Quantcast
ঢাকা, বুধবার 15 August 2012, ৩১ শ্রাবণ ১৪১৯, ২৬ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১০৬৫ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আজ আবদুল মালেকের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী

আবদুল মালেক

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ১৫ আগষ্ট। ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের অগ্রসেনানী আবদুল মালেকের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী। ইসলামী শিক্ষার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও সমাজতন্ত্রীদের হাতে গুরুতর আহত হয়ে ১৯৬৯ সালের এই দিনে তিনি শহীদী মৃত্যুর অমিয়সুধা পান করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগের সেরা ছাত্রের মর্মান্তিক ও নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ইসলাম প্রিয় তরুণরা একদিনের জন্যও ভুলেনি। শহীদ আবদুল মালেক লাখো তরুণের ‘প্রেরণার বাতিঘর', ‘তিমির রাতের অভিযাত্রী', ‘আলোরদিশারী' হিসেবে বেঁচে আছেন। ইসলামী ছাত্রশিবির এই দিনটিকে ইসলামী শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

ধর্মনিরপেক্ষ, নাস্তিক্যবাদী যে ছাত্র সংগঠনগুলোর মুখে মুক্তচিন্তা ও বাক-স্বাধীনতার তুবড়ি ফোটে তাদের হাতেই ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান আবদুল মালেক নির্মমভাবে প্রহৃত ও মারাত্মক জখম হন। পাকিস্তানের শিক্ষানীতি কী হবে এ নিয়ে ঐদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপা আয়োজিত মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের সেরা ছাত্র, তৎকালীন ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা শহর সভাপতি শহীদ আব্দুল মালেক বক্তব্য দিতে চাইলে প্রথমে বাধা দেয়া হয়। পরে সুযোগ দিলে তিনি তার ক্ষুরধার যুক্তি দিয়ে ইসলামী শিক্ষার অপরিহার্যতা প্রমাণ করেন। তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন, ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা হলো প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে সত্যিকার শিক্ষিত মানবজাতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এরূপ সত্যবচনে সেক্যুলারপন্থীদের গায়ে জ্বালা ধরে। তারা হায়েনার মতো হামলে পড়ে মালেকের ওপর। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৬৯ সালের ১৫ আগস্ট তিনি অসংখ্য সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।

তারা চেয়েছিল শহীদ আবদুল মালেককে হত্যা করে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার আন্দোলনকে চিরতরে মুছে ফেলতে। কিন্তু তাদের এই ষড়যন্ত্র চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তার প্রমাণ আজকের এই বাংলাদেশ। আবদুল মালেকের রক্ত ইসলামী শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থার আন্দোলনকে আরো বেগবান করেছে। শহীদ আবদুল মালেকের মধ্যে বিস্ময়করভাবে অনুকরণীয় সবগুণের সমাবেশ ঘটেছিল। তার গোটা জীবনকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি ছিলেন প্রখর মেধাবী, অনুসন্ধিৎসু, নিরহংকার, বিনয়ী, মিষ্টভাষী, দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠাবান কর্মী, সঠিক নেতৃত্ব দানের দুর্লভ যোগ্যতার অধিকারী, ভালোবাসা, ত্যাগ ও কুরবানীর উজ্জ্বল ও অনুপম দৃষ্টান্ত।

আবদুল মালেকের জন্ম ১৯৪৭ সালের মে মাসে। জন্ম স্থান বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার খোকসাবাড়ী গ্রামে। অসাধারণ মেধাবী আবদুল মালেক জুনিয়র স্কলারশীপ পান। তিনি এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ডে মেধা তালিকায় একাদশ স্থান অর্জন করেন। রাজশাহী কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় ৪র্থ স্থান নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। শাহাদাত বরণ কালে তিনি ৩য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ১২২ নং রুমে থাকতেন।

কর্মসূচি:

ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কুরআনখানী, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। এছাড়া বগুড়ায় শহীদ আবদুল মালেকের কবর যিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।