|
|
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ হবে না। এটা দলীয় সরকারেরই নামান্তর। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না। নির্বাচনও সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ হবে না। তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী দুঃশাসন-বিপন্ন মানবাধিকার প্রেক্ষিত বাংলাদেশ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
সংগঠনের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তজা, যুবদল সভাপতি এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) মোঃ হানিফ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, গ্রামীণ ব্যাংককে সরকার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। এ চেষ্টা গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করে দেবে। তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ড. ইউনূসের প্রতি আপনাদের আক্রোশ থাকতে পারে। সে জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করবেন না। এটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না। কেননা এটার মালিক শুধু ইউনূস নন, বাংলাদেশের হাজার হাজার দুঃস্থ, অসহায় নারীও। তিনি বলেন, ড. ইউনূস সারা পৃথিবীতে সম্মানিত আর এ সরকার একের পর এক তাকে অপমানিত করে যাচ্ছে। এটা সরকারের হীনমন্যতার অংশ। তিনি বলেন, আজ হুমায়ূন আহমেদকে নিয়েও এ সরকার বিতর্ক শুরু করেছে। তারা কাউকে সম্মান দিতে জানে না। এ সরকারের কাছ থেকেই আমাদেরকে সম্মানহানির বিষয়গুলো শিখতে হবে। কোন মানুষ প্রতিষ্ঠানকে তারা সম্মান দেখাতে পারে না। বিচার বিভাগ, দুদক, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এমনভাবে করা হয়েছে যে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। এ সরকার একটি অর্বাচীন, অপরিপক্ক এবং অদক্ষ সরকার। তা না হলে একটি সংসদ থাকতে আরেকটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলতো না। এই নজির কোথাও নেই। সরকারের এমন প্রস্তাব ও চিন্তাভাবনা অসাংবিধানিক। এ ধরনের নির্বাচন এ দেশে হতে পারে না।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, এ সরকারের কাছ থেকে আমরা শিখছি কিভাবে বিরোধী দলকে দমন করতে হয়। তাদের ওপর নির্যাতন চালাতে হয়। এ সরকার বিগত ২০ বছরের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে সম্পূর্ণভাবে পাল্টে দিয়েছে। এ সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। এজন্যই আমাদেরকে ক্ষমতায় যেতে হবে। তিনি বলেন, ১৮ দলীয় জোট আগামীতে ক্ষমতায় গেলে রাজনীতির ধারা সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে এনে প্রতিহিংসার রাজনীতিকে নির্মূল করবে। সংসদকে কার্যকর করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করবে।

