Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2012, ২৫ শ্রাবণ ১৪১৯, ২০ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৪৮০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ট্রাইব্যুনালে সপ্তম সাক্ষীর জবানবন্দি \ জেরা রোববার

পাক আর্মিরা লোকজনকে গুলী করে হত্যা করে \ কাদের মোল্লাকে রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি

শাহেদ মতিউর রহমান : কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রসিকিউশনের সপ্তম সাক্ষী আব্দুল মজিদ পালোয়ান। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ নবেম্বর ঘাটারচর এলাকায় আমি পাক বাহিনীকে গুলী করে লোকজনকে  হত্যা করতে দেখেছি। তবে কাদের মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে পাঞ্জাবী পায়জামা পড়া অবস্থায় দেখেছি তবে কাউকে হত্যা করতে দেখিনি। তাকে শুধু রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতেই আমি দেখেছি।

গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের এই সপ্তম সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে জেরায় মাত্র দু'টি প্রশ্ন করে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন আদালত। গতকাল সাক্ষীকে জেরা করেন ডিফেন্স টিমের আইনজীবী এডভোকেট আবদুস সোবহান তরফতার।

 সাক্ষীর জবানবন্দি

আমার নাম আব্দুল মজিদ পালোয়ান। বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর। পরে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলি জানতে চান যে আপনাদের গ্রামে কারা বাস করতেন। সাক্ষী বলেন, স্বাধীনতার আগে আমাদের গ্রামে হিন্দু মুসলমান সবাই মিলে বাস করতাম। ১৯৭০--৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে কিছু লোক ছাড়া অধিকাংশ লোকই আওয়ামী লীগ করতো। আমার গ্রামের নাম ঘাটার চর যা কেরানীগঞ্জ থানার অধীনে।

প্রসিকিউটর জানতে চান আজকে যে ঘটনার জন্য সাক্ষী দিতে এসছেন তা কোথায় কখন কিভাবে ঘটেছিল? সাক্ষী বলেন, ৭১ সালে পাঁচটি মহল্লা নিয়ে ছিল আমাদের গ্রাম। '৭১ সালে ২৫ নবেম্বর ভোরে আমি গোলাগুলীর শব্দ শুনতে পাই। ঘুম থেকে জেগে আমি বাড়ির বাইরে নামায় যায়। গিয়ে দেখি চারিদিকে আগুন জ্বলছে। এবং উত্তর দিকে থেকে গুলীর আওয়াজ আসছে শুনতে পাই। তখন আস্তে আস্তে উত্তর দিকে আগ বাড়াই এবং ঘাটার চর স্কুলের মাঠে থামি। তখন ওই গ্রামে ঝোপ ঝাড় ছিল। আমি একটি গাছের আড়ালে লুকাই। দেখতে পাই পাক বাহিনীরা লোকজনকে হত্যা করছে। পাক বাহিনীর সঙ্গে আরো কয়েকজন পাঞ্জাবি  পাজামা পরা লোক ছিল।  তাদের মধ্যে একজন ছিলেন আব্দুল কাদের মোল্লা। পাক বাহিনীর  লোকজন হত্যা করলো। কাদের মোল্লার হাতে রাইফেল ছিল। সেও গুলী করে। ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত গোলাগুলী এবং হত্যাকান্ড চলে। বেলা ১১টার পরে কাদের মোল্লার লোকেরা ওই স্থান ছেড়ে চলে যায়। তারা চলে যাওয়ার পরে আমারা লোকজন ডেকে আনি এবং লাশ সনাক্ত করার চেষ্টা করি। হিন্দু-মুসলমান মিলে ওইখানে ৬০ জন লোক হত্যা করা হয়। লাশ সনাক্ত করার সময় ওই স্থানে কেরানীগঞ্জ থানা মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার  মোজাফ্ফর আহমেদ খান  আসেন। তিনি আসলে পরে তার কাছে ঘটনার বর্ণনা দেই।

 এর আগে ২৫ নবেম্বরের ঘটনার পূর্বের রাতে জয়নাল ডাক্তারের বাড়িতে আব্দুল কাদের মোল্লা মিটিং করেছেন। জয়নাল ডাক্তারের বাড়ি থেকে পূর্বদিকে দুই/তিন বাড়ির উত্তরে আমার বাড়ি। ঘটনার দিন ১১টার পরে ওই স্থান ত্যাগ  করার পরে জানতে পারি যে পাজামা পাঞ্জাবি পড়া খাটো লোকটির নাম আব্দুল কাদের মোল্লা। অভিযুক্ত আব্দুল কাদের মোল্লা। এর আগে আমি গত ২৭ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছি। পরে ডিফেন্সের পক্ষ থেকে সাক্ষীর বলা বক্তব্য যা রেকড করা হয়নি তা গ্রহণ করার আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করেন। ওই বক্তব্যে সাক্ষী বলেন, ঘটনার দিন কাদের মোল্লার সঙ্গে আরো কয়েকজন বোরকা পড়া লোক ছিল যেন তাদের চেনা না যায়।

জবানবন্দি দেয়ার পরে সাক্ষীকে জেরা করা হয়। জেরা  অসমাপ্ত রেখে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

সাক্ষীকে জেরা

প্রশ্ন : আপনি কোন পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন ?

উত্তর : আমি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি।

প্রশ্ন : আপনার লেখাপড়া সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র বা সনদ কী ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছেন?

উত্তর : না, কোন কাগজ বা সনদ আমি জমা দেইনি।