Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 2 August 2012, ১৮ শ্রাবণ ১৪১৯, ১৩ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৭৬৯ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

জামায়াত-শিবিরের দেড়শ' নেতা-কর্মীর নামে পুলিশের মামলা

বগুড়া শহর জামায়াত কার্যালয়ে পুলিশের হানা তারাবিহ্'র জামায়াত থেকে ১৪ মুসল্লী গ্রেফতার

বগুড়া : মঙ্গলবার রাতে তারাবি নামাযের সময় শহর জামায়াত অফিসে হানা দিয়ে পুলিশ মুসুল্লি, পথচারী, দর্জি শ্রমিক, দোকান কর্মচারী ও পিয়নসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়

বগুড়া অফিস : গত মঙ্গলবার বিকেলে শিবিরের মিছিলে পুলিশের হামলা এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর রাতে তারাবি নামাযের সময় জামায়াতে ইসলামী শহর শাখা কার্যালয়ে হানা দিয়ে নামাযরত অবস্থায় মুসল্লী, পথচারী ও অফিস পিয়নসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে রাতভর শহরের বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ আরো ৪ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল দুপুরে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। পুলিশ বাদী হয়ে জামায়াত ও শিবিরের দেড়শ' নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেছে।

জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা মামলায় জামায়াত ও শিবির নেতৃবৃন্দের নামে চার্জ গঠনের প্রতিবাদে ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখা মঙ্গলবার বিকেলে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করলে পুলিশ পিছন থেকে হামলা চালায়। এ ঘটনার রেশ ধরে রাত পৌনে ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়ারিশের নেতৃত্বে দু'টি পুলিশ ভ্যানে করে বিপুলসংখ্যক পুলিশ শহরের নবাববাড়ী রোডে বগুড়া শহর জামায়াতের অফিসে হানা দেয়। তারা অফিসের দুই প্রান্তের দুই দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে উপস্থিত প্রায় ৩০ জনকে আটক করে। এ সময় সকলেই তারাবি নামাযের জন্য জায়নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। পরে মুসল্লীদের পরিচয় পাওয়ার পর অধিকাংশকে ছেড়ে দিলেও ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এদের বেশিরভাগই তারাবি পড়ার জন্য এসেছিলেন। পরে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা পুলিশের মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বগুড়া শহর জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাকিম, ১নং ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ বেগ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান, শহর সভাপতি আজগর আলী, জামায়াত অফিসের পিয়ন আইয়ুব আলী, ওষুধের দোকানের কর্মচারী ফিরোজ, বগুড়া ক্যাডেট মাদ্রাসার পিয়ন সুলতান আলী, দর্জি শ্রমিক আব্দুর রউফ, মুসল্লী শামীম ও বিপ্লব। জামায়াত অফিসে হানা দেয়ার পর মঙ্গলবার রাতভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিবির কর্মী সন্দেহে পুলিশ আরো ৪ জনকে গ্রেফতার করে। এরা হলো- আজাদুল (২৭), আব্দুর রাজ্জাক (২৪), আল আমিন (২৪) ও মামুনুর রশিদ (২৩)।

মঙ্গলবার গভীর রাতে বগুড়া সদর থানার এস আই নবীউল হাসান বাদী হয়ে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবিদুর রহমান, শহর আমীর আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি মাজেদুর রহমান জুয়েল, শিবিরের শহর সভাপতি হেদাইতুল ইসলাম, সেক্রেটারি আলাউদ্দিন সোহেলসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো প্রায় দেড়শ' নেতা-কর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে, শহর জামায়াত অফিসে পুলিশের আকস্মিক হানা দিয়ে তারাবি নামাযরত মুসল্লীসহ জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার এবং শিবিরের মিছিলে পুলিশী হামলার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার দুপুরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত। শহরের খান্দার এলাকা থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি টিটু মিলনায়তন মোড়ে এসে শেষ হয়। জেলা সহকারী সেক্রেটারি আবিদুর রহমান, শহর শাখার সহকারী সেক্রেটারি সেলিম রেজা, মাওলানা আব্দুল বাসেতসহ নেতৃবৃন্দ মিছিলে অংশ নেন। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং পুলিশী হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

শিবির মিছিলে পুলিশের হামলা, শহর জামায়াত অফিস থেকে তারাবি নামাযরত মুসল্লীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং পুলিশী হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন, শহর আমীর আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি মাজেদুর রহমান জুয়েল, ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সভাপতি হেদাইতুল ইসলাম ও সেক্রেটারি আলাউদ্দিন সোহেল। তারা  এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।