Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 9 August 2012, ২৫ শ্রাবণ ১৪১৯, ২০ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১২১ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ঈদের পোশাক চাই

বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : অনাবিল আনন্দের নাম ঈদ। ঈদ আসলেই মুসলমানদের অন্তরে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার। আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনী হতে থাকে ঈদ এলোরে ঈদ এলোরে, আসলো আবার ঈদ। ধনী কিংবা গরীব এ আনন্দ উপভোগ থেকে কেউ বাদ পড়ে না। সবাই মেতে ওঠে ঈদের আনন্দে। নতুন পোশাক ছাড়া যেন ঈদের আনন্দ অনেকটাই নিরামিশ। আনন্দ বাড়িয়ে দিতেই যেন নতুন পোশাক। তাইতো পছন্দের পোশাক কিনতে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে ছুটাছুটি করছে ক্রেতারা। গতকাল বুধবার সরকারি ছুটির দিন না হলেও রাজধানীর মার্কেটগুলোতে রীতিমতো ক্রেতাদের ঢল নেমেছিল। এ দিন চাকরিজীবীদের তুলনায় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মার্কেটে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করে। নিজেদের পোশাক কেনার চেয়ে বাচ্চাদের পোশাক কেনাই ছিল তাদের কাছে মুখ্য। তাইতো সন্তানদের নিয়ে পোশাক কিনতে তারা সপরিবারে চলে আসে মার্কেটে। নিজেদের জন্য কেনাকাটা করা সহজ হলেও ছেলেমেয়েদের জন্য পোশাক কিনতে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত অভিভাবকরা। এমনই এক অভিভাবক রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলো শান্তি নগরের কর্ণফুলি সিটি গার্ডেনে। কথা হয় এক ব্যবসায়ীর সাথে। তিনি তার ছোট দুটি ছেলে-মেয়ে রিফাত ও রাখির জন্য পোশাক কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে তিন থেকে চারটি শপিংমল ঘুরে মেয়েদের জন্য পছন্দের পোশাক মেলেনি। কর্ণফুলিতে এসে মেয়ের জন্যে পোশাক মিলেছে। দেখি ছেলেরটা মিলাতে পারি কি-না। একটা তৃপ্তির হাসি দিয়ে রফিকুল বলেন, আল্লাহ তায়ালা একজনের জন্য যখন মিলিয়ে দিয়েছেন অন্যজনেরটাও পাবো ইনশাল্লাহ। নতুন পোশাক পেয়ে রাখির যেন খুশির সীমা নেই। নতুন পোশাক পেয়ে আনন্দে আত্মহারা সে। নিজের জন্য কিছু কিনবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাচ্চাদের পোশাক কিনে দেয়াই ছিল মুখ্য ব্যাপার। এখন আমার জন্য দেরিতে কিনলেও সমস্যা নেই। কর্ণফুলির তৃতীয় তলায় বাচ্চাদের জন্য পুলক স্টাইল, তাহসিন, শুবিন'স, শতরুপা, কোয়ালিটি, অর্পি ফ্যাশন, রাইসা ফ্যাশনসহ বেশ কিছু দোকানে শুধু বাচ্চাদের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক শোভা পাচ্ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমলগুলোতে ঘুরে দেখা যায় গতকাল বাচ্চাদের পোশাক বেশি বিক্রি হয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ গতবারের তুলনায় এবার পোশাকের দাম অনেক বেশি। এজন্য পছন্দের পোশাক কিনতে হিসাব মিলাতে কষ্ট হচ্ছে। দাম কমে পাব এ আশায় ঘুরতে হচ্ছে বিভিন্ন মার্কেটে। কর্ণফুলি মার্কেটের বিক্রেতারা ক্রেতাদের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, গতবারের তুলনায় এবার একটু দাম বেশি। গত ঈদে যে পোশাক ৮'শ টাকায় বিক্রি করেছি এ বছর সেই একই পোশাক আমাদেরই কিনতে হচ্ছে হাজার টাকায়। এর পর লাভ আছে। গতবারের তুলনায় বেড়েছে ট্যাক্স, ভ্যাট সেটাও দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আরেকটি কারণ। কর্ণফুলির কিউজি কালেকশনে বিক্রি হচ্ছে শুধুই শার্ট। বিক্রেতা রাসেল জানান, গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি কম। দাম শুনে ক্রেতারা আর কিনছে না। ঘুরে বেড়াচ্ছে। সব জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে পোশাকের দামও। কর্ণফুলির চতুর্থ তলা রাজকন্যায় বিক্রি হচ্ছে শাড়ি ও থ্রি-পিচ। এখানে প্রতিটি থ্রি-পিচ এক হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাড়ি নিম্নে ৬ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।বিক্রি সম্পর্কে বিক্রেতারা জানান পোশাকে যারা যত বেশি বৈচিত্র্য আনতে পেরেছে তাদের বিক্রি বেশি। তবে সব দোকান মালিকই চেষ্টা করে তাদের টপ কালেকশন আনতে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক আনতে পারলেই বিক্রি বেড়ে যাবে। কেননা ক্রেতারা এখন অনেকটাই ফ্যাশনেবল পোশাকের দিকে ঝুকছে।

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের দোকান ঘুরে দেখা যায় একটি দোকানে একাধিক ডিজাইনারের কাপড় পাওয়া যায় না। তাইতো ছোট বড়, নারি-পুরুষ তাদের পছন্দের পোশাকটি কিনতে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে বিরামহীনভাবে ছুটে বেড়ায়। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডী এলাকার মেট্রো শপিংমল, সান রাইজ প্লাজা, প্লাজা এ আর, অর্কিড প্লাজা, রাপা প্লাজা, রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, টুইন টাওয়ার, নাভানা টাওয়ার, অর্কিড প্লাজা, মৌচাক মার্কেট, হোসাফ টাওয়ার, মেট্রো শপিংমলে রং বেরংয়ের রঙিন সুতায় হাতের কাজ করা ফতুয়া, পাঞ্জাবী, থ্রি পিচ, শাড়ি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। দোকানিরা তাদের সেরা কালেকশনগুলো দেখিয়ে চলেছে ক্রেতাদের। ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে রাজধানীর সেরা শপিংমলগুলো। রাজধানীর বিলাসবহুল শপিংমলগুলোতে গরীব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ঈদের কেনাকাটা করার ইচ্ছা করা আকাশ কুসুম কল্পনা। বিভিন্ন ব্রান্ডের পোশাকের এতো দাম যে তারা ওই সব মার্কেটে যাওয়ার চিন্তা না করে ঈদের কেনাকাটায় ছোট ছোট স্থানীয় দোকান এবং ফুটপাত বেছে নিয়েছে। তাইতো গতকাল বিলাস বহুল শপিংমলের পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।