|
|
মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া
গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলের সামনে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য পেশ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। তাই তারা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখছে। দলীয় সরকারের অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না বলে আবারো হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না, হবে না, হবে না। ঈদের পর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে। তা ধাপে ধাপে সরকার পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। এই আন্দোলনকে জোরদার করতে দলমত নির্বিশেষে পেশাজীবীসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একমঞ্চে আসার আহবানও জানান বিরোধী দলীয় নেতা।
গতকাল শনিবার মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এক ইফতার পার্টিতে প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের এলডি ভবন প্রাঙ্গনে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এই ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানগরের থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ১০ সহাস্রাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
খালেদা জিয়া দেশের বর্তমান দুরবস্থা তুলে ধরে বলেন, সরকার নিজে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে চায়। আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। ওই ধরনের নির্বাচন এদেশে করতেও দেয়া হবে না। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, সেতুর কাজ শুরু না করতেই সেখানে দুর্নীতি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক তা ধরে ফেলে এই ঋণচুক্তি বাতিল করেছে। একজন মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-দেশপ্রেমিক। আমি বলব, তিনি দেশপ্রেমিক নন, তিনি ছিলেন, টাকা প্রেমিক, অর্থ প্রেমিক। তিনি বলেন, দুর্নীতির জন্য এ সরকারকে একদিন জবাবদিহি করতে হবে। রাজধানীর সড়ক ও দেশের মহাসড়কের বেহাল অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই মন্ত্রী (সৈয়দ আবুল হোসেন) অর্থ লুটপাট করেছেন। রাস্তাঘাট ও মহাসড়কের কোনো উন্নয়ন ও সংস্কার করেননি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, সরকার দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার এবং মন্ত্রীরা এমনভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে যে এখন বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করেছে। দাতারাও এই প্রকল্পে অর্থ সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে। কেবল তাই নয়, বিশ্বব্যাংক ও দাতাদেশের অন্যান্য প্রকল্পেও অর্থ ছাড় হচ্ছে না।
খালেদা জিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা যেভাবে জনগণের অর্থ লুটপাট করে সম্পদ গড়েছে, তা তারা ভোগ করতে পারবে না। পৃথিবীর কোনো শাসকই এভাবে লুটপাটের সম্পদ ভোগ করতে পারেননি। খালেদা জিয়া তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মহানগরে গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সংকট, যানজট, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃক্মখলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুরবস্থার কথা তুলে ধরে এজন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, সাড়ে তিন বছরে সরকার দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশে অর্থনীতি বলতে কিছু নেই। বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন নিপীড়নের কঠোর সমালোচনা করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকারকে বিদায় করতে ১৮ দলীয় জোটের বাইরে যেসব রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীরা আছেন, তাদেরকে এক প্ল্যাটফর্মে শরিক হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। দেশকে বাঁচাতে, মানুষকে বাঁচাতে তাদের বিদায় করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
মহানগর সভাপতি ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেন, সৈয়দ আবুল হোসেন দুর্নীতি করে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছেন।
মঞ্চে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অব. অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, পিপলস পার্টির সভাপতি গরীবে নেওয়াজ, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মবিন, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি খন্দকার গোলাম মুর্তজা, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামারুজ্জামান খান, ডেমোক্রেটিক পাটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, প্রোভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, পেশাজীবী সম্মিলিত পরিষদের আহবায়ক ও দৈনিক আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনিসহ গত নির্বাচনে ঢাকার বিভিন্ন আসনে সংসদ সদস্যপ্রার্থীবৃন্দ উপবিষ্ট ছিলেন।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, বিজেপি‘র মহাসচিব শামীম আল মামুন, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, মাহমুদুল হাসান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, উকিল আবদুস সাত্তার, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রেজাউল করীম, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাইফুল আলম নীরব, শিরিন সুলতানা প্রমুখ নেতারা ইফতারে অংশ নেন।

