|
|
কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, পবিত্র মাহে রমযান তাকওয়া অর্জনের মাস, চরিত্র গঠনের মাস, কুরআন নাযিলের মাস ও বিজয়ের মাস। আমরা যাতে তাকওয়ার গুণাবলী অর্জন করতে পারি এজন্যই আল্লাহ আমাদের উপর সিয়াম পালন ফরজ করে দিয়েছেন। এ মাসেই মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল হয়েছিল বলেই এ মাসের মর্যাদা অন্য মাসের তুলনায় বেশি। এ মাসে ইসলামের বড় বড় বিজয় অর্জিত হয়েছিল বলেই ইসলামের ইতিহাসে এ মাস বিজয়ের মাস হিসাবে খ্যাত। তাই এই মাস থেকে প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে তা বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর মধ্যেই রয়েছে মানবতার সর্বাঙ্গীন কল্যাণ। তিনি বিশ্বমানবতার মুক্তির জন্য সকলকে ইসলামের দিকে ফিরে আসার আহবান জানান।
গতকাল শুক্রবার উন্নয়ন রেনেসাঁ ফাউন্ডেশন, যাত্রাবাড়ী আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার নবী উল্লাহ নবী। বক্তব্য রাখেন আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের যাত্রাবাড়ী শাখার ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস আলী, অধ্যাপক আব্দুল কাদের, ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক মাহমুদ হোসাইন, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, হাফেজ তাজ উদ্দীন, সিরাজুল ইসলাম, নাজির আহমদ ভূঁইয়া ও অনুপম সাংস্কৃতিক সংসদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমদ প্রমুখ।
তিনি বলেন, আমরা গতানুগতিক পন্থায় রোজা রাখার কারণে আমরা এ থেকে প্রকৃত কল্যাণ লাভ করতে পারছি না। আসলে পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকায় সিয়ামের আসল শিক্ষা নয় বরং সকল প্রকার পাপ-পংকিলতা থেকে মুক্ত থেকে তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে সমাজের সকল অন্যায়-অনাচার ও অসংগতির বিরুদ্ধে আপোষহীন প্রতিরোধ গড়ে তোলায় হল রমযানের আসল শিক্ষা। মূলত সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা তাকওয়া অর্জন ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। আর পবিত্র মাহে রমযানই আমাদেরকে তাকওয়াবান করে তোলে। তিনি একটি শান্তির সমাজ বিনির্মাণে তাকওয়াভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। দুর্নীতি উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায়। পৃথিবীর কোন জাতিই দুর্নীতির মত দুষ্ট ক্ষত অব্যাহত রেখে উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। আর দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে তাকওয়াবান ব্যক্তিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে। তিনি তাকওয়ার সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে শরীক হওয়ার আহবান জানান।
হামিদ আযাদ এমপি বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় কোন ক্ষেত্রেই সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারেনি। তারা দেশের মানুষের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সুব্যবস্থা করতে পারেনি। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দেশ আজ দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি দল ও তার অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের জুলুমবাজী, হত্যা, সন্ত্রাসে দেশের মানুষ আজ দিশেহারা। এ অবস্থায় কোন সভ্য সমাজ চলতে পারে না। তিনি ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, দুঃশাসন, অপশাসন ও দুর্নীতির দায় নিয়ে সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহবান জানান। অন্যথায় জনগণই তাদেরকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করার ব্যবস্থা করবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

