|
|
হরতালে গাড়ি পোড়ানো ও ভাংচুরের মামলা
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ ৪৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হরতালে গাড়ি পোড়ানো ও ভাংচুরের মামলায় ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত-৫ এর বিচার কার্যক্রমের ওপর হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
সরকার পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বেলা দুটা ১৫ মিনিটের দিকে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিষয়টি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়ার আবেদন করেন। পরে এটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত বিষয়টি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। এর আগে দেয়া স্থগিতাদেশ অব্যাহত থাকবে। কেন আবেদনটি বাদ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে এটর্নি জেনারেল বলেন, ‘কিছু নোটিফিকেশন হাতে পেয়েছি। পরবর্তী সময়ে আরও কোনো নোটিফিকেশন হয়েছে কি না, তা দেখার জন্য বিষয়টি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়ার আরজি জানানো হয়।'
গত ৬ আগস্ট হরতালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পাশে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা-কর্মীসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের বিচার কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ঢাকার-৫ নম্বর দ্রুত বিচার আদালতের কার্যক্রমের ওপরও আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন। ফলে ঢাকার-৫ নম্বর দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া ঢাকার-৫ নম্বর দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং এ আদালতের বিচারক হিসেবে মহানগর হাকিম হারুন অর রশিদকে দায়িত্ব দেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা হবে না- জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সরকারের আইন, মন্ত্রিপরিষদ, জনপ্রশাসন সচিব, পুলিশের আইজি, সিএমএম ও হারুন অর রশিদকে আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টেও একই ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গত ২৯ জুলাই ওই মামলার আসামী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন রিট আবেদনটি করেন। হরতাল চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ এনে গত ২৯ এপ্রিল তেজগাঁও থানায় মামলা করে পুলিশ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৪৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয় গত ১০ মে।
পরে ২৭ মে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জববারকে আসামী করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়। গত ৩১ জুলাই এ মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৪৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়।

