|
|
জাতিগত সহিংসতা
বাংলানিউজ : মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রাখাইন বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে সংঘটিত সাম্প্রতিক সহিংসতার সময় ‘ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের' ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার দূত টমাস ওজেয়া কুইন্টানা। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক এই রক্তাক্ত জাতিগত সহিংসতার ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে একটি স্বাধীন তদন্তের আহবান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘দেশটি নানা ধরনের যেসব মানবাধিকার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে এ ঘটনা তার অন্যতম।’’
গত শনিবার মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দূত টমাস ওজেয়া গত জুনের জাতিগত সহিসংতার পেছনের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য সরকারের প্রতি এ আহবান জানান। সংঘাতের সময় ও পরে সরকারি সেনা ও পুলিশ বাহিনীর দ্বারা দেশহীন রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সংঘটিত বিচার বহির্ভূত হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন স্বীকার করে তা যাচাই করারও আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘ দূত। তিনি বলেন, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ভয়াবহ মানবাধিবকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে সে ব্যাপারে আমি উদ্বিগ্ন।’’
মিয়ানমারে ছয় দিনের সফর শেষে শনিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন মিয়ানমারে জাতিসংঘ মানবাধিকার দূত টমাস ওজেয়া। তিনি বলেন, ‘‘এ মুহূর্তে আমি এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার অবস্থায় নেই। কিন্তু এগুলো বড় উদ্বেগের বিষয়। রাখাইন প্রদেশে আসলে কি ঘটেছিল সে বিষয়টি পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তা জরুরি।’’ আরাকান রাজ্যে দুই দিন সফরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘‘সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের দুর্ভোগের সাক্ষী আমি।’’ গত জুনে সহিংসতায় যেখানে কমপক্ষে ৭৮ জন নিহত হয়। বাস্তুহারা হয় হাজার হাজার মানুষ যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা মুসলমান।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গারা নির্যাতন, হত্যা, বল প্রয়োগ, ধর্ষণের শিকার হওয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ।’’ উল্লেখ্য, নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, গত জুনে জাতিগত সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্বিচারে গুলী চালিয়েছে। নির্যাতন, ধর্ষণ ও নানাভাবে বল প্রয়োগ করেছে। মানবাধিকার দূত টোমাস ওজেয়া তার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে পেশ করবেন।

