Quantcast
ঢাকা, সোমবার 6 August 2012, ২২ শ্রাবণ ১৪১৯, ১৭ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৬৬৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

১২ আগস্ট হুইল চেয়ারে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হবে মাওলানা সাঈদীকে

তদন্ত কর্মকর্তার অসত্য বক্তব্য নিজের লেখা ডায়েরিতে ফাঁস হয়ে গেল

শহীদুল ইসলাম : তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বললেন, আমি ১৯৭১ সালের ক্ষতিগ্রস্ত মনিন্দ্রনাথ মিস্ত্রির বাড়িতে গিয়েছিলেন। এডভোকেট মিজানুল ইসলাম জিজ্ঞেস করলেন ঐ বাড়িতে গিয়ে কাকে কাকে পেলেন, জবাব এলো আমার নোটে নেই, ঐ বাড়িতে গিয়ে কার সাথে কথা বললেন, কি করলেন এ বিষয়ে আপনার কেস ডায়রি বা নোটে কি লিখেছেন তা একটু আদালতকে পড়ে শুনান। তখনই বেকায়দায় পড়ে যান হেলাল উদ্দিন। কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক কথা বলে কাটানোর চেষ্টা করলেন। তখন আদালত নিজেই কেস ডায়রি দেখে বলেন, আইও সাহেব মনিন্দ্রনাথ মিস্ত্রির বাড়িতে যাননি। ডায়রিতে লিখা আছে লোকজন ঐ বাড়িটি দেখিয়ে দিয়েছিল। সত্য বলার শপথ নিয়ে এভাবেই ধরা পড়লেন তদন্ত কর্মকর্তা যে তিনি মিথ্যা বলেছেন। আশিস কুমার মন্ডল, সুমতি রানী মন্ডল ও সমর মিস্ত্রির জবানবন্দি আদৌ তিনি নেননি এবং নিজে তাদের প্রত্যেকের নামে একটি করে জবানবন্দি লিখে আদলতে দাখিল করেছেন মর্মে অভিযোগ করেন এডভোকেট মিজান। পরে তাদেরকে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন আদালতের কাছে। এই অভিযোগও করেন মিজানুল ইসলাম। হেলাল উদ্দিন অবশ্য অভিযোগ সত্য নয় বলে উল্লেখ করলেও কোনো জোরালো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশ্ববরেণ্য মেফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অনুপস্থিতিতে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের চলমান জেরায় গতকাল এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গতকাল সকাল সোয়া ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত একটানা জেরা করা হয় তাকে। এডভোকেট মনজুর আহমেদ আনসারী জেরায় এডভোকেট মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন। মাওলানা সাঈদীকে আগামীদিন আদালতে আনা সম্ভব কিনা সে ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল জানতে চান প্রসিকিউটর হায়দার আলীর কাছে। তিনি জানান, তার শারিরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভাল- তবে হাটতে পারেন না। ট্রাইব্যুনাল তখন আগামী ১২ আগস্ট হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে আদালতে আনার ব্যবস্থা করতে হায়দার আলীর প্রতি নির্দেশ দেন। বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও এ কে এম জহির আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার পুনরায় জেরা করা হবে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে।

গতকালের জেরার বিবরণ নিম্নরূপ :

প্রশ্ন : নলবুনিয়ার সিরাজ ওরফে সাহেব আলীর বাড়িতে পাকিস্তান আর্মি কত তারিখে গিয়েছিল বলে আপনি তদন্তকালে তথ্য পেয়েছেন?

উত্তর : আমার নোটে তারিখ উল্লেখ নেই।

প্রশ্ন : তারিখ অনুসন্ধানের জন্য কাকে কাকে জিজ্ঞেস করেছেন?

উত্তর : সাক্ষী মোস্তফা এবং তার আরেক ভাই তোতা মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।

প্রশ্ন : তোতা মিয়া এবং মোস্তফা কি একই বাড়িতে থাকে।

উত্তর : জি, একই বাড়িতে থাকে।

প্রশ্ন : সাহেব আলীর আর কোনো আত্মীয়-স্বজন নলবুনিয়া গ্রামে ছিল কিনা সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই বিধায় বলতে পারছি না।

প্রশ্ন : নলবুনিয়া গ্রামের ৫৫ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের খোঁজ করেছিলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : সাহেব আলীকে তার নলবুনিয়ার বাড়ি থেকে আটক করে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়?

উত্তর : পিরোজপুরে।

প্রশ্ন : নলবুনিয়া গ্রামে বর্তমানে কোন থানার অন্তর্গত?

উত্তর : জিয়ানগর থানা।

প্রশ্ন : নলবুনিয়া থেকে পিরোজপুর যেতে পারের হাট হয়ে যেতে হয়।

উত্তর : আলাদা রাস্তা দিয়েও যাওয়া যায়।

প্রশ্ন : পথে চালনা ব্রিজ পড়ে?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : চালনা ব্রিজ সাহেব আলীর বাড়ি থেকে কোন দিকে কত দূরে?

উত্তর : আধা কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে।

প্রশ্ন : চালনা ব্রিজের আশপাশে জনবসতি আছে?

উত্তর : জি, আছে।

প্রশ্ন : চালনা ব্রিজেরআশপাশের জনবসতির কাউকে আপনি সাহেব আলীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : সেতারা বেগম, রানী বেগম ও মোস্তফা কখনো চিথলিয়ায় গিয়েছিলেন মর্মে কোন তথ্য আপনার কাছে আছে?

উত্তর : আমার রেকর্ড নেই।

প্রশ্ন : সাহেব আলীর চাচা আতাহার আলী হাওলাদারের বাড়ি বাদুরা গ্রামে।

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : পিরোজপুরে তৎকালীন এসডিওর বাংলোয় তদন্তকালে গিয়েছিলেন?

উত্তর : না, যাইনি।

প্রশ্ন : আদালতে হাজির করার জন্য সাক্ষী সেতারা বেগম, রানী বেগম ও মোহাম্মদ মোস্তফা হাওলাদারের সমন তাদের বাড়িতে কি একই সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনার সাথে তখন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা কে ছিলেন?

উত্তর : এস আই আবদুল মালেক খান।

প্রশ্ন : তার বাড়ি যাওয়ার বিষয়টি আপনার নোটে আছে?

উত্তর : নোটে নেই, স্মরণে আছে।

প্রশ্ন : এস আই মালেকের সাথে তাদের বাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে সর্বশেষ আপনার সাথে কবে কথা হয়?

উত্তর : আমার স্মরণ নেই।

প্রশ্ন : এস আই আব্দুল মালেক সর্ব প্রথম যেদিন যান তার সাথে আর কে কে ছিলেন?

উত্তর : নাম বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : এস আই আবদুল মালেক সর্বশেষ সাহেব আলীদের বাড়িতে গিয়ে কাকে কাকে পেয়েছিলেন?

উত্তর : কে কে ছিলেন সে মর্মে কোন রিপোর্ট তিনি দেননি।

প্রশ্ন : আবদুল মালেক সর্বশেষ বার নলবুনিয়ায় গেলে কার কার সাথে দেখা হয়?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : অন্যান্যের হাজিরার ব্যাপারে আবদুল মালেক একই কথা আপনাকে বলেছিল।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : এই সাক্ষীদের হাজির করার জন্য এস আই মালেক স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বরদের সাথে যোগাযোগ করেছিল কিনা?

উত্তর : তিনি আমাকে নির্দিষ্ট করে বলেননি।

প্রশ্ন : এই ৩ সাক্ষীকে হাজির করার বিষয়ে ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগমের কাছে খুলনায় কাউকে পঠিয়েছিলেন?

উত্তর : পাঠাইনি। কারণ সাক্ষীরা আশপাশে লুকিয়ে আছে বলে জানিয়েছিল।

প্রশ্ন : এই ৩ সাক্ষীকে হাজির করার জন্য নলবুনিয়া গ্রামে কোন বাড়ি তল্লাশী করেছিলেন?

উত্তর : করেছিল বলে মালেক জানিয়েছেন।

প্রশ্ন : চালনা ব্রিজের দিকে আসার পথে পার্শ্ববর্তী গ্রাম কোনটি?

উত্তর : হোগলাবুনিয়া।

প্রশ্ন : নলবুনিয়ার অপরদিকে গ্রামের নাম কি?

উত্তর : ওমেদপুর।

প্রশ্ন : এস আই আব্দুল মালেক খান যে সমস্ত বাড়ি তল্লশী করেছিলেন তার কোন সিজার লিস্ট আপনাকে দিয়েছিলেন?

উত্তর : দেয়নি, আমি দেয়ার প্রয়েজানও মনে করি নাই।

প্রশ্ন : এই সাক্ষীদের হাজির করার ব্যাপারে এস আই মালেক প্রতিদিন (ডে টু ডে) যেসব রিপোর্ট থানায় দাখিল করেছে তা কি আপনি পর্যালোচনা করেছেন?

উত্তর : আমাকে দেয়নি। দেখার প্রয়োজনও মনে করি নাই।

প্রশ্ন : মার্চ মাসের পরে অর্থাৎ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীদের সম্পর্কে প্রতিবেদন দেয়ার পরে কি এই ৩ সাক্ষীর ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েছেন?

উত্তর : নেইনি, কারণ আমি নিজেই সাক্ষী দেয়ার কাজে ব্যস্ত আছি।

প্রশ্ন : ইব্রাহিম কুট্টির হত্যাকান্ডের বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে ঢাকায় তদন্ত সংস্থায় এসে তথ্য দেয়ার জন্য কোন নোটিশ দিয়েছিলেন?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : ইব্রাহিম কুট্টি ও সাহেব আলীদের বাড়িতে (নলবুনিয়া) ১৯৭১ সালে ১ অক্টোবর মোতাবেক বাংলা ১৩ আশ্বিন শুক্রবার ১৩৭৮ তারিখে পাকিস্তান আর্মি এবং তাদের সহযোগিরা গিয়েছিলেন এই তথ্য আপনি তদন্তকালে পেয়েছেন।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি তদন্তকালে আরো তথ্য পেয়েছিলেন যে ঐদিন ঐস্থানেই ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করা হয়।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি আরো তথ্য পেয়েছিলেন যে, ঐদিন সিরাজ ওরফে সাহেব আলী ও তার মাকে পাকিস্তান আর্মি ধরে পিরোজপুরে নিয়ে যায়।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি তদন্তকালে এই তথ্যও পেয়েছিলেন যে, পিরোজপুরে সাহেব আলী ওরফে সিরাজকে মেরে ফেলা হয় এবং তার মাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি আরো তথ্য পেয়েছিলেন যে, ঐ দিন পাকিস্তান আর্মির সাথে দানেস মোল্লা, আজাহার আলী, আশ্রাব আলী, আব্দুল মান্নান হাওলাদার, আইয়ুব আলী চৌকিদার, কালাম চৌকিদার, রুহুল আমিন পিতা আনোয়ার হোসেন, সাং-পারের হাট, আবদুল হাকিম মুন্সী, মোমিন উদ্দিন, সেকেন্দার আলী সিকদার, শামসুর রহমান সিএসাআই, মোসলেম মওলানা সাহেব আলীদের বাড়িতে গিয়ে ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করে। তার পিতাকে নির্যাতন করে এবং সাহেব আলী ও তার মাতাকে ধরে নিয়ে নৌকায় করে পিরোপুরে নিয়ে যায়।

উত্তর : বর্ণিত বক্তব্য সর্বাংশে সত্য নয়। তবে,সাক্ষীদের বক্তব্য অনুযায়ী তার ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার ২/৩ মাস পর রাত ৩টার সময় অস্ত্রধারী রাজাকার, পিস কমিটির সদস্য দানেস মোল্লা, সেকেন্দার সিকদার এবং দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ওরফে দেলু আরো অনেককে লইয়া পাকিস্তান আর্মি আজাহার আলীর বাড়িতে আসে। তার ঘর তল্লাশী করিয়া আজাহর আলী, তার স্ত্রী সেতারা বেগম এবং সাহেব আলীকে আটক করে। আজহার আলীকে বাড়িতে মারধর করিয়া সাহেব আলীকে পিরোজপুরে নিয়ে গিয়ে গুলী করে হত্যা করে এবং সেতারা বেগমকে ছাড়িয়া দেয়।

প্রশ্ন : ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম ১/১০/১৯৭১ তারিখে নলবুনিয়ায় তার স্বামীকে হত্যা, তার পিতামাতাকে নির্যাতন এবং তার মাতা ও ভাই সাহেব আলী ওরফে 

সিরাজকে ধরে পিরোজপুরে নিয়ে তাকে হত্যা ও তার মাকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে পিরোজপুর এসডিও আদালতে পাকিস্তান আর্মি এবং উল্লেখিতদের আসামী করে মামলা দায়ের করেছিলেন।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : এই নালিশি মামলাটি পরবর্তীকালে এসডিও পিরোজপুরের নির্দেশনায় পিরোজপুর থানার মামলা নং ৯, তারিখ ১৬/৭/১৯৭২ এজাহার হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি এই তদন্তে আরও পেয়েছিলেন যে ঐ নালিশী এজাহারে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সাক্ষী করা হয়েছিল।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হয়ে পড়বে বিধায় আপনি ঐ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেননি, সাক্ষীও করেননি।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : ইব্রাহিম কুট্টি ও সাহেব আলীকে হত্যা, সাহেব আলীর পিতা-মাতাকে নির্যাতনের বিষয়ে আপনার আনীত অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হবে বিধায় সেতারা বেগম, রানী বেগম, মোস্তফা হাওলাদারদের আপনি ট্রাইব্যুনালে হাজির করেননি।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : একই উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মমতাজ বেগমের দায়েরকৃত ঐ মামলায় বাকি ৭ জনকে আপনি জিজ্ঞাসাবাদ করেননি, সাক্ষীও করেনি।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : তদন্তকালে আপনি আরও পেয়েছিলেন যে ঐ মামলাটি জি.আর ৩৭৮/৭২ হিসেবে নিবন্ধিত আছে।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি তদন্তকালে আরও পেয়েছিলেন যে, ঐ মামলায় ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছিল।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : ঐ মামলার অভিযোগপত্রে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম না থাকায় আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে ঐ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন?

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীর বাড়ি কোন গ্রামে?

উত্তর : ওমেদপুর।

প্রশ্ন : তার জবানবন্দী নেন কত তারিখে?

উত্তর : ২০/৮/২০১০ তারিখে।

প্রশ্ন : তার বাড়িতে আপনি সর্বপ্রথম কবে যান?

উত্তর : ঐ তারিখেই।

প্রশ্ন : উনার পিতার পেশা কি ছিল।

উত্তর : সেটা আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : বিশাবালীর পেশা কি ছিল।

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : তার বৈবাহিক অবস্থা কি ছিল?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : বিশাবালীর কাকা, জ্যাঠা কেউ আছে কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ করেছেন?

উত্তর : পাওয়া যায়নি।

প্রশ্ন : সুখরঞ্জন বালীর বর্তমান পেশা কি?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : আদালতের সমন নিয়ে তার বাড়িতে আপনি কতবার গিয়েছিলেন?

উত্তর : আমি নিজে একবার গিয়েছি, তারিখ সময় মনে নেই।

প্রশ্ন : তার বাড়িতে যখন উপস্থিত হন তখন আপনার সাথে অত্র মামলার অন্য কোন সাক্ষী ছিল?

উত্তর : মিজানুর রহমান তালুকদার ছিল।

প্রশ্ন : সুখরঞ্জন বালীর বাড়িতে যাওয়ার ঘটনাটি ছিল মিজানুর রহমান তালুকদারের আদালতে সাক্ষী দেয়ার আগে?

উত্তর : না, পরে।

প্রশ্ন : মিজানুর রহমান তালুকদারকে কোথায় পেয়েছিলেন?

উত্তর : পারেরহাটে।

প্রশ্ন : পিরোজপুরে মিজানুর রহমান তালুকদারের বাড়ি কোথায়?

উত্তর : ইন্দুরকানী থানার টগরা গ্রামে।

প্রশ্ন : আপনি কি টগরা গ্রামে উনার বাড়িতে গিয়েছিলেন?

উত্তর : জি, না।

প্রশ্ন : মিজানুর রহমান তালুকদারের জবানবন্দী আপনি কত তারিখে কোথায় নিয়েছিলেন?

উত্তর : ২০/১/২০১১ তারিখে ঢাকায় তদন্ত সংস্থার অফিসে।

প্রশ্ন : ঐ তারিখের আগে কি উনার সাথে আপনার দেখা হয়েছিল?

উত্তর : জি, না।

প্রশ্ন : উনার পেশা কি?

উত্তর : ব্যবসায়ী।

প্রশ্ন : ব্যবসা কি ঢাকায় না অন্য কোথায়ও করে?

উত্তর : ঠিকাদারী ব্যবসা আছে। তবে কোন এলাকায় ব্যবসা করে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব না।

প্রশ্ন : আদালতের সমন নিয়ে যখন যান সুখরঞ্জন বালীর বাড়িতে কাকে পেয়েছিলেন?

উত্তর : তার স্ত্রী ও মেয়েকে।

প্রশ্ন : আশপাশের কাউকে জিজ্ঞেস করেছিলেন।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : সেখানে কতক্ষণ ছিলেন?

উত্তর : এক/দেড় ঘণ্টা।

প্রশ্ন : এই সমনের মধ্যে আপনারা অন্য কোন বাড়িতে যাননি।

উত্তর : জি, না।

প্রশ্ন : স্থানীয় যারা ঐ সময় উপস্থিত হয়েছিল তাদের নাম আপনার স্মরণ নেই।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আপনি কি পরে পিরোজপুর ফিরে যান?

উত্তর : না, পারেরহাটে পুলিশ ক্যাম্পে যাই।

প্রশ্ন : তখন ঐ ক্যাম্পের ইনচার্জ কে ছিলেন?

উত্তর : নাম মনে নেই।

প্রশ্ন : পরবর্তীতে সুখরঞ্জন বালীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য কাকে দায়িত্ব দেন?

উত্তর : ওসি ইন্দুরকানী থানাকে বলেছিলাম এবং তার মেয়েকে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বলেছিলাম।

প্রশ্ন : ডায়েরী আপনার উপস্থিতিতে হয়েছিল?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : মেয়ের নাম কি?

উত্তর : মনিকা রানী মন্ডল।

প্রশ্ন : ডায়েরী নং কত?

উত্তর : ইন্দুরকানী থানার ডায়েরী নং ৭৭৩ তারিখ ২৫-২-২০১২। যাতে শুধু নিখোঁজ সংবাদ ছিল।

প্রশ্ন : ঐ ডায়েরীর তদন্তভার কাকে দেয়া হয়েছিল?

উত্তর : এসআই মোহাম্মদ ওসমান গনি।

প্রশ্ন : তদন্ত করার জন্য উনি ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়েছিলেন?

উত্তর : উনি আমার কাছে প্রদত্ত রিপোর্টে তা উল্লেখ করেননি। সিডিটি এখনো তদন্তাধীন আছে বলে আমি জানি।

প্রশ্ন : স্থানীয় রাজাকার যারা ছিল তারা তো ঐ এলাকারই (ইন্দুরকানী থানাধীন)।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : বিশাবালীকে জনৈক রাজাকার গুলী করে হত্যা করে বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ আছে। ঐ জনৈক রাজাকার কে? এ ব্যাপারে অসুন্ধান করেছেন?

উত্তর : চেষ্টা করেছি। নাম পাইনি।

প্রশ্ন : মাহবুবুল আলম হাওলাদার ইন্দুরকানী থানায় যে মামলা করেছিলেন তাতে এই সুখরঞ্জন বালি একজন সাক্ষী।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : মাহবুবের বাড়ির নিকটেই সুখরঞ্জনের বাড়ি।

উত্তর : একেবারেই নিকটে নয় কোয়ার্টার কিঃ মিঃ দূরে।

প্রশ্ন : সুখরঞ্জন বালী আপনার কাছে জবানবন্দী প্রদানকালে মাহবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়ি ১৯৭১ সালে লুণ্ঠন হওয়া সম্পর্কে কোন কথা নেই।

উত্তর : জি, নেই।

প্রশ্ন : সুখরঞ্জন বালী প্রকৃতপক্ষে আপনার নিকট কোন জবানবন্দী দেননি।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি সাঈদী সাহেবকে জড়িয়ে ১৯৭১ সালের ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য সুখরঞ্জন বালীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। এতে তিনি রাজি হননি।

উত্তর : সত্য নয়।

 

প্রশ্ন : আপনার শেখানো মতে সুখরঞ্জন বালী আদালতে সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় আপনি তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেননি।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : সাক্ষী আশিশ কুমার মন্ডলের সাথে আপনার প্রথম যেদিন সাক্ষাৎ হয় সেই দিনই জবানবন্দি নিয়েছেন।

উত্তর : জি, ২০/০৯/২০১০ তারিখে প্রথম সাক্ষাতের দিনই তার জবানবন্দি নিই পিরোজপুর শহরে মাছিমপুরে উনার বাড়িতে।

প্রশ্ন : তার পিতার নাম কি?

উত্তর : হরিপদ মন্ডল।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালে তিনি কি করতেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : তার পিতার পেশা কি ছিল?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : আপনি তার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন?

উত্তর : তার মা সুমতি রানী মন্ডল, তার বয়স ৭৬ বছর।

প্রশ্ন : আশিশ কুমার মন্ডলরা কয় ভাই বোন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : আপনি যখন তদন্তে যান তখন আশিশ কুমার মন্ডলের পেশা কি ছিল?

উত্তর : ব্যবসা করে। কি ব্যবসা তা বলতে পারব না। পিরোজপুর শহরেই ব্যবসা করে।

প্রশ্ন : আপনি উনার ব্যবসাস্থলে তদন্তকালে এবং তদন্তের পরেও যাননি।

উত্তর : জি, যাইনি।

প্রশ্ন : উনার বাড়ি থেকে মধ্য মাছিমপুরের বাসস্ট্যান্ডের পেছনের জায়গাটি কত বড় ছিল?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : মধমাছিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আশিশ কুমার মন্ডলের বাড়ি কোন দিকে কত দূরে?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : আশিশ কুমার মন্ডল ও তার মা সুমতি রানী মন্ডল একই বাড়িতে বাস করে।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : আশিশ কুমার মন্ডলের নানা বাড়ি কোথায়?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : সুমতি রানীরা কত ভাই বোন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : মনিন্দ্রনাথ মিস্ত্রির বাড়ি আশিশ কুমার মন্ডলের বাড়ির কোন দিকে কত দূরে?

উত্তর : ৩/৪টি বাড়ি পরে। দিক আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : মনিন্দ্রনাথ মিস্ত্রির বাড়ি গিয়েছিলেন আপনি?

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : ঐ বাড়িতে গিয়ে কাকে কাকে পেলেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই। মিস্ত্রিদের কাউকে পাইনি।

প্রশ্ন : তার বাড়িতে কত তারিখ ক'টায় যান?

উত্তর : ২০/০৯/১০ তারিখ ১৫টা থেকে ১৬টা ১৫ মি. তার মধ্যে।

প্রশ্ন : মনিন্দ্রনাথের বাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে আপনি ডায়েরিতে কি লিখেছেন?

উত্তর : এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। ডায়েরিতে কিছু লেখা নেই, ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা ডায়েরি দেখে বলেন, বাড়িতে যাওয়া হয়নি। লোকজন মনিন্দ্রনাথের বাড়ি দেখায়ে দেয়। আদালত বলেন, মনিন্দ্রর বাড়িতে তদন্ত কর্মকর্তা যাননি।

প্রশ্ন : উপেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি যগেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি, সুরেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি, মতিলাল মিস্ত্রি যগেশচন্দ্র মন্ডল, সুরেন মন্ডলের বাড়িতেও আপনি তদন্তকালে যাননি।

উত্তর : তাদের বাড়িতে গিয়েছি কিনা সে সম্পর্কে আমার নোটে কিছু নেই।

প্রশ্ন : অজ্ঞাতনামা আরো ৬ জনকে হত্যার বিষয়ে ঐ এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রবীণ লোকদের কাছে খোঁজ-খবর নিয়েছেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : আশিশ কুমার মন্ডল যে এলাকায় থাকেন ঐ এলাকায় মন্ডল পদবীর অন্যকোনো লোককে পেয়েছেন?

উত্তর : আমার নোটে নেই।

প্রশ্ন : আশিশ কুমার মন্ডলের জবানবন্দি নেয়ার দিন আপনি সুমতি রানী মন্ডলের ও সমর মিস্ত্রির জবানবন্দিও নিয়েছেন সুমতি রানীর বাড়িতে।

উত্তর : জি, একই বাড়িতে একই দিন ২০/০৯/২০১০ তারিখে।

প্রশ্ন : সুমতি রানী মন্ডল তার জবানবন্দিতে কোনো বিধবার নাম বলেননি।

উত্তর : জি, বলেননি।

প্রশ্ন : মধ্য মাছিমপুর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে যে ১৯/২০ জনকে হত্যা করার কথা সাক্ষী আশিশ কুমার মন্ডল, সুমতি রানী মন্ডল ও সমর মিস্ত্রি উল্লেখ করেছে, সেই ১৯/২০ জনের কোনো তথ্য বা পরিচয় পাওয়া যায়নি। এই ৩ জনের জবানবন্দির বক্তব্যে এলজিইডি এবং পেছনে অবস্থিত ধোপাবাড়ি এলাকায় নিহতদের সম্পর্কে কোনো বক্তব্য নেই।

উত্তর : জি।

প্রশ্ন : সমর মিস্ত্রির পেশা ১৯৭১ সালে কি ছিল, এখন কি পেশা?

উত্তর : জানা নেই।

প্রশ্ন : সুমতি রানীর স্বামী কোন সালে মারা গেছে?

উত্তর : আমার নোটে নেই বিধায় বলতে পারছি না।

প্রশ্ন : সাক্ষী আশিশ কুমার মন্ডল, সুমতি রানী মন্ডল ও সমর মিস্ত্রির যে বক্তব্য আপনি আদালতে দাখিল করেছেন তা ঐসব সাক্ষীর প্রদত্ত জবানবন্দি নয়।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনি তাদের নামে যে জবানবন্দি দাখিল করেছেন তা আপনার বর্ণিত বক্তব্য।

উত্তর : সত্য নয়।