Quantcast
ঢাকা, সোমবার 6 August 2012, ২২ শ্রাবণ ১৪১৯, ১৭ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৯৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের অভাবে বিশ্বে গণজাগরণের সৃষ্টি হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই শান্তি ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গণজাগরণের সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র ছাড়া সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি টেকসই হতে পারে না। শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজে দারিদ্র্য অসাম্য, বঞ্চনা এবং প্রান্তিকীকরণ বৃদ্ধি পায় এবং যা উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয়। প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার রূপসী বাংলা হোটেলে জনগণের ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়ন শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণকালে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি টেকসই শান্তির জন্য ন্যায়বিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটা তখনই অর্জন সম্ভব যখন ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনগণকে অর্থপূর্ণ উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করা যাবে।

তিনি জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ অধিবেশনে শান্তি, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের জন্য জনগণের ক্ষমতায়ন শীর্ষক তার উত্থাপিত মডেল আন্তরিকভাবে গ্রহণ করার জন্য উপস্থিত বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান এই ধারণাকে আরো শক্তিশালী করবে এবং এটি বিশ্ব মানবের কল্যাণে একটি ধ্রুপদী, সার্বজনীন ও কার্যকর মডেলে পরিণত হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নারায়ন কাজি সেরেস্তা, শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রফেসর জিএল পেইরিস, ভারতের পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী জয়রাম রমেশ, ভুটানের পূর্ত ও আবাসন মন্ত্রী নিয়নপো ইয়েশী জিমবা, মালদ্বীপের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী হামেদ, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ড. জন ক্লোস ও ইউনেস্কোর ডেপুটি মহাপরিচালক গেটাচিউ ইনগিদা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি এবং ঢাকা ও নয়াদিল্লীর বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থা ও ডিপ্লোমেটিক মিশনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সকলের জন্য সমাজ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে রিও'তে শুরু অভিযাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে কোপেনহেগেনে, ২০০০-এ নিউইয়র্কে এবং চলতি বছর আবারো রিও'তে এসে সে লক্ষ্য অপূর্ণই থেকে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও শান্তি অধরাই থেকে যাচ্ছে। অথচ সবধরনের উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে। এছাড়া নতুন নতুন সমস্যা যেমন ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট ও খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ঋণ সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, সবুজ ও দূষণমুক্ত প্রযুক্তির অভাব এবং ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা দারিদ্র্য সমাজগুলোকে অতি দারিদ্র্যতার দিকে ঠেলে দিয়ে মূল ধারা বিচ্ছিন্ন করছে।

প্রকৃত উন্নয়নের জন্য জনগণের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, এজন্য প্রয়োজন দারিদ্র্য বিমোচন, বৈষম্য দূরীকরণ, সবধরনের বঞ্চনার অবসান, সবার জন্য কর্মসংস্থান, সবার অধিকতর অংশগ্রহণ, টেকসই এবং সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি ও মানব সম্পদ উন্নয়ন জোরদার এবং উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করা।