|
|
দীর্ঘ ৪৭ দিন পর হুইল চেয়ারে বসে অসুস্থ মাওলানা সাঈদী এলেন ট্রাইব্যুনালে
আগামী রোববার ও সোমবার হেলালের জেরা শেষ করতে হবে
শহীদুল ইসলাম : আদালতে হাজির হয়নি এমন আরো একজন সাক্ষীর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মুকুন্দ চক্রবর্তী নামের এই সাক্ষী গত এপ্রিল মাসে মারা যাওয়ার প্রেক্ষিতে সরকারপক্ষ তার জবানবন্দিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ' বলে উল্লেখ করে দাখিলকৃত আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল গতকাল এই আদেশ দেন। এনিয়ে আদালতে না এসেও তদন্ত কর্মকর্তার লিখিত জবানবন্দিই আদালতের সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা সাক্ষীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬তে। ইতঃপূর্বে এই মুকুন্দ চক্রবর্তীর জবানবন্দিসহ মোট ৪৬ জনের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার জন্য প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানালে গত ২০ মার্চ মুকুন্দসহ মোট ৩১ জনের আবেদন খারিজ করে এবং ১৫ জনের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আদেশ প্রদান করেন। ঐ আদেশের একমাস পরে মুকুন্দ মারা যান। মুকুন্দর ব্যাপারে সরকার পক্ষের আবেদন গ্রহণ করার পাশাপাশি একই ট্রাইব্যুনাল মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতে অনুপস্থিত সাক্ষীদের ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৭ ও ১৯ মার্চ চিফ প্রসিকিউটরের কাছে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন সে ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার অনুমতি চেয়ে এই আবেদনটি দায়ের করা হয়েছিল। ওদিকে দীর্ঘ ৪৭ দিন পর গতকাল মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আদালতে হুইল চেয়ারে করে হাজির করা হয়। কিন্তু তিনি এতটাই শারীরিকভাবে দুর্বল যে হুইল চেয়ারেও বসে থাকতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে তাকে ট্রাইব্যুনালের সোফায় শুইয়ে দেয়া হয়। এক ঘণ্টা থাকার পর তাকে পুনরায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে গতকালও জেরা করা হয়েছে। আগামী রোববার ও সোমবার এই দুই দিনে তার জেরা শেষ করার চূড়ান্ত আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে রাফীক বিন সাঈদী গত ১৩ জুন ট্রাইব্যুনালে তার প্রাণপ্রিয় পিতার বিচার কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মাওলানা সাঈদী। ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে তার হৃৎপিন্ডে নতুন করে ৩টি রিং পরানোর পর তিনি ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক (বারডেম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা ট্রাইব্যুনালে আনার মত ছিল না। তার অনুপস্থিতিতেই চলছিল পিতার কার্যক্রম। দীর্ঘ ৪৭ দিন পর ট্রাইব্যুনালের ইতঃপূর্বেকার আদেশের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার হুইল চেয়ারে করে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এনে দ্বিতীয় তলায় ট্রাইব্যুনালে উঠানো হয় হুইল চেয়ারে করে। সাদা পাঞ্জাবী-পাজামা, মেহেদী মাখা দাড়ি, মাথায় গতানুগতিক টুপি পরা মাওলানা সাঈদী হুইল চেয়ারে বসে ছিলেন মাত্র মিনিট দশেক। কিন্তু তাতে তিনি মাথা খাড়া রাখতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় ট্রাইব্যুনালের অনুমতিক্রমে তার ৩ ছেলে শামীম সাঈদী, মাসুদ সাঈদী ও নাসিম সাঈদী ধরে বেঞ্চে শুইয়ে দেয়। পরে একটি বালিশও এনে দেয়া হয়। কথা বলতে পারছিলেন না। তবে তার ৩ ছেলে ও আইনজীবীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। ঘণ্টাখানেক পরে ট্রাইব্যুনাল তাকে জেলখানায় পাঠিয়ে দেন। তখনও চলছিল তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের জেরা। গতকাল বেলা ১টা পর্যন্ত জেরা চলার পর সরকার পক্ষের ১টি এবং আসামী পক্ষের ১টি এই দু'টি আবেদনের ওপর শুনানি ও আদেশ দেয়া হয়। আসামীপক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও এডভোকেট তাজুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত সরকার পক্ষের আবেদন গ্রহণ, আসামী পক্ষের আবেদন খারিজ এবং আগামী রোববার ও সোমবার এই দু'দিনে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ করার চূড়ান্ত আদেশ দেন।
গতকাল বুধবার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে যেসব জেরা করা হয় তার উল্লেখযোগ্য অংশ নিম্নরূপ :

