|
|
সময় বাড়িয়ে দেয়ার দাবি
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা : আবেদন করে সঠিক সময়ে সরকারি অফিস থেকে জমির পর্চা ও মূল কাগজপত্র উঠাতে না পারায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইনে তালিকাভুক্ত জমির মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে এসব মামলা করার শেষ সময় নির্ধারণ করেছে সরকার। তাই প্রতি দিন মানিকগঞ্জের শত শত মানুষ নকলখানা ও রেকর্ড রুমের সামনে ধর্ণা দিচ্ছে মূল পর্চা ও দলিলের জন্য। অফিসের জটিলতার কারণে এখনো বহু মানুষ আবেদন করেও জমির পর্চা ও দলিলের নকল সংগ্রহ করতে পরেনি। এতে অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধারের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইনের ‘‘ক’’ তফসিলভুক্ত তালিকায় ৩৬শ' ৪ পয়েন্ট ৮ একর জমি রয়েছে এবং ভিপি কেচ সংখ্যা রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। তালিকা প্রকাশের প্রথম দিকে প্রচার প্রচারণা কম থাকায় শেষ মুহূর্তে এসে নকলখানা, রেকর্ড রুম ও আদালত পাড়ায় জমির মালিকদের উপচে পড়া ভিড় পড়েছে । এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তালিকাভুক্ত জমির সকল কাগজপত্রাদি ট্রাইব্যুনালে মূল কপি জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। আর এজন্য জমির সি এস এস এ, আর এস পর্চা ও দলিল সংগ্রহ করতে প্রতিদিন শত শত মানুষ দিনের পর দিন ধর্ণা দিচ্ছে রেকর্ড রুম ও নকলখানায়। তবুও সময় মত সংগ্রহ করতে পারছে না তাদের কাগজপত্র। গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ মামলার জন্য কাগজপত্র সংগ্রহ করতে এসে অফিস পাড়ায় দালালদের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন ৩/৪শ' লোক পর্চা ও দলিলের জন্য আবেদন করায় এক সাথে এত পর্চা সরবরাহ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। অফিসের বিভিন্ন জটিলতার কারণে সাধারণত একটি পর্চা পেতে সময় লাগছে ১৫/২০ দিন। অনেকেই নিরূপায় হয়ে ২৫ টাকার পর্চা ৩০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আবুল হোসেন জানান তার জমির বৈধ দলিলপত্র থাকার পরও এক শ্রেণীর কর্মচারী মালিকানাভুক্ত জমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত করেছে। শিবালয় উপজেলার অন্যায়পুর এলাকার আব্দুর রজ্জব জানান কোর্ট থেকে ডিগ্রিকৃত ১৫ শতাংশ জমি কিনে মিউটেশন ও হাল সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে তবুও উক্ত জমি ভিপি তালিকাভুক্ত হয়েছে।
মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের সিনিয়র এই আইনজীবী মো. আব্দুল করিম অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইনের বিভিন্ন জটিলতার সম্পর্কে জানান গেজেট প্রকাশের পর প্রচার প্রচারণা কম থাকায় মানুষের মধ্যে তেমন সাড়া পড়েনি। তাই সরকারের বেঁধে দেয়া ৯০ দিনে শতকরা ১০ ভাগ মামলা হয়েছে বাকী বহু মামলা ফাইলিং অবস্থায় রয়েছে যা মূল কাগজপত্র সংগ্রহের জটিলতার কারণে মামলা দাখিল করা বিলম্ব হচ্ছে। পর্চা উঠাতে এসে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অনেক সময় টাকা দিয়েও সঠিক সময়ে পর্চা সংগ্রহ করতে পারছে না। এতে মামলা দায়ের করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আইনজীবীদের।
জেলা প্রশাসক মুন্সি শাহাবুদ্দিন জানান, জমির মালিকদের পর্চাসহ সকল কাগজপত্র সঠিক সময়ে সরবরাহ করতে আরো লোকবল বাড়ানো হবে যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়। ভিপি তালিকাভুক্ত জমির মালিকদের ট্রাইব্যুনালের আশ্রয় নিতে মামলা করার সময় সীমা আরো বানোর দাবি জেলাবাসীর।

