|
|
মিয়া হোসেন : পবিত্র রমযানের শেষের দিকে গরীবদের ঈদ উদযাপন করার জন্য ধনীদের উপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য বা খাদ্যের সমপরিমাণ অর্থ গরীবদেরকে দান করতে হয় সাদাকাতুল ফিতর হিসেবে। সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ হিসেবে হাদীসে এক সা বা অর্ধ সা পরিমাণ খেজুর, আঙ্গুর, যব, কিশমিশ, গম ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে প্রত্যেক দেশের আলেম-উলামা রমযানের মাঝামাঝিতেই জনপ্রতি সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ কত হবে তা বলে দেন। যমন ২০০৬ সালে আমাদের দেশে জনপ্রতি পঁয়ত্রিশ টাকা সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা ধার্য ছিল। ২০০৪ সালে ত্রিশ টাকা, ২০০৩ সালে জনপ্রতি পঁচিশ টাকা সাদাকতুল ফিতর বা ফিতরা ওয়াজিব হবে বলে আলেমগণ ফতোয়া দিয়েছিলেন। উক্ত হাদীসের আলোকে ১কেজি ৬শ ৫০ গ্রাম আটার স্থানীয় মূল্য অনুযায়ী দেশের আলেমগণ সাধারণত সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করে থাকেন। সে অনুযায়ী এবারের ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মাথাপিছু ফিতরার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেউ ইচ্ছা করলে নির্ধারিত ফিতরার চেয়ে বেশী তথা ১ কেজি ৬শ' ৫০ গ্রাম খেজুর বা কিশমিশের দাম ধরেও ফিতরা আদায় করতে পারবে। এ জন্য এবার সর্বোচ্চ ১হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত মাথাপিছু ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাদাকাতুল ফিতরের মাল বা অর্থ তাদেরকে দেওয়া যাবে যারা যাকাতের অর্থ পাওয়ার হকদার। মহাগ্রন্থ আলকুরআনের সূরা আততাওবার ষাট নাম্বার আয়াতের আলোকে এসব লোক হলো- ফকির অর্থাৎ যার সামান্য সম্পদ আছে (মান লাহু শাইয়ুন) কিন্তু এর মাধ্যমে যে তার সারা বছরের খাদ্যের সংকুলান দিতে পারে না তাকে ফকীর বলা হয়। এই সম্পদ যদি নেসাবের পরিমাণের চেয়ে কম হয় তবে তাকে সাদাকাতুল ফিতর দেয়া যাবে। মিসকিন অর্থাৎ যার কিছুই নেই (মান লাইছা লাহু শাইয়ুন), একেবারে নিঃস্ব তাকে মিসকিন বলা হয়। এদেরকে সাদাকাতুল ফিতরের টাকা দেওয়া যাবে। মুসাফির (ইবনুস সাবীল)। যাকাত আদায়কারী কর্মচারী। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, ঋণ পরিশোধের কোন উপায় নেই, ঋণের বোঝায় ভারাক্রান্ত ব্যক্তি। আল্লাহর পথে (ফি সাবীলিল্লাহ) দ্বীন কায়েমের পথে। যে সব দাসদাসী মুক্তির ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ এবং ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য অমুসলিমকে। তবে সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরার টাকার পরিমাণ যেহেতু অল্প তাই নিজ আত্মীয় স্বজনের মধ্যে যারা গরীব রয়েছে তাদের মধ্যে বণ্টন করাই বেশী কল্যাণের কাজ হবে। অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে ঈদের দিন সকালের মধ্যে ঈদের নামাযের পূর্বেই সাদাকাতুল ফিতর আদায় করে দিতে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
গোলাম ও শিশুদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব, অথচ গোলাম তো কোন কিছুরই মালিক নয়। আর শিশু তো শরীয়ত পালনে আদিষ্ট নয়, সুতরাং তারা কিভাবে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে? এ প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে, গোলামের সাদাকাতুল ফিতর মনিবের পক্ষ থেকে আর শিশুর সাদাকাতুল ফিতর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে আদায় করবে। কারণ অভিভাবক কিংবা মালিক তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করে। যেমন দেখা যায়, তারা কোন অন্যায় বা কারো কোন কিছু নষ্ট করলে তাদের অভিভাবক ও মালিককে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। অনুরূপভাবে হাদীসে ক্রীতদাস ও শিশু উল্লেখের দ্বারা তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যে শিশু ঈদের দিনের সুবহে সাদিকের পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছে তার পক্ষ থেকে অভিভাবকদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। আর ঈদের দিন সুবহে সাদিকের পর যে শিশু জন্মগ্রহণ করেছে তার ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে না।

