|
|
কয়েকদফা জানাযা শেষে আজ নারায়ণগঞ্জে দাফন
আব্দুল মতিন চৌধুরী
খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন মহলের শোক
স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন চৌধুরী আর নেই। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে গতকাল শনিবার সকালে ইন্তিকাল করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৮ বছর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল দুপুরে তার প্রিয় দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রথম নামাজে জানাযা শেষে তাকে বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়। সন্ধ্যায় লাশ আবার আনা হয় সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায়। এখানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আজ রোববার সংসদ প্রাঙ্গণে জানাযা শেষে তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
আব্দুল মতিনের ভাতিজা মনিরুজ্জামান চৌধুরী জানান, গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় বেইলি রোডের মনোয়ারা হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে আবদুল মতিন চৌধুরী মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৮ বছর। ২০০২ সালে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের পর সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা হয় মতিনের। এরপর থেকে তিনি অসুস্থতার মধ্যে ছিলেন। মনিরুজ্জামান চৌধুরী জানান, গত দুই মাস ধরে তার চাচা মনোয়ারা হাসপাতালে ছিলেন। মৃত্যু সংবাদ পেয়ে দুপুরে বেইলি রোড়ের বাসায় যান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সেখানে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি আরো জানান, আজ রোববার সকাল ১১টায় মতিনের দ্বিতীয় জানাযা হবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। এরপর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মতিনের প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। দলের প্রবীণ নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। নয়া পল্টনে তার লাশ নিয়ে আসার পর কফিনটি দলীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দিয়ে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কফিনে পুমাল্য অর্পণ করেন। এরপর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নেতৃবৃন্দ।
দলীয় নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে বিকেল তিনটায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আববাস, সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খায়রুল কবির খোকন, আব্দুল লতিফ জনি, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, হাবিব উন নবী খান, সাইফুল আলম নীরব, আব্দুল মালেক নেতৃবৃন্দসহ কয়েকশ' নেতা কর্মী-সমর্থক অংশ নেন।
আব্দুল মতিন চৌধুরী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ১৯৭৯ সাল থেকে চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে মতিন প্রথমে বস্ত্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী রাখা হয়। মতিন ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি দলের সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
মতিনের জন্ম ১৯৪০ সালের ১ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জের কাঞ্চনে। এক সময়ের মুসলিম লীগ নেতা মতিন চৌধুরী ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠন হলে এই দলে যোগ দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অবিবাহিত। দলীয় নেতা মতিনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন। শোকবার্তায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ বাস্তবায়নে আব্দুল মতিন চৌধুরী বিশাল অবদান রেখে গেছেন। অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকাও সাবেক মন্ত্রী মতিনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক, আব্দুল মতিন চৌধুরীর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে মহান আল্লাহর কাছে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবীণ বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন চৌধুরীর ইন্তিকালে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি আলহাজ্জ এডভোকেট নুরুল হক মজুমদার ও মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের শোক ও সমবেদনা জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে মুসলিম লীগ নেতৃদ্বয় বলেন, আব্দুল মতিন চৌধুরী একজন দেশপ্রেমিক সাহসী রাজনীতিবিদ ছিলেন। '৯০ স্বৈরাচারী আন্দোলনে তার ভূমিকা স্মরণ করার মতো। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সাথে সাথে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদ্যদের জানাই আন্তরিক সমবেদনা। মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করি মরহুমকে যেন জান্নাতবাসী করেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রবীণ নেতা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ মফস্বল মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম শোক প্রকাশ করেছে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দুর্দিনে সংকট উত্তরণের মধ্যস্থাকারীর সংকট দেখা দেবে। বামমাসাফোর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী ও মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের কারণে দেশ যখন সর্বস্তরে বিপর্যয়ের মুখে তখন এ নেতার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন করলো দেশবাসীকে। তারা বিবৃতিতে বলেন, পবিত্র মাহে রমযানের এ মাসে আল্লাহ তাকে চিরাচরিত নিয়ম অনুসারে দুনিয়া থেকে নিয়ে যাওয়ায় নিশ্চয়ই আল্লাহ পাকের ক্ষমা ও রহমত পাবেন। শোকসন্তপ্ত পরিবার ও তার নির্বাচনী এলাকা এবং দেশবাসীর সাথে শোকাহত ও সমবেদনা জানান।

