : মাছিমপুর গ্রামে আপনি প্রথম কত তারিখে যান?

উত্তর : ২০/৪/২০১০ তারিখ বেলা ১৫ টা থেকে ১৯ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আমি ঐ গ্রামে ছিলাম।

প্রশ্ন : ঐ গ্রামে তদন্তে গিয়ে কোথায় অবস্থান করেছিলেন?

উত্তর : প্রথমে সুমতি রানী মন্ডলের বাড়িতে কিছুক্ষণ ছিলাম। তারপর সমর মিস্ত্রীর বাড়িতে ছিলাম। গোপাল কৃষ্ণ মন্ডলের বাড়িতেও কিছুক্ষণ ছিলাম।

প্রশ্ন : মধ্য মাছিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আপনি গিয়েছেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে ঐ জায়গায় বাসস্ট্যান্ড ছিল?

উত্তর : জি ছিল।

প্রশ্ন : পুরনো বাসস্ট্যান্ড কোথায় ছিল?

উত্তরর এর পাশেই ছিল।

প্রশ্ন : নতুন বাসস্ট্যান্ড এবং মধ্য মাছিমপুর বাসস্ট্যান্ড কি একই?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : মধ্য মাছিমপুর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে ১৯৭১ সালে যে জঙ্গল ছিল সেটা বর্তমানে কি অবস্থায় আছে?

উত্তর : এখনো গাছপালা আছে। তবে আগের মতো গভীর জঙ্গল নয়।

প্রশ্ন : এই জায়গার মালিক কে ছিল?

উত্তর : ১৯৭১ সালে একজন হিন্দু ছিল। তিনি ভারতে চলে গেছেন। এখন একজন মুসলমান। তার নাম আবুল খায়ের সিকদার।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে আবুল খায়েরের বাড়ি কোন এলাকায় ছিল?

উত্তর : খবর নেইনি।

প্রশ্ন : মাছিমপুর এলাকায় হিন্দু না মুসলমানের সংখ্যা বেশি ছিল?

উত্তর : হিন্দুদের সংখ্যা বেশি ছিল।

প্রশ্ন : মাছিমপুরের কোন মুসলমানকে আপনি জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?

উত্তর : জি, করেছি।

প্রশ্ন : আপনার তদন্তকালে মাছিমপুর গ্রামের ৫৫ ঊর্ধ্ব বয়সী কোন মুসলিম ব্যক্তিকে পেয়েছেন?

উত্তর : পেয়েছি।

প্রশ্ন : এই জঙ্গলটা মেজর জিয়াউদ্দিনের বাড়ি থেকে কত দূরে?

উত্তর : মেজর জিয়ার বাড়ি কোথায় তাই তো জানি না। দূরত্ব কিভাবে বলবো।

প্রশ্ন : পিরোজপুর শহরে মেজর জিয়ার বাড়ি সম্পর্কে কোন খোঁজ খবর নেননি?

উত্তর : জি, না।

প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিনের পিতা মরহুম আফতাব উদ্দিন আহমদ পিরোজপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন?

উত্তর : জানি না।

প্রশ্ন : স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র বইতে মরহুম আফতাব উদ্দিন আহমদ বক্তব্য দিয়েছিলেন পিরোজপুরের মুক্তিযুদ্ধের ওপর। সেটা পর্যালোচনা করেছেন?

উত্তর : বইটি পড়েছি। তবে এই মুহূর্তে আফতাব উদ্দিনের বক্তব্য সেখানে আছে কি না তা মনে পড়ছে না।

প্রশ্ন : হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র বইতে পিরোজপুরের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে মেজর জিয়াউদ্দিন প্রদত্ত বক্তব্য আপনি পর্যালোচনা করেছেন?

উত্তর : মনে পড়ছে না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে ক'টি কলেজ ছিল?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের কোন ছাত্র বা শিক্ষক নিখোঁজ হয়েছিল এবং পরে আর পাওয়া যায়নি এমন কোন তথ্য সংগ্রহ করেছেন?

উত্তর : জি, না। নিখোঁজ হওয়ার খবর পাইনি।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পিরোজপুর থানার স্থায়ী বাসিন্দা, থানা এলাকার মধ্যে স্কুল কলেজের কোন ছাত্র শিক্ষক, নিখোঁজ হয়ে পরে আর পাওয়া যায়নি এমন কোন তথ্য আপনি তদন্তকালে পেয়েছেন কি না? এরূপ ১০ জনের নাম বলুন?

উত্তর : এরূপ অনেকের তথ্য পেয়েছি।

প্রশ্ন : মারা যাওয়ার তথ্য নেই কিন্তু নিখোঁজ এরূপ কতজনের সন্ধান পেয়েছেন?

উত্তর : এরূপ তথ্য নেই। তবে কিছু লোক ভারতে চলে গেছে।

প্রশ্ন : আপনি যে দিন সুরেশ চন্দ্র মন্ডলের জন্য সাক্ষীর প্রসেস নিয়ে যান সেই দিন এডভোকেট গোপাল কৃষ্ণ মন্ডলেরও প্রসেস নিয়ে যান?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : গোপাল কৃষ্ণ মন্ডলের বাড়িতে প্রসেস নিয়ে আপনি প্রথম কত তারিখে গিয়েছিলেন?

উত্তর : স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : সুরেশ চন্দ্র মন্ডলের বাড়িতে আপনি সাক্ষীর প্রসেস নিয়ে ২০১১ সালে না ২০১২ তে গিয়েছেন?

উত্তর : একবারই গিয়েছি এবং সেটা সাক্ষী শুরু হওয়ার প্রথম দিকে।

প্রশ্ন : যখন রুহুল আমিন নবীন সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন তখন সুরেশ চন্দ্র মন্ডল কে হাজির করার জন্য প্রসেস নিয়ে গিয়েছিলেন?

উত্তর : ডেট সময় বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : সুরেশ চন্দ্র মন্ডলের বাড়িতে যখন যান তখন পুলিশ অফিসার কে ছিল আপনার সাথে?

উত্তর : পিরোজপুর সদর থানার এসআই বাদল কৃষ্ণ ছিল।

প্রশ্ন : ঐ বাড়িতে উপস্থিত হয়ে কাকে পেয়েছিলেন?

উত্তর : তাকেই পেয়েছি। তার স্ত্রী ও ছেলে ছিল।

প্রশ্ন : ঐ সময় তার বাড়িতে স্থানীয় কোন লোক ছিল?

উত্তর : জি, ছিল।

প্রশ্ন : তার সাথে আপনার কি কথা হয়?

উত্তর : আমি তাকে সাক্ষী দিতে যাওয়ার জন্য বলি। তিনি বললেন, আমি যাব। তবে এই মুহূর্তে শরীর খারাপ। তিনি হৃদরোগী। তিনি আরো বলেন, আশিস মন্ডলের সাক্ষী হওয়ার পরে আমাকে নিয়ে যাবেন। আমি কারণটি যুক্তিযুক্ত মনে করে চলে আসি।

প্রশ্ন : গোপাল পাড়া ধোপাবাড়ি থেকে মাছিমপুরের দূরত্ব কত?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : সুরেশ চন্দ্র মন্ডলের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি যে ঘটনা দেখেছেন সেই ঘটনা তার সাথে থেকে এডভোকেট গোপাল কৃষ্ণ মন্ডলও দেখেছেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আশিস কুমার মন্ডল ছাড়া বর্ণিত ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের কাউকে আপনি এই মামলায় সাক্ষী করেননি।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : দেবেন্দ্র নাথ মন্ডলের বাড়িতে এখন কে বাস করে?

উত্তর : একজন মুসলমান বাস করে তার নাম বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : যোগেন্দ্র নাথ, মুকুন্দদের বাড়িতে এখন কারা বাস করে?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : ধোপা বাড়ির আশপাশের কাউকে আপনি সাক্ষী করেননি।

উত্তর : উল্লেখিত ৫ জনের বাড়িই ধোপা বাড়ির আশপাশে মাছিমপুর একটি বৃহৎ এলাকা। তার মধ্যেই ধোপাবাড়ি।

প্রশ্ন : মাছিমপুর ক'টি পাড়া আছে?

উত্তর : নির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : এডভোকেট গোপাল কৃষ্ণ মন্ডলের বাড়ি কোন পাড়ায়?

উত্তর : পাড়া আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : সুরেশ চন্দ্র মন্ডলের বাড়ি কোন পাড়ায়?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : গোপাল মন্ডল ও সুরেশ মন্ডলের বাড়ি কি পাশাপাশি?

উত্তর : না, সামান্য দূরে।

প্রশ্ন : গোপাল কৃষ্ণ মন্ডলের বাড়ি ধোপাবাড়ির পাশেই।

উত্তর : ৭১ সালে ধোপাবাড়িতেই ছিল। বর্তমানে একটু দূরে।

প্রশ্ন : বর্তমানে ধোপাবাড়িতে কারা বাস করে?

উত্তর : ধোপাবাড়ি একটি পাড়া।

প্রশ্ন : ধোপাবাড়ি ধোপাদের বসবাসের কারণে ধোপাবাড়ি হিসেবে পরিচিত?

উত্তর : ট্রাইব্যুনাল বলেন, এটা উনি বলতে পারবেন না।

প্রশ্ন : ধোপাবাড়িতে গোপাল কৃষ্ণ মন্ডল ছাড়া ১৯৭১ সালে বাকি ৪ জন সাক্ষীর কেউই থাকতো না এখনো থাকে না।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ধোপাবাড়ি এলাকায় আপনি গোপাল কৃষ্ণ ছাড়া অন্য কোন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেননি।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : সাক্ষী সুরেশ চন্দ্র মন্ডল আপনার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দিতে তিনি ভাগিরথী হত্যাকান্ড, ট্রেজারির অর্থ ও অস্ত্র লুট এবং বলেশ্বর নদীর ঘাটে সংঘটিত হত্যাকান্ডের কোন বর্ণনা দেননি।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : মেজর জিয়াউদ্দিনের বাড়ি মাছিমপুর গ্রামের মধ্যে- এটা জানার পরেও আপনি গোপন করছেন।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনার শেখানো মতে সাক্ষী দিতে রাজি না থাকায় আপনি সাক্ষী সুরেশ চন্দ্র মন্ডলকে ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেননি।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : সাক্ষী মোহাম্মদ আইয়ূব আলী হাওলাদারের সাথে তদন্তকালে প্রথম কবে আপনার দেখা হয়?

উত্তর : ১৯/৮/২০১০ তারিখ রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয়, পারেরহাটে।

প্রশ্ন : উনার লেখাপড়া কতটুকু?

উত্তর : আমার কাছে কোন তথ্য নেই।

প্রশ্ন : তার ভাই আব্দুস সাত্তার হাওলাদারের সাথে তদন্তকালে আপনার দেখা হয়েছিল?

উত্তর : জি, না।

প্রশ্ন : আইয়ুব আলীর বাড়ি কোথায়?

উত্তর : শংকর পাশা।

প্রশ্ন : ইসহাক হাওলাদারের ছেলে মেয়ে কত জন?

উত্তর : এ সম্পর্কে আমার কাছে কোন তথ্য নেই।

প্রশ্ন : আইয়ুব আলী হাওলাদারকে কি মাহবুবুল আলম হাওলাদার আপনার কাছে নিয়ে এসেছিলেন?

উত্তর : কে তাকে এনেছিল তা আমি বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : আপনি ১৯/৮/২০১০ তারিখে যাবেন এটা শংকর পাশা ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছিলেন?

উত্তর : সুনির্দিষ্টভাবে বলি নাই।

প্রশ্ন : তদন্তকালে আপনি শংকর পাশা ইউনিয়নে গিয়েছিলেন?

উত্তর : না, যাইনি। তবে শংকর পাশা গ্রামে গিয়েছি।

প্রশ্ন : শংকর পাশা গ্রামে গিয়ে আপনি কোন কোন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন?

উত্তর : ডালিম খান, পিতা-মৃত মাহবুবুর রহমান খলিফা এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি।

প্রশ্ন : ঐ গ্রামে স্থানীয় এমপি আওয়াল সাহেবের বাড়িতে গিয়েছিলেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : মৃত মাহবুবুর রহমান সাহেব কি করতেন?

উত্তর : ৭১ সালে পারেরহাটের ব্যবসায়ী ছিলেন।

প্রশ্ন : ডালিম খান এখন কি করে?

উত্তর : পারেরহাটসহ বিভিন্নস্থানে উনি ব্যবসা করেন। তার বয়স ৫২ বছর।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পারেরহাট এলাকার অধিবাসী ছিল অথবা ব্যবসায়ী ছিল মাহবুবুর রহমান ছাড়া এমন অন্য কোন মাহবুবের অস্তিত্ব আপনি পাননি।

উত্তর : জি, পাইনি।

প্রশ্ন : আইয়ুব আলী হাওলাদার বর্তমানে কোথায়, কি করে?

উত্তর : ব্যবসা করে, তবে কি ব্যবসা করে তা বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে পারেরহাটের কোন এলাকায় তিনি ব্যবসা করতেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : তদন্তকালে আইয়ুব আলীর সাথে আপনার দ্বিতীয় বার আর দেখা হয়নি।

উত্তর : দেখা হয়েছে। ৬/৪/২০১১ তারিখে সকাল ৯টা থেকে ১৪ টা পর্যন্ত পিরোজপুর সার্কিট হাউসে।

প্রশ্ন : ৬/৪/২০১১ তারিখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেননি, জবানবন্দিও নেননি।

উত্তর : নিরাপত্তা ইস্যুতে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জবানবন্দি রেকর্ড করি নাই।

প্রশ্ন : আইয়ুব আলী হাওলাদারকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য প্রসেস নিয়ে আপনি কত তারিখে যান?

উত্তর : তারিখ মনে নেই। তবে দিনের বেলা জোহর নামাযের আগে গিয়েছিলাম।

প্রশ্ন : প্রসেস নিয়ে কি আপনি একাই গিয়েছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : এ সময় সাক্ষী রুহুল আমিন নবীনের সাক্ষীর প্রফেস একই সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন?

উত্তর : জি, না।

প্রশ্ন : আইয়ুব আলী হাওলাদারের হাজিরার প্রসেস নিয়ে যাওয়ার সময় কি অন্য সাক্ষীর প্রসেসও নিয়ে গিয়েছিলেন?

উত্তর : সকল সাক্ষীর প্রসেসিই নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে সংখ্যা স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : তাকে বাড়িতে পেয়েছিলেন?

উত্তর : না পাইনি। তার স্ত্রী মৃত। তার মেয়ের সাথে কথা বলেছিলাম।

প্রশ্ন : মেয়ে কি বলেছিল?

উত্তর : মেয়ে বলেছিল, বাবাকে ভয় দেখানো হয়েছে। আমার আববাকে সাক্ষী দিতে নেবেন না।

প্রশ্ন : তার ছবিসহ জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ট্রাইব্যুনালে ছবিসহ জবানবন্দি দিয়েছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আইয়ুব আলী হাওলাদারকে কোর্টে এনে বসিয়ে রেখেছিলেন; সিসি টিভি দেখলে প্রমাণ পাওয়া যাবে?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে নিয়ে এসেছিলেন কিন্তু সাক্ষ্য না দিয়ে চলে গেছে। এমন কোন সাক্ষী আছে?

উত্তর : শরাফত আলী ও আব্দুর রাজ্জাক এই ২ জনকে প্রসিকিউশনের কাছে হাজির করেছিলাম। এজলাস কক্ষের কথা বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : এই ২ জনকে প্রসেসসহ এনেছিলেন?

উত্তর : স্মরণ নেই।