|
|
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা : শৈলকুপায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপার বড়দাহ থেকে শেখপাড়া বাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ও এলাকার কয়েকশ' মানুষ আগ্নেয়াস্ত্র, ঢাল সড়কি, রামদা লাঠিসোঠা নিয়ে প্রকাশ্যে মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। ঝিনাইদহ ও শৈলকুপা থেকে অতিরিক্তি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সকাল ১০টা থেকে ৩ ঘণ্টা খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে ছাত্রলীগের উভয় গ্রুপ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। মহাসড়কের বড়দাহ এলাকায় বিআরটিসি বাস ভাংচুর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এতে আহত হয় ১২ যাত্রী। বাস ভাংচুরের ঘটনা ঘটে শেখপাড়া বাজারেও। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের বিবাদমান দু'গ্রুপের মধ্যে দ্বনদ্ব ও সংঘাত চলে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রলীগের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিন ও যুগ্ম সম্পাদক কাশেম মাহমুদের ওপর রোববার শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়া বাজারে বোমা হামলার ঘটনায় বিবাদমান দু'গ্রুপ ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে সকালে ইবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুজার গিফারী গাফফারের পক্ষে বড়দা পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর ও শেরপুর গ্রামের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা লাঠিসোঠা নিয়ে বড়দা মাদরাসা মোড়ে অবস্থান নেয়। সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিনের পক্ষে বসন্তপুর, শেখপাড়া গ্রামের লোকজন অবস্থান নেয়। দু' গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমখি হয়। ব্যাপক গুলী বর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কের বড়দাহ থেকে চড়িয়ারবিল ও শেখপাড়া বাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ৩টি স্থানে থেমে থেমে সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের ২৫ জন আহত হয়েছে। এ সময় শৈলকুপা থানার কনস্টবেল শরিফুল ইসলামসহ ৪ জন গুলীবিদ্ধ হয়। আহতদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৩০ রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। আতঙ্কে শেখপাড়া, চড়িয়ারবিল ও বড়দাহ বাজার এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকান পাট বন্ধ করে দেয়।
এসব ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক বা গ্রেফতার করেনি। উদ্ধার হয়নি কোন অস্ত্র-শস্ত্র। ঝিনাইদহের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম মোল্লা জানান, ইবি ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের বিরোধের জের শৈলকুপার ৫-৬টি গ্রামে ছড়িয়ে যায়। তিনি জানান, রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
অপরদিকে গত সোমবার দুপুরে গাফফার গ্রুপের নেতা হাফিজকে ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চাবি কেড়ে নেন গাফ্ফার সমর্থকরা। এ জন্য শিক্ষক-কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে না পারায় প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

