|
|
বিভিন্ন রকম অনিয়মের হোতা বীমা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান
স্টাফ রিপোর্টার : বিভিন্ন রকম অনিয়মের হোতা দেশের বীমা শিল্পের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদের চেয়ারম্যান পদে থাকার বৈধতার নথিপত্র তলব করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ১২ আগস্ট বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদের চেয়ারম্যান পদে থাকা ও অফিস হোল্ডিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়ের করে ফিরোজ জামান। এতে বলা হয় চেয়ারম্যান পদে থাকার জন্য শেফাক আহমেদের যে যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন তা তার নেই। এর প্রেক্ষিতে দুই বিচারপতির সমন্বয়য়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ চেয়ারম্যান শেফাক আহমেদের চেয়ারম্যান থাকা কেন অবৈধ হবে না জানতে চেয়ে রুল ইস্যু করেছে। একই সাথে তার নথি তলব করা হয়েছে। এদিকে বিভিন্ন রকম অনিয়মের হোতা বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান বার বার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
নানা অপকর্মের হোতা শেফাক আহমেদের বিরুদ্ধে বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাৎ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তার নামে দেশের ১১ জেলায় ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ও পটুয়াখালীতে দুটি করে মামলা। খুলনা, পাবনা, ঝালকাঠি, নওগাঁ, বরগুনা, ভোলা ও চট্টগ্রামে হয়েছে একটি করে মামলা। এসব মামলার মধ্যে আছে নারী নির্যাতন, বিদেশে লোক পাঠানোর (জনশক্তি রফতানি) নামে টাকা আত্মসাৎ, জমির দালালি প্রভৃতি। দায়ের করা এসব মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হলে তিনি আদালত থেকে জামিন নেন। বীমা সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো সত্য-মিথ্যা যাইহোক না কেন- একের পর এক মামলা, ওয়ারেন্ট, বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান, সব মিলিয়ে এখন তার ইমেজে টান পড়েছে।
মতিঝিল থানায় নারী নির্যাতনের মামলা করেন তার স্ত্রী দাবিদার শাহনাজ আক্তার লাভলী। অভিযোগে বলা হয়, মুসলিম শরিয়তের বিধান অনুযায়ী তিন লাখ টাকা মোহরানা ধার্য করে আসামীর সঙ্গে বাদিনীর ২০১০ সালের ৫ মার্চ বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন ভালো ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে স্বামী বাদিনীর কাছে যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। এরই এক পর্যায়ে বাদিনী তার পিতা-মাতার কাছ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা স্বামীকে এনে দেন। এরপর আরো যৌতুকের দাবিতে বাদিনীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
বরিশালের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে গোলাম মোর্শেদ নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, শেফাক আহমেদ তাকে আমেরিকা পাঠানোর নাম করে ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু পরে তিনি গোলাম মোর্শেদকে আমেরিকা পাঠাতে ব্যর্থ হন। এছাড়া শেফাক আহমেদের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলায় বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়। সম্প্রতি দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা বের হলে পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালায়। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন গ্রহণ করেন।

