|
|
নারীরা ধরণা দিচ্ছে ইমিটেশন গয়নার দোকানে
এইচ এম আকতার : শ্রমজীবী মানুষরা ঈদ কেনাকাটা করতে এখন ভিড় জমাচ্ছে ফুটপাতে। একদিকে রুচিশীল নারীরা ঈদ আনন্দ পূর্ণ করতে ধরণা দিচ্ছে ইমিটেশন গয়নার দোকানে। অন্যদিকে ঈদের প্রস্তুতি শেষ করতে ছেলেরা ভিড় করছে আতর টুপির দোকানে। সব মিলিয়ে ঈদ মার্কেটে জনস্রোত নেমেছে।
গতকাল মঙ্গলবার ছিল পবিত্র মাহে রমযানের ২৫ তারিখ। ঈদের বাকি আর মাত্র ৩/৪ দিন। এখনও সব শ্রেণীর মানুষ ঈদ কেনাকাটা শেষ করতে পারেনি। তবে ধনী এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অনেকেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করেছে। তবে নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা এখনও কেনাকাটা শুরু করেছে মাত্র। তাদের কেউ কেউ এখনও বোনাস পায়নি। তাই রমযানের শেষের দিকে তাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ফুটপাতে। ফুটপাতের রাজধানীর হিসেবে খ্যাত গুলিস্তান এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। ফুটপাতে ঈদ কেনাকাটা করতে আসা আব্দুল হাকিম বলেন, তিনি একজন নির্মাণ শ্রমিক। গতকাল তিনি বেতন পেয়েছেন। আগামী শুক্রবার তিনি গ্রামের বাড়িতে যাবেন। ২ ছেলে এক মেয়ের জনক তিনি। বাড়িতে বৃদ্ধ মা বাবা রয়েছে তার। স্ত্রী ছাড়াও যুবতী এক বোন রয়েছে তার। পরিবারের সবার জন্যই ঈদের কাপড় কিনতে হবে। তাই তিনি ফুটপাতে এসেছেন পোশাক কিনতে। এখানে কম দামের পোশাক পাওয়া যায়। তাই প্রতি বছরই তিনি এখান থেকে কেনাকাটা করেন। গার্মেন্টস শ্রমিক, নির্মাণ, রিকশা চালকসহ রাজধানীতে শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধ কোটি। শেষ সময়ে তারা বেতন বোনাস পাচ্ছেন। তাই ঈদ কেনাকাটা করতে তারা এখন ফুটপাতে ভিড় জমাচ্ছেন।
হকার আব্দুর রহিম বলেন, রমযানের শেষ ১০ দিন তাদের বেচাকেনা ভাল হয়। কারণ এ সময় নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা ফুটপাতে আসেন। তাদের ক্রেতা সাধারণ গরিব মানুষ। এদিকে রুচিশীল রমনীরা তাদের ঈদ আনন্দ পূর্ণ করতে ছুটছেন ইমিটেশন গয়নার দোকানে। তারা পছন্দের পোশাকের সাথে মিলিয়ে মাটির গয়না ক্রয় করছে। অনেকে আবারও মাটির চুড়ি, গলার চেইন বা মালা ক্রয় করছে। অনেকে এমিটেশনের গয়নার সেট ক্রয় করছেন। এসব কম দামের গয়না ক্রয় করতে রমনীরা ধরণা দিচ্ছে নিউমার্কেট গাউসিয়াসহ রাজধানীর অভিজাত মার্কেটগুলোতে। অনেকে আবার এসব গয়নার সাথে কিনছেন মেহেদী।
অন্যদিকে আতর আর নতুন টুপি ছাড়া অনেক যুবকই ঈদের জামাতে যেতে পছন্দ করেন না। তাই শেষ সময়ে তারা ভিড় জমিয়েছেন আতর টুপির দোকানে। এসবের প্রধান মার্কেট হলো বায়তুল মোকাররম। এছাড়াও রাজধানীতে অলিগলিতেও আতর টুপি পাওয়া যাচ্ছে।
সুগন্ধি আতর টুপির মালিক মাওলানা আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, রমযানের শুরু থেকেই তাদের বেচাকেনা ভাল। তবে গত দু'দিন ধরে ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। চাঁনরাত পর্যন্ত এ ভিড় অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো জানান, সব শ্রেণীর লোকই সুগন্ধি ব্যবহার করে থাকে। পঞ্চাশ টাকা থেকে শুরু করে দশ হাজার টাকা মূল্যের আতর রয়েছে তার দোকানে। আর ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা মূল্যের দেশী-বিদেশী টুপি রয়েছে তার দোকানে। সব মিলিয়ে ঈদ কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড় জনস্রোতে পরিণত হয়েছে।

