Quantcast
ঢাকা, বুধবার 15 August 2012, ৩১ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৬ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৫০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

দাবি পূরণ না হলে ঈদের পর ফের আন্দোলন

মেডিকেলে ভর্তিচ্ছুরা গতকালও সারা দেশে বিক্ষোভ করেছে \ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে জিপিএর ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও এই পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে মেডিকেলে ভর্তিচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীরা গতকাল মঙ্গলবার মিছিল নিয়ে সচিবালয়ে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দিলে তারা রাস্তায় বসে পড়ে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এসএসসি ও এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে ভর্তি না করে আলাদা পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করেছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, গত সোমবার হাইকোর্টে করা রিটের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আদালত রুল জারি করেছেন। রুলে জিপিএ'র ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয় তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ফলে দুই দিন ধরে আন্দোলন চালানোর পর কর্মসূচি স্থগিত করেছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হলে ঈদের পর ২৭ আগস্ট আবারো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মিলিত হয়ে আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকেই ভর্তিচ্ছুরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করেন। অনেকের সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও আসেন। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সুফিয়া রহমান বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতি যদি বাতিল করতেই হয়, তাহলে শুধু মেডিকেলে কেন? বিশ্ববিদ্যালয় আর অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা রেখে কেবল মেডিকেলে ভর্তিতে এই বৈষম্য কেন? আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্বপ্না বেগম বলেন, পরীক্ষা না নিয়ে কেবল এসএসসি ও এইচএসসির ফল দেখে ভর্তি করলে দুর্নীতি হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছতাও থাকবে না। এতে অনেক মেধাবী বঞ্চিত হবে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ করার পর প্রায় তিনশ' শিক্ষার্থী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ইশতিয়াক আহমেদ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেছেন, মেডিকেলে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাইয়ে পরীক্ষা নেয়াটা ঝামেলাপূর্ণ। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, এসএসসি ও এইচএসসির মেধাকে প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের কারণ নিয়ে তারা নিজেরাই দ্বিধাগ্রস্ত। ইশতিয়াক বলেন, দেশের বিভিন্ন বোর্ডের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভিন্নতা রয়েছে। তাই এ পরীক্ষার ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হলে তা বৈষম্য সৃষ্টি করবে। এতে মেধাবীরা বঞ্চিত হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, তন্ময়, মনি, নাজমুল ও পার্থ। দাবি না মানা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অবরোধসহ সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন তারা। ভর্তিচ্ছুরা আরো বলেন, ২০১৪ সাল থেকে যদি জিপিএ'র ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তি করা চালু হয়- তবে তা মেনে নেবেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা নাকি বাতিল করা হয়েছে। তাহলে আপনারা কোচিং বন্ধ করেন। কিন্তু পরীক্ষা বন্ধ করবেন না। শিক্ষার্থীরা বলেন, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর। কোচিং সেন্টার প্রশ্নপত্র বানায় না। নিশ্চই মন্ত্রণালয় প্রশ্ন ফাঁসে কোচিং সেন্টারকে সাহায্য করে। এ কারণে মন্ত্রণালয় নিজেদের দোষ এড়াতে কোচিং সেন্টারের ওপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে গত বছর ভর্তি হতে না পেরে এ বছরের জন্য যারা অপেক্ষা করছিল তারা এখন কোথায় যাবে। এরপর তারা বেলা সোয়া ১২টার দিকে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয়ের দিকে রওনা হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশের বাধা পেয়ে আন্দোলনকারীরা প্রেস ক্লাবের সামনে সড়কে বসে পড়ে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। ঘণ্টাব্যাপী ধর্মঘট চলার পর পুলিশ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে সচিবালয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। বেলা ১টার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের সঙ্গে দেখা করে মন্ত্রীর হাতে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার পুরোনো নিয়ম পুনর্বহাল রাখার আবেদন তুলে দেন শিক্ষার্থীরা। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। তবে মন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন, আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তাই হবে। এ সময় শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির সিদ্ধান্ত হলে বা আদালতে তাদের দাবি অগ্রাহ্য হলে সে বিষয়ে মন্ত্রীকে পাশে চান শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জানান, আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করার থাকবে না। মন্ত্রীর কক্ষ থেকে বেরিয়ে শিক্ষাথীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা পরীক্ষার ভিত্তিতে মেডিকেলে ভ©র্র্তর সিদ্ধান্ত নেয়ার আবেদন জানান। শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, মেধার ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে চাই। কোর্টের রায় যদি আমাদের বিপক্ষে যায়, তাহলে আমাদের জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। মন্ত্রীর কাছে দেয়া আবেদনে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তন্ময় সূত্রধর, ফরজানা আফরিন ও নাজমুল হক। আবেদনে বলা হয়, গত ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, ৫০ থেকে ৬০ হাজার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়,  অথচ ২০১২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৬১ হাজার ১শ' ২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাহলে ফলাফলভিত্তিক বাছাই কিভাবে সম্ভব? যেহেতু বোর্ড থেকে এখনো মার্কশিট দেয়া হয়নি, এখন নম্বর সরবরাহ করা হলে গ্রেডিং সিস্টেমের দরকার কি? ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছে সিলেবাসভিত্তিক। তাই অল্প কিছু সংখ্যক প্রশ্ন পড়েই জিপিএ-৫ পাওয়া যায়। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় সমস্ত বই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল ও কোচিং সেন্টারের সম্পৃক্ততা নেই। শিক্ষার্থীরা সচিবালয় থেকে বের হয়ে আদালতের রায় শোনার জন্য প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে মৎস্য ভবন এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় শাহবাগ থেকে পল্টন পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ২টার দিকে হাইকোর্ট রুল জারি করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি আসে। কিন্তু সরকারের অবস্থানের কারণে তারা দ্বিধা-দ্বনেদ্ব ভুগতে থাকেন। এজন্য তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দাবি আদায়ে অনড় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে রাস্তার ওপর অবস্থান নেন। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে মতিঝিল, ফার্মগেট ও সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকের সড়কে দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন ওই এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। দুর্ভোগের শিকার যাত্রীরা প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আদালতের রায় যাই হোক আমাদের দাবি মানতে হবে। শিক্ষার্থী মনি বলেন, মন্ত্রী বলেছেন, এখন সবকিছু নির্ভর করছে আদালতের ওপর। তবে আমরা মন্ত্রীকে বলেছি, কোর্টের রায় যাই হোক, আপনাকে আমাদের পক্ষেই অবস্থান নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে যদি প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের ঊর্ধ্বতন কোনো মন্ত্রী এসে তাদের আশ্বস্ত না করেন, তবে তারা শাহবাগে চলমান অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরবেন না বলে জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি পালন করবেন। তারা আরো বলেন, চার সপ্তাহ অনেক দীর্ঘ সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও এগিয়ে এসেছে। এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে। আদালত যে সিদ্ধান্তই দিক না কেন মেডিকেলে ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। তবে ৬টা পর্যন্ত সরকারের  ঊর্ধ্বতন কোন মন্ত্রী সেখানে না আসায় সন্ধ্যা ৬টার পর কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ এলাকা ত্যাগ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি শান্তনু কর সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি চিন্তা করে আমরা কর্মসূচি স্থগিত করছি। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হওয়ায় এবং এরপর ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় কয়েকদিন আমরা রাজপথে থাকব না। দাবি পূরণ না হলে ঈদের পর ২৭ আগস্ট আবারো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মিলিত হয়ে আন্দোলন শুরু করব আমরা।

এদিকে, বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, একই দাবিতে গত সোমবারের মতো গতকাল মঙ্গলবারও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বগুড়া, যশোর, রংপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, এতোদিন মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তিতে পরীক্ষা হলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক গত রোববার জানান, চলতি বছর থেকে আর ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে না, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএর ভিত্তিতেই এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

সূত্র জানায়, সরকারি কলেজগুলোতে এমবিবিএস কোর্সে আসন সংখ্যা দুই হাজার ৮১২টি এবং বিডিএস কোর্সে ৫৭৮টি। বেসরকারি কলেজগুলোতে এই সংখ্যা যথাক্রমে চার হাজার ২৭৫টি ও ৮৫০টি। অর্থাৎ ২২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ, ৫৩টি বেসরকারি মেডিকেল এবং ৯টি ‘পাবলিক' ডেন্টাল কলেজ ও মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে মোট ৮ হাজার ৫১৫টি আসন রয়েছে।