|
|
ঈদের বাড়তি খরচ সামাল দিতে ঋণের জন্য মাল্টিপারপাস কোম্পানিগুলোর কাছে ধর্ণা
কামাল উদ্দিন সুমন : আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় দিশেহারা মধ্যবিত্তরা। সংসার চালাতে গিয়ে এরা শুধু হিমশিম খেতে হচ্ছে এমনটাই নয় রীতিমত বিপাকে পড়ে আছে। আর সন্তান-সন্ততির পড়াশোনা খরচসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এক সময় যারা ব্যয় বহন করে সামান্য হলেও পুঁজি সঞ্চয় করতেন। এখন তারা ঋণের টাকা ও শোধ করতে পারছে না। এদিকে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে অনেকে বাড়তি খরচ সামাল দিতে ঋণের জন্য ছুটছে। এজন্য অনেকে পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী মাল্টিপারপাস কোম্পনিগুলোর কাছে ঋণের জন্য ধর্ণা দিচ্ছে। ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০/৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিচ্ছে। আর এ সুযোগে চড়া সুদ আদায় করে নিচ্ছে এসব মাল্টিপারপাস কোম্পানিগুলো।
সূত্র মতে দেশে দু'শ্রেণীর মধ্যবিত্ত রয়েছে। এক শ্রেণীর আয় সামান্য বেড়েছে। বেতন বোনাস মিলে তারা আগের চাইতে বেশি টাকা পাচ্ছে। আর অন্য অংশের ব্যয় অনেক কমেছে। তারা আয়ের সাথে ব্যয়ের সামাল দিতে পারছে না। এদের মধ্যে অনেকে তাদের জমানো পুঁজি বসে বসে খাচ্ছে। আর অনেকের পুঁজি শেষ হওয়ার পর বাড়তি খরচ সামাল দিতে ঋণ করছে। ঈদে আরো খরচ বেড়ে যাওয়া তা সামাল দিতে ঋণের জন্য ছুটছে।
সূত্র জানায়, আগের চাইতে দ্রব্য মূল্য বেড়েছে কয়েক গুণ। এছাড়া বাড়ি ভাড়াও বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী আয় বাড়েনি অনেকের। এছাড়া মধ্যবিত্তদের কেউ কেউ শেয়ার বাজারে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব। অনেক দিন থেকে তারা দিশেহারা হয়ে আছে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। আর ঈদে পরিবার পরিজনের জন্য নতুন জামা কাপড় কেনার জন্য তাদেরকে বাড়তি টাকা গুণতে হবে। আর এজন্য অনেকে বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নিচ্ছেন। বিশেষ করে মাল্টিপারপাস কোম্পানিগুলোর কাছে বেশি যাচ্ছে এসব মানুষ।
শনিরআখড়ার পলাশপুর এলাকায় বসবাসকারী বেসরকারি চাকরিজীবী শোয়ায়েব হোসেন জানান, বেতন বোনাস মিলে তিনি প্রায় ১৬ হাজার টাকা পাবেন। কিন্তু তার বাসা ভাড়া, স্ত্রী, ৩ সন্তান ও নিজের জন্য ঈদের জামা কাপড় কিনতে হবে। এছাড়া আত্মীয়-স্বজনের জন্যও জামা-কাপড় কিনতে হবে। ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়া সব মিলিয়ে তার আরো দ্বিগুণ টাকা দরকার। এজন্য তাকে বাধ্য হয়েই চড়া সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, জিনিসপত্রের দাম আমাদের নাগালের বাইরে। সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
ধোলাইপাড় এলাকার গৃহিণী আয়েশা খানম জানান, যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তাতে আমরা নিরূপায় হয়ে পড়েছি। আমাদের যে আয় তার চাইতে প্রতিমাসে বেশি ব্যয় হয়। আর ঈদের কারণে খরচ বেড়েছে অনেক গুণ। সম্মান আর সামাজিকতা রক্ষার জন্য এখন আমাদের ঋণের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পতেঙ্গা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান শামসুর রহমান মোবাশ্বির জানান, ঈদের কারণে এমন লোকজন ঋণের জন্য আসে তাদেরকে আমরা ঋণ না দিয়ে পারি না। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের লোকজন এ সময় ঋণ নিতে আসে। তাদের অনেকের কথা অত্যন্ত ঈদের এ সময়টা আমাদের লোন দেন। তা না হলে মান সম্মান রক্ষা দায়।
সৃজন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান কাজী শামীম তারেক জানান, ঈদকে সামনে রেখে ঋণ নেয়ার গ্রাহক বেড়ে গেছে। ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন নিচ্ছে অনেকে। এমনকি অনেক গ্রাহক আছে যারা আগে কখনো লোন নিতে আসেনি। ঈদকে সামনে রেখে তারা লোন নিতে আসছে। এমন সব লোকজন লোন নিতে আসে তাদের আমরা না করতে পারি না।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ দৈনিক সংগ্রামকে জানান, মধ্যবিত্তের দু'টি অংশ রয়েছে। এক অংশের আয় কমেছে। তার কারণ হলো ভোগের চাহিদাও বেড়েছে। অন্যদিকে ব্যয় বেড়ে গেছে। দ্রব্যমূল্যও বেড়েছে। আর তা সামাল দিতে গিয়ে তারা ঋণগ্রস্ত হচ্ছে। আর এ সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন মাল্টিপারপাস কোম্পানিগুলো। তারা সুযোগ বুঝে অনেক চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য করছে। অপরদিকে, মধ্যবিত্তের এক অংশের আয় বেড়েছে। তারা আগের চাইতে বেতন-বোনাস বেশি পাচ্ছে। তিনি জানান, এসব মানুষ আগে ঈদের সময় একটা জামা ক্রয় করলেও অনেকে এখন ২/৩টা করে জামা ক্রয় করছে।

