|
|
আগামীর বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আগামীর বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই। এ জন্য আমরা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরির চিন্তাভাবনা করছি। প্রণীত রূপরেখাটি দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আগামীর বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সংকটের আবর্তে বাংলাদেশ : উত্তরণের উপায়' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. আবদুল লতিফ মাসুম। সংগঠনের চেয়ারম্যান শাহ আলমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রফিক শিকদার প্রমুখ।
মওদুদ আহমদ আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আচরণের কারণে তাদের ওপর আমরাসহ সবার অবিশ্বাস শতগুণ বেড়ে গেছে। তারা প্রশাসনকে এমনভাবে দলীয়করণ করেছে যে নির্বাচনের সময়ে এই প্রশাসনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না। আর এজন্যই আমরা নির্দলীয় সরকারের দাবি তুলেছি। কেবল নির্দলীয় সরকার গঠন হলেই হবে না। তাদের বর্তমান প্রশাসনকে বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে দলীয় নিয়োগপ্রাপ্ত ডিসি-এসপি-ইউএনও-ওসি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করে সেখানে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।
সরকারে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গবর্নর জেনারেল স্যার নিনিয়ান স্টিফেন রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দুই দল থেকে ৫ জন করে সদস্য নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখন কেন শেখ হাসিনা তা প্রত্যাখ্যান করলেন।
তিনি বলেন, এই দলটির কোনো নীতি নেই। তারা '৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছে। ১৭৩ দিন হরতাল করেছে। এখন তারাই আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান সংযোজন করেছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হলেও নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না বলে দাবি করেন মওদুদ আহমদ। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, দাবি আদায়ের জন্য ঈদের পর লাগাতার কর্মসূচি দেয়া হবে। যতদিন সরকার সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে না নেবে, ততদিন আন্দোলন চলতেই থাকবে।

