Quantcast
ঢাকা, রোববার 12 August 2012, ২৮ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৩ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৫৯ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ছিটমহলবাসীর নাগরিকত্বহীন দুঃসহ জীবনের অবসান কত দূর?

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত প্রটোকল স্বাক্ষরের পর ১১ মাসেও অনুমোদন দেয়নি লোকসভা

শহীদুল ইসলাম : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্থল সীমানা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সংক্রান্ত প্রটোকল স্বাক্ষরের পর ১১ মাস অতিবাহিত হলেও ভারতীয় লোকসভা (পার্লামেন্ট) এখন পর্যন্ত প্রটোকলটি অনুমোদন দেয়নি। ফলে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ড. মনমোহন সিং-এর বাংলাদেশ সফরে এই প্রটোকলটি  স্বাক্ষরের পর যেভাবে আশা করা হয়েছিল যে ১৬২টি ছিটমহলের কয়েক লাখ মানুষের নাগরিকত্বহীন দুঃসহ জীবনের অবসান ঘটবে সেই আশায় অনেকখানিই এখন গুড়ে বালি মনে হচ্ছে। গত ২৭ জুলাই প্রটোকলটি সবেমাত্র ভারতের মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন পেয়েছে। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভায় এখন পর্যন্ত তা তোলাই হয়নি। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে তা লোকসভায় যাবে। ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রে এটা এখনও লম্বা প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে আছে।

গত বছর ৬ সেপ্টেম্বর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর ঢাকা সফরের সময় দু'দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এই প্রটোকলটি। এটা কার্যকর করার জন্য ভারতীয় সংবিধানের ৩৬৮ ধারা অনুসারে তাদের পার্লামেন্টের (লোকসভা) অনুমোদন প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার বরাবরই এসব কাজে ঢিমে তালে চলার চেষ্টা করে। বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে সম্পাদিত চুক্তির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের অনুকূলের অংশটুকু দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চায়। কিন্তু প্রতিবেশী দেশের স্বার্থের অনুকূলের অংশটুকু তারা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে ফেলে দেয়। আলোচিত এই স্থল সীমানা চুক্তির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ভারত সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। এই চুক্তির মধ্যে অচিহ্নিত ৬.৫ কিলোমিটার সীমানা চিহ্নিতকরণ, অপদখলীয় সম্পত্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি রয়েছে ছিটমহল বিনিময়। চারদিকে ভারতীয় ভূমি দ্বারা বেষ্টিত বাংলাদেশ ভূমি সম্বলিত ছিটমহল ৫১টি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল বিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে ঐ চুক্তিতে। মোট ১৬২টি ছিটমহলের লোকসংখ্যা কাগজে-কলমে এক লাখের মতো। বাস্তবে চার লাখের মতো হবে বলে জানা যায়। ছিটমহলগুলো বিনিময় না হওয়ার কারণে এসব এলাকার মানুষ সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। কোন রাস্তাঘাট নেই, বিদ্যুৎ, পানিসহ নাগরিক সুবিধা নেই। কেউ অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। কারণ, তারা অন্যদেশের ভূ-ভাগ দ্বারা বন্দী জীবনযাপন করে। কেউ অসুস্থ হলে এখন ছিটমহলবাসী সনাতন পদ্ধতির দেশজ চিকিৎসা করতে বাধ্য হয়। দু'দেশেরই সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের বের হতে দেয়নি। কখনো কখনো মানবিক কারণে কিছুটা সহানুভূতি দেখালেও অধিকাংশ সময়ই ছিটমহলবাসী পুরোপুরি বন্দীজীবনযাপন করছে। বিনা চিকিৎসায় অনেকের মৃত্যু ঘটে। খাদ্য বস্ত্রের সরবরাহও থাকে না। অনেক সময় খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে হয় ছিটমহলবাসীর। এসব ছিটমহলের অধিকাংশই বাংলাদেশের বৃহত্তর রংপুর জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কোচবিহার জেলার অন্তর্গত। শত শত বছর আগে থেকেই কোচবিহারের রাজা এবং রংপুরের মহারাজা এসব বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট জনপদগুলো শাসন করতো। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান দু'টি স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ার পর কোচবিহার রাজার শাসনকৃত জনপদ যেগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছিল সেগুলো বাংলাদেশ ভূখন্ড দ্বারা ঘেরাও হয়ে যায়। একইভাবে কোচবিহারের মধ্যে রংপুরের মহারাজার শাসনাধীন যেসব জনপদ ছিল তা ভারতীয় ভূখন্ড দ্বারা ঘেরাও হয়ে যায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছিটমহলগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে বাংলাদেশ মালিকানা পায়। কিন্তু অন্য দেশের ভূ-ভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চল বা ছিটমহলের সমস্যা রয়েই যায়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে নয়া দিল্লীতে স্থল সীমানা সংক্রান্ত যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তাতে এই ছিটমহলগুলো বিনিময়ের কথা ছিল। কিন্তু ভারত ঐ চুক্তির দিন থেকেই ভারতের সংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ বেরুবাড়ী দখল করে নেয়। বিনিময়ে বাংলাদেশের আঙ্গরপোতা, দহগ্রাম ছিটমহলে যাওয়ার জন্য ৩ বিঘা করিডোরও আর হস্তান্তর করেনি। সম্প্রতি সেখানে দিনের বেলা করিডোরটি চালু রাখা হচ্ছে নাগরিকদের যাতায়াতের জন্য। বাকি ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়ে বিগত ৩৫ বছরে দু'দেশের মধ্যে বহু আলোচনা হলেও কার্যকর কিছু হয়নি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মনমোহনের সফরের সময় ১৯৭৪-এর চুক্তির আলোকে ছিটমহল বিনিময়ের কথা থাকলেও ভারত এই প্রক্রিয়ায় ঢিমে তালে আগাচ্ছে। তাদের লোকসভায় অনুমোদন পেতে আর কত সময় লাগবে তা ধারণা করে বলা যাবে না। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব সম্প্রতি দিল্লী সফর করে এসে বলেছেন, ভারত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।