|
|
ডিফেন্সের সময়ের আবেদন গ্রহণ করেনি ট্রাইব্যুনাল-২
স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে নতুন সাক্ষী অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিকে আইনের অপব্যবহার বলে উল্লেখ করেছেন ডিফেন্স পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ নতুন ৩ সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা সংক্রান্ত বিষয়ে সময়ের আবেদন করে তিনি এ কথা বলেন। উল্লেখ্য, আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষকে নতুন ৩ জন সাক্ষীর নাম অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
আদালত থেকে বাইরে এসে এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আজ (গতকাল বুধবার) ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চেষ্টা করেছি যে, গত মঙ্গলবার রাষ্ট্র পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন আরো ৩ জন সাক্ষীর নাম অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এটা আইনের যথাযথ নিয়ম ও বিধির আলোকে সঠিক হয়নি। আমরা ট্রাইব্যুনালের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই নতুন সাক্ষীর অনুমোদনের এই রায়টি অযৌক্তিক। আমরা এর মাধ্যমে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আগেই এই মামলায় ৪০ জন সাক্ষীর নামের তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে। নিয়ম হচ্ছে, এই ৪০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়া শেষ হলে প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষী হিসেবে অন্য নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে। কিন্তু জমা দেয়া ৪০ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়ার পরে নতুন করে ৩ জন সাক্ষীর অনুমোদন আইনের বিধি অনুযায়ী হয়নি। আমরা এর মাধ্যমে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা আজ (গতকাল বুধবার) ট্রাইব্যুনালে নতুন এই সাক্ষীদের জেরা করার জন্য তিন সপ্তাহ সময় আবেদন করেও পাইনি। ট্রাইব্যুনাল আমাদের একদিন সময়ও দেয়নি। গতকাল সাক্ষীর নাম অনুমোদন দিয়ে একদিন পরে আজই এই সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে আসতে সাক্ষীদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের এমন অভিযোগের জবাবে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকার আওয়ামী লীগের। অধিকাংশ সাক্ষীরা আওয়ামী লীগের। অন্যদিকে সকল আসামী বিরোধী দলের। কাজেই বাধা দেয়ার বিষয়টি মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের অসত্য বক্তব্য। তারা ট্রাইব্যুনালে এসে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে কাউকে বাধ্য করাতে পারছে না। তাই তাদের এই ব্যর্থতা ঢাকতেই এভাবে মিথ্যাচার করছে।

