Quantcast
ঢাকা, রোববার 12 August 2012, ২৮ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৩ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৭২ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

চিনি শিল্পের বেহাল দশা\ মরে মরে অবস্থা ১৫ কলের

পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভারত থেকে নিম্নমানের চিনি আমদানির পাঁয়তারা

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় দেশের সম্ভাবনাময় চিনি শিল্পে এখন বেহাল দশা বিরাজ করছে। লোকসান দিতে দিতে মরতে বসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫টি চিনিকল। আড়াই লাখ টন ক্ষমতাসম্পন্ন এসব চিনিকলের উৎপাদন কমতে কমতে এখন এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। এখনো দেশীয় চিনিকলগুলোর চিনি গুদামে পড়ে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার মেট্রিক টন চিনি। বর্তমানে শুধুমাত্র কেরু এন্ড কোং চিনিকলের গোডাউনে অবিক্রিত চিনির মজুদ আছে ৪ হাজার ৪০৯ দশমিক ৬ মেট্রিক টন। যার বর্তমান মূল্য ২২ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এদিকে পর্যাপ্ত মজুদ সত্ত্বেও ভারত থেকে চিনি আমদানির পাঁয়তারা করছে সরকার। এটাকে দেশীয় কারখানা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা সরকারকে বিদেশ থেকে চিনি আমদানি না করে দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করার দাবি জানান।

সূত্র জানায়, শুধুমাত্র রমযান উপলক্ষে দেশী ও আমদানি মিলিয়ে ৬০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চিনি মজুদ করে টিসিবি। এর মধ্যে স্থানীয় বাজার থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন সংগ্রহের কথা থাকলেও লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২০ শতাংশ সংগ্রহ করেছে টিসিবি। অপরদিকে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়া চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি) ইতোমধ্যে মজুদ গড়ে তুলেছে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন চিনির। অথচ বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার আওতাধীন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এন্ড কোম্পানির চিনিকলে ২২ কোটি ৫ লাখ টাকার চিনি অবিক্রিত অবস্থায় গুদামে পড়ে রয়েছে। এ অবস্থায় বর্ষায় গলে নষ্ট হচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ চিনি। এমনি অবস্থায় সরকার নিয়ন্ত্রিত টিসিবি এবং বিএসএফআইসি বলছে আমদানি করা চিনি বিক্রি না করে দেশীয় বাজার থেকে তারা চিনি সংগ্রহ করবে না।

এ ব্যাপারে কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম সুদর্শন মল্লিক জানান, আগামী তিন থেকে চার মাস পরেই আখ মাড়াই মওসুম শুরু হবে তাতে চিনি রাখার জায়গারও দরকার। চিনি বিক্রি না হওয়ায় টাকা পয়সারও সংকট চলছে। মজুদকৃত চিনি সংরক্ষণ করতে অসুবিধা হচ্ছে। তাছাড়া বর্ষা মওসুম হওয়ায় চিনি গলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই চিনিকলের উৎপাদিত চিনির গুণগতমান তুলনামূলক ভালো হওয়ার পরেও বেসরকারি রিফাইনিং মিলগুলো মুক্তবাজার অর্থনীতির সুযোগে সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে কম দামে বাজারে চিনি বিক্রি করছে। ফলে বাজারে রাষ্টায়ত্ত চিনিকলগুলোর উৎপাদিত চিনির ক্রেতা নেই।

সরকারি হিসাবে চলতি বছর দেশে চিনি উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৬৯ হাজার ৩৪৭ টন। গত বছর চিনি উৎপাদিত হয়েছিল ১ লাখ ৯৬২ টন। অতি সাবধানে নেয়া লক্ষ্যমাত্রার মাত্র অর্ধেক অর্জিত হয়েছে এ বছর। চিনিকলের সাথে সংশ্লিষ্ট এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় সরকারি টাকায় চাষ করা আখ বাইরে বিক্রি করে দেয়ায় চিনি শিল্পে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

টিসিবির তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, যে পরিমাণ চিনি আমদানি করার কথা ছিল তার সবটাই আনা হয়েছে। তবে প্রয়োজন কম থাকায় দেশীয় চিনি সংগ্রহ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। একইভাবে বিএসএফআইসিও বলছে প্রয়োজনে আমদানির প্রস্তুতি আছে সরকারের। তবে ভোক্তারা বলছেন, পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে আমদানি করা চিনির তুলনায় দেশী চিনি স্বাদে অনেক ভাল। এছাড়া দেশী চিনির তুলনায় বিদেশ থেকে আমদানি করা নিম্নমানের চিনি পরিমাণেও লাগে বেশি।

টিসিবি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রতি বছর চিনির চাহিদা ১৪ থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে রমযান মাসে চাহিদা থাকে প্রায় দুই লাখ টন। রমযানের আগে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন, আসন্ন রমযানে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২ লাখ টন চিনির মজুদ গড়েছে সরকার। এর মধ্যে বিএসএফআইসি ইতোমধ্যে মজুদ গড়ে তুলেছে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন চিনির। আরো প্রায় ৬০ হাজার টন চিনি সংগ্রহ করে টিসিবি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে এবারের রমযানে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি অন্তত ৮ টাকা বেশি দরে চিনি কিনতে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা জানান, যোগসাজশের মাধ্যমে রমযানে ব্যবসায়ীদের অধিক মুনাফার সুযোগ করে দিতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের দেখিয়ে দেয়া পথ অনুসরণ করে ব্যবসায়ীরা কয়েক দিনের মধ্যেই চিনির দাম ৫১ থেকে বাড়িয়ে ৫৮ টাকা করেন। অথচ রমযানের আগে টিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল খোলাবাজারে ৫০ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি করবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোও হয়েছিল সংস্থাটির পক্ষ থেকে। দেশী-বিদেশী একাধিক উৎস থেকে এ চিনি ৪৮ টাকা দরে ক্রয় করে টিসিবি। রোজা শুরুর এক সপ্তাহ আগে রাজধানী ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৫২ থেকে ৫৩ টাকা। ঠিক তখনই চিনির দাম সহনীয় রাখতে সরকারিভাবে খোলাবাজারে চিনির দাম ৬০ টাকা নির্ধারণ করে বিক্রি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। শিল্প মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগে দেশব্যাপী সমলোচনার ঝড় উঠলে উল্টো হুমকি দেন দিলীপ বড়ুয়া। বলেন, সরকারকে বিব্রত করতে এবং কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির লক্ষ্যে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কম দামে চিনি বিক্রি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দেন তিনি।