|
|
খন্দকার মাহবুব হোসেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত
স্টাফ রিপোর্টার : সারা দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বনিদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এর আগে তিনি পরপর দু'বার সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। গতকাল শনিবার বার কাউন্সিলের নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সভায় তাঁকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। এছাড়াও সভায় বার কাউন্সিলের ১০টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর খন্দকার মাহবুব হোসেন আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে করার দাবি জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আইনজীবীরা আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। আগামী নির্বাচন যাতে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় এজন্য বার কাউন্সিল বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। যারা এরপক্ষে থাকবে আমরাও তাদের পক্ষে থাকবো। আইনজীবীরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। দেশে গণতন্ত্রকে ইতিবাচক করতে বার কাউন্সিল কাজ করবে।
তিনি বলেন, অতীতে বার কাউন্সিল একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিলো। ফলে বার কাউন্সিলের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব ছিলো। বার কাউন্সিল একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলো। আমরা সম্মিলিতভাবে বার কাউন্সিলকে সচল করবো। আইনজীবীদের এনরোলমেন্ট (অন্তর্ভুক্তি) নিয়ে রিউমার, দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল। এবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। আইনজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বার কাউন্সিল কাজ করে যাবে। বিচার বিভাগে যাতে দলীয়করণ না হয় সে ব্যাপারেও সচেষ্ট থাকবে।
সারা দেশের ৪০ হাজার আইনজীবীদের এই সংগঠনের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি হলো দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন যাতে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে করা হয়। যারা এর পক্ষে থাকবে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। এভাবে নির্বাচন করলে যে সরকারই আসুক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা সহযোগিতা করবো।
গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল ৭টি সাধারণ আসনের মধ্যে চারটিতে এবং ৭টি গ্রুপ আসনের পাঁচটিসহ ৯টি আসনে জয় লাভ করে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ-বাম সমর্থক সরকার সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেলের ভরাডুবি হয়। প্যানেলটি সাধারণ আসনে তিনটি এবং গ্রুপ আসনে দু'টি আসনে জয়ী। বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বার কাউন্সিলের ১৪টি পদের ৯টিতে বিজয়ী হন তারা। ২৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আনুষ্ঠানিক ফলের পর গতকাল শনিবার বার কাউন্সিলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হলো।
নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সভায় খন্দকার মাহবুব হোসেন বিনা প্রতিদ্বনিদ্বতায় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়া ১০টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। ১০ উপ-কমিটির মধ্যে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান পদে এ জে মোহাম্মদ আলী, এনরোলমেন্ট (অন্তর্ভুক্তি) কমিটির চেয়ারম্যান পদে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান পদে সানাউল্লাহ মিয়া, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান পদে গোলাম মোস্তফা খান, ল' রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান পদে এ কে এম হাফিজুর রহমান, হিউম্যান রাইটস এন্ড লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান পদে গোলাম মোস্তফা খান, হাউজ কমিটির চেয়ারম্যান পদে খন্দকার মাহবুব হোসেন, রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান পদে মো. ইসহাক, রোল এন্ড পাবলিকেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান পদে মো. কাইমুল হক ও কমপ্লেইন এন্ড ভিজিলেন্স কমিটির চেয়ারম্যান পদে মো. কবির চৌধুরী নির্বাচিত হন।
ডা. শফিকের অভিনন্দন
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডা. শফিকুর রহমান গতকাল শনিবার এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আশা করি দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তার নেতৃত্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
আমি আরও আশা করি তার নেতৃত্বে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে।
আমি তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী জীবন কামনা করছি।

