|
|
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ
শেখ মুজিবুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার : আজ বুধবার ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী। জাতীয় শোক দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মোঃ জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দেশের সকল সরকারি-আধাসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মিলাদ মাহফিল কোরানখানি এবং আলোচনা সভা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাতে ঢাকার ৩২নং ধানমন্ডির বাসভবনে সেনাবাহিনীর একদল তরুণ আনসার ও জওয়ানদের হাতে শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় শোক দিবস পুনর্বহাল করা হয়। এ উপলক্ষে আজকের দিনটি সাধারণ ছুটি পালিত হবে।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জে টুঙ্গীপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি মুসলিম লীগের রাজনীতি করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ গঠিত হলে তিনি সক্রিয়ভাবে এর সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত মুজিবনগর সরকারের প্রেসিডেন্ট এবং স্বাধীন বাংলাদেশেরও প্রথম প্রধানমন্ত্রী। অনুকূল পরিবেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় শেখ মুজিবের মৃত্যু দিবসটি উদযাপন হচ্ছে। কালো পতাকা ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে ঢাকাসহ গোটা বাংলাদেশ। রংবেরংয়ের পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেয়া বাণীতে প্রেসিডেন্ট মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, বাঙালি জাতির শোকাবহ দিন আজ। আমি এ দিনে শোকাহত চিত্তে গভীর শ্রদ্ধা জানাই মহান স্বাধীনতার স্থপতি কালজয়ী শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের অম্লান স্মৃতির প্রতি। জাতীয় শোক দিবসে পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সে দিনের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। অপরদিকে পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানব ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ডের শিকার হয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। আমি সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও জনগণের নিকট থেকে তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। ১৫ কোটি বাঙালির অন্তরে তার ত্যাগ ও তিতিক্ষার সংগ্রামী জীবনাদর্শ গ্রোথিত রয়েছে।
কর্মসূচি : আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,
আজ সূর্য উদয় ক্ষণে-বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টা ৩০ মি.-ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত জাদুঘর প্রাঙ্গণে রক্ষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানামন্ত্রী কর্তৃক পুস্তবক অর্পণ, সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক অনার গার্ড প্রদান এবং মোনাজাত অনুষ্ঠানে যোগদান। সকাল ৬টা ৪০ মি.-বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। (ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনের সম্মুখে আগমন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন)। সকাল ৭টা ৩০মি. বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টা ১৫ মি.-টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও দুপুর ১টা ৩০ মি.মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল (বাদ জোহর)। টুঙ্গীপাড়ার কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, কাজী জাফর উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ অংশ গ্রহণ করবেন। এছাড়া ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেবেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবীগণ।

