|
|
মক্কা শীর্ষ সম্মেলন উদ্বোধন করলেন বাদশাহ আব্দুল্লাহ
সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে পবিত্র মক্কা নগরীতে মক্কা শীর্ষ সম্মেলন উদ্বোধন করেন
মক্কা থেকে আরব নিউজ : সৌদি আরবের বাদশাহ আব্দুল্লাহ মঙ্গলবার পবিত্র মক্কা নগরীতে (ওআইসি) মুসলিম নেতৃবৃন্দের নজীরবিহীন সম্মেলন উদ্বোধন করেছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দানকালে বাদশাহ আব্দুল্লাহ ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হতে মুসলমানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বাদশাহ আব্দুল্লাহ বলেন, ফেৎনা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও জঘন্য অপরাধ। তিনি বিভিন্ন মুসলিম গোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপের আহবান জানান। তিনি আন্তঃধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সংহতি সৃষ্টি করতে সংলাপ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার আহবান জানান। সমবেত মুসলিম নেতৃবৃন্দ বাদশাহ আব্দুল্লাহর এ প্রস্তাব সমর্থন করেন। এর আগে বাদশাহ আব্দুল্লাহ তার প্রাসাদে মুসলিম নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানান। এদের মধ্যে ছিলেন ইরানী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ও কাতারের আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানী। শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে স্বাগতিক সৌদি আরব ও বিদেশী মেহমানরা আশাবাদী।
মুসলিম বিশ্বের অত্যন্ত সম্মানিত নেতা, দু'পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ আব্দুল্লাহর আমন্ত্রণে বিশ্বের প্রায় সকল মুসলিম রাষ্ট্রের প্রধানগণ এ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। বাদশাহ আব্দুল্লাহ সমস্যা আক্রান্ত মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ ও জোরদার করার লক্ষ্যে এ শীর্ষ সম্মেলন আহবান করেন। এ লক্ষ্যে আলোচনা করা পরিকল্পনা করা এবং বাস্তবায়নের পথ নির্দেশ করতে শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন তুরস্কের আব্দুল্লাহ গুল, মিসরের মোহাম্মদ মুরসি, জর্দানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ, ইরানের মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, কাতারের আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানী, ইয়েমেনের আবদু রাবিব মনসুর হাদি, ফিলিস্তিনের মাহমুদ আববাস, মালয়েশিয়ার নাজির রাজ্জাক, সুদানের ওমর বশির, আফগানিস্তানের হামিদ কারজাই, তিউনিসিয়ার মুনসেরে আল মারজুরি, পাকিস্তানের আসিফ আলী জারদারি, বাংলাদেশের মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। বাদশাহ আব্দুল্লাহ ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তার কায়দায় মেহমানদের ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানান। পবিত্র শবে কদরের রাতে পবিত্র মক্কা নগরীতে এ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। মুসলিম নেতৃবৃন্দ তারাবীর নামাজে শরিক হন। তারা সিরিয়া, ফিলিস্তিনি, মিয়ানমার, আফগানিস্তান এবং অন্যত্র মুসলমানদের দুঃখ-দুর্দশার অবসান এবং মুসলমানদের বিজয় কামনা করেন। মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্থানীয় যানবাহনের জন্য জেদ্দা-মক্কা এক্সপ্রেসওয়ে বন্দ করে দেয়া হয়েছে। আগত মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও তাদের প্রতিনিধিদের সদস্যদের বহনকারী গাড়ি যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে সেজন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। মক্কার হোটেলসমূহে বিশেষ নিরাপত্তা অফিসাররা অবস্থান করছেন। অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে এ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন। সিরিয়া ছাড়া মুসলিম বিশ্বের প্রায় সব রাষ্ট্রই এ সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে আর সিরিয়ার বৈধ নেতা বিবেচনা করা হচ্ছে না। উগান্ডার ইউবেরী মুসেভিনির মত কয়েকজন অমুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান জেদ্দায় কনফারেন্স প্যালেস থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেন।

