Quantcast
ঢাকা, সোমবার 6 August 2012, ২২ শ্রাবণ ১৪১৯, ১৭ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৯১ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বিএফইউজে ও ডিইউজের ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া

প্রধানমন্ত্রীর ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' প্রস্তাব আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য পেশ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া -সংগ্রাম

ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যেই ঐ প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকার জন্য এবং আবার ক্ষমতায় আসার জন্য লন্ডনে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন,  আমরা তার এই প্রস্তাব মানি না। আমরা এটা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন চাই। সংবিধানকে সংশোধন করতে হবে। আর তা সরকারকেই করতে হবে। আমাদের এই দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলতেই থাকবে। তা পর্যায়ক্রমে তীব্র থেকে আরো তীব্রতর হবে।

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে হটাতে জাতীয় ঐক্যের আহবানও জানান খালেদা জিয়া। এতে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ পেশাজীবী নেতারা অংশ নেন।

সম্প্রতি লন্ডনে বিবিসি বাংলা সার্ভিসকে  দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনকালে বিরোধী দলের সমন্বয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সরকার গঠনে তারা (বিরোধী দল) যদি অংশীদারিত্ব চায় সেটা আমরা দিতে পারি। সবাই মিলে আমরা (নির্বাচন) করতে পারি। তখন একটা ছোট মন্ত্রিসভা করে ইলেকশন করতে পারি। এজন্য বিএনপিকে সংসদে এসে প্রস্তাব দেয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত বছরের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, যা ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের দাবির মুখে সংবিধানে সংযুক্ত হয়েছিল। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর  থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে বিএনপিসহ বিরোধী দল। গত কয়েকটি ইফতার পার্টিতে খালেদা জিয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব সম্পর্কে কথা বললেও গতকালই প্রথম তিনি সরাসরি তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিলেন।

খালেদা জিয়া জোরালো ভাষায় বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। ঈদের পর আমরা এক প্ল্যাটফর্মে সবাইকে এনে আন্দোলন শুরু করবো।   দেশের বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করে তিনি বলেন, দেশ এক কঠিন অবস্থার মধ্যে অতিক্রম করছে। তাই দেশের মানুষ এই দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীনদের মদদে সারা দেশে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি চলছে। যখন তখন মানুষ হত্যা হচ্ছে।

সাংবাদিক হত্যাকান্ডের কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এ সরকারের গত সাড়ে তিন বছরে ১৬ জন সাংবাদিক হত্যা হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে। তারা একের পর এক অসাংবিধানিক কাজ করছে। দেশে আজ গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই। তাই এই সরকারকে কোনোভাবে গণতান্ত্রিক সরকার বলা যাবে না। সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের চলমান আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাস্তা-ঘাটের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রী নিজেই চাঁদপুরে স্বীকার করেছে, রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো নয়। তারা সাড়ে তিন বছরে সড়ক-মহাসড়কের কোনো সংস্কার করেনি। এই অবস্থা আর চলতে দেয়া যায় না। সেজন্য ব্যর্থ ও অযোগ্য সরকারকে হটাতে আমাদের সংগ্রামে নামতে হবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে মঞ্চে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নিউজ টু ডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, আমান উল্লাহ কবির, আতিকুল আলম, দৈনিক আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান,  দৈনিক দিনকাল সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, বিএফইউজে মহাসচিব শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস শহীদ, সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা প্রমুখ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে ইফতার করেন।

এছাড়া মঞ্চে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, মির্জা আববাস, নজরুল ইসলাম খান, ড্যাব মহাসচিব অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এ কে এম নাজির আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন, চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ ইফতারে অংশ নেন।

ইফতারে কবি মাহমুদ শফিক, আবু সালেহ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অধ্যাপক আবদুল গফুর, মাহফুজ উল্লাহ, খন্দকার মনিরুল আলম, এম এ আজিজ, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, মোস্তফা কামাল মজুমদার, এস এম মেজবাহ উদ্দিন, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, মাসুদুর রহমান খলিলি, বিএফইউজে'র প্রচার সম্পাদক আবু ইউসুফ, সরদার ফরিদ আহমদ, এম আবদুল্লাহ, কাজী রওনাক হোসেন, কাদের গনি চৌধুরী, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, ডিইউজের সদস্য শরীফ আবদুল গোফরান, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি নুরুদ্দিন আহমেদ, সাব এডিটর কাউন্সিলের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

সাংবাদিক ইউনিয়নের এই ইফতারে রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, ইসলামিক পার্টির সভাপতি এডভোকেট আবদুল মবিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিপলস পার্টির গরীবে নেওয়াজ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, ন্যাপ-ভাসানীর শেখ আনোয়ারুল হক, মুসলিম লীগের আতিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মহাসচিব ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ডেমোক্রেটিক পার্টির সাইফুদ্দিন মনি, ন্যাপ সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ নেতা ইফতারে অংশ নেন। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মুনাজাত করেন দৈনিক সংগ্রামের সহকারী বার্তা সম্পাদক ও ডিইউজের সংগ্রাম ইউনিটের সাবেক সভাপতি সাদাত হোসাইন।

ইফতার শেষে খালেদা জিয়া প্রেস ক্লাবে মাগরিবের নামায আদায়ের পর সাংবাদিক লাউঞ্জে চা-চক্রে মিলিত হন। তিনি এই সময়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।