Quantcast
ঢাকা, বুধবার 8 August 2012, ২৪ শ্রাবণ ১৪১৯, ১৯ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৬৬৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শাখার ইফতার

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে জনগণের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে -অধ্যাপক নাজির আহমদ

স্টাফ রিপোর্টার :  জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ কে এম নাজির আহমদ বলেছেন, পবিত্র রমযান মূলত কুরআন নাযিলের মাস। আর কুরআন মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার এবং নির্ভরযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও কল্যাণময় জীবন বিধান। তাই দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি লাভ করতে হলে আমাদেরকে কুরআনের বিধানের দিকেই ফিরে আসতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে এখন সবকিছুতেই প্রতারণা চলছে। সুপ্রীমকোর্ট আরো ২টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার জন্য বলেছে। আর সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর আইনজীবী শাখা আয়োজিত পবিত্র মাহে রমযানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ কে এম নাজির আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও ঢাকা মহানগরীর অন্যতম নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি। আইনজীবী শাখার সভাপতি এডভোকেট মোঃ ফরিদ উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরো বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার, ঢাকা বারের সভাপতি এ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দীন, ঢাকা মহানগরীর আইনবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মশিউল আলম, এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ও এডভোকেট সাইফুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইনজীবী শাখার সেক্রেটারি এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন।

নাজির আহমদ বলেন, রমযান মাস একটি মহিমান্বিত ও অতীব গুরুত্বপূর্ণ মাস। অন্য মাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিন রয়েছে। কিন্তু এ মাসের প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এ মাস কুরআন নাযিলের মাস। সব নবীর ওপরই এ বিধান এসেছিল। আর কুরআন হচ্ছে এর সর্বশেষ সংস্করণ। আর কুরআন মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার এবং নির্ভরযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও কল্যাণময় জীবন বিধান। তাই দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি লাভ করতে হলে আমাদেরকে কুরআনের বিধানের দিকেই ফিরে আসতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষকে আল্লাহ বুদ্ধিমান জীব হিসাবে সৃষ্টি করলেও তাদেরকে জীবন বিধান রচনার অধিকার দেয়া হয়নি। মূলত আল্লাহই সকল জ্ঞানের উৎস। আর আলকুরআন হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। আর কুরআন অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে মানব জাতির ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি। তিনি কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের দেশে এখন সব কিছুতেই প্রতারণা চলছে। পদ্মাসেতু নিয়ে সরকারি দলের লোকেরা পুকুর চুরি করলেও আমাদের মধ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া নেই। সুপ্রীমকোর্ট আরও দু'মেয়াদে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বললেও সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে। সরকার গোটা জাতিকেই নির্বোধ মনে করে একের পর এক এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। কিন্তু কী কারণে আমরা এতো হীনবল হয়ে পড়েছি যে, সরকারের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করতে পারছি না? আসলে আমাদের ভাববার সময় হয়েছে। তাই আমাদেরকে শান্তির সমাজ ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেন, রমযান মাস ফজিলতের মাস। এ মাস জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের সুযোগ করে দিয়েছে। এ মাসে তাক্বওয়া অর্জন করে মুত্তাকি হয়ে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলতে হবে। প্রতি বছরই রমযান মাস আসে। কিন্তু আমাদের তাক্বওয়া অর্জিত হচ্ছে না। তাই সমাজে সুশাসন ও ন্যায় বিচার হচ্ছে না। সমাজ জীবনে তাক্বওয়ার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সুন্দর দেশ গড়তে হলে কুরআনের শাসনের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি কুরআনের সমাজ ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে এডভোকেট মোঃ ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, মাহে রমযান আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস। এ মাসকে কুরআনের মাসও বলা হয়। মানবতার মুক্তির সনদ হিসাবেই আল্লাহ রাববুল আলামীন আল-কুরআন নাযিল করেছেন। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় যে, এই কুরআনের মাসেই জালিম সরকার কুরআনের ধারক-বাহকদের কারাগারে আটক রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে। তিনি সরকারের এ জুলুমের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।