Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2012, ১ ভাদ্র ১৪১৯, ২৭ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১১০ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বাড়তি ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য \ অতিরিক্ত যাত্রীতে চলছে নৌযান

মাওয়ায় দীর্ঘ যানজটে নাকাল দক্ষিণাঞ্চলের বাস যাত্রীরা

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ ) সংবাদদাতা :  সুগন্ধা  পরিবহনের পটুয়াখালী  দশমিনার   যাত্রী  মনির। সাড়ে ৩শ'  টাকা  ভাড়া  হলেও দিয়েছি    ৫শ' টাকা। মাওয়া  ঘাটে  বেলা ১২ টায়  তিনি সংগ্রামকে জানান, সকাল থেকে  এখন  পর্যন্ত দীর্ঘ  লাইনে  ঘাটে  আটকে থেকে  ফেরির  অপেক্ষায় রয়েছি । কখন বাড়ি  যাবো জানি না । ফেরিতে শুধু  ছোট  গাড়িগুলোই  আগে পার  করছে।  ছোট  ভাই ৬ বছরের শিশু অনিককে নিয়ে শরীয়তপুরের ভেদেরগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর  গ্রামে যাচ্ছেন  লঞ্চযাত্রী দীন  ইসলাম।  ঢাকা-মাওয়া  মহাসড়কের খানবাড়ী থেকে  প্রায় ২  কিলোমিটার  পায়ে  হেঁটে লঞ্চঘাটে যেতে তাদের বেহাল  অবস্থায়  পড়তে হয়েছে । তিনি  অভিযোগ  করে  বলেন, সিটিং সার্ভিসে  গুলিস্তান  থেকে এ রুটের  ভাড়া ৬০ টাকা  নির্ধারিত  হলেও গতকাল প্রায়  সবগুলো  পরিবহনেই দাঁড়িয়েও ১শ'  টাকা করে  আদায়  করা  হয়েছে । আবার  বাস  থেকে নেমে নতুন লঞ্চঘাট পর্যন্ত রিকশা ভাড়া দিতে হচ্ছে  ২০ টাকা ।

অন্যদিকে বাবুবাজার  থেকে  মাওয়া  পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া  দিয়ে  একই অবস্থার  শিকার ফেরিযাত্রী মাদারীপুরের কালকিনীগামী  পোশাক  শ্রমিক  রিয়াজ । তিনি  জানান, অনেক পথ  হেঁটে হেঁটে  ভাগনি শিশু  ইছামনিকে নিয়ে ফেরিঘাটে  এসেছি । এখন  দেখি ফেরিঘাটে  ফেরিও  নেই ।

দেশের   দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম  প্রবেশদ্বার মাওয়া  ফেরিঘাটে গতকাল  বুধবার সকালে  সরেজমিনে  গিয়ে  ঘরমুখো মানুষের এমনই  হাজারো  বিড়ম্বনার দৃশ্য  চোখে  পড়ে। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আর  মাত্র  দু'তিন দিন বাকি  থাকতেই রাজধানীসহ  দেশের  বিভিন্ন  জেলা  থেকে আগত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো  মানুষের  ঢল  নেমেছে  মাওয়া  ফেরিঘাটে। জীবনের ঝুঁকি  নিয়ে  হাজারো  বিড়ম্বনা  সহ্য  করে ভোররাত  থেকেই এসব  ঘরমুখো  মানুষেরা নাড়ির টানে  ছুটে  চলেছেন নিজ  গন্তব্যে  । পদ্মা  পাড়ি  দিতে  এ  সময়  মাওয়া  ঘাটে  দীর্ঘ যানজট  আর  জনজট দেখা   দেয়। ভোররাত  থেকেই  ৫/৬ শতাধিক যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপে মাওয়া  ঘাটে  ফেরির  টার্মিনাল  উপচে  মহাসড়কে প্রায়  ২/৩ কিলোমিটার  লম্বা  লাইন তৈরি  হতে  থাকে। এ  সময় বেলা  বাড়ার  সাথে  সাথে  ফেরি পারাপার না  হতে  পেরে যানজট আরও  বাড়তে  থাকে। বিকেল  সাড়ে  ৩  টায়  মাওয়া  ঘাটে  কোন  যানজট না  থাকলেও এ  সময়  যাত্রীবাহী  যানবাহনসহ মহাসড়কের  বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ  লাইনে  থাকা  ট্রাক পারাপার  শুরু করে ফেরি  কর্তৃপক্ষ  । 

তবে ছোট ছোট যানবাহনের চাপে সকাল ১১টা পর্যন্ত মাত্র  ৪টি  যাত্রীবাহী  বাস  পারাপারে সক্ষম  হয়। বিকেল  ৫টায়  এ রিপোর্ট  লেখা  পর্যন্ত  সর্বমোট  ১০২০টি  যান  পারাপারে সক্ষম হয়েছে  মাওয়া  ফেরি  কর্তৃপক্ষ ।  সন্ধা্যার  পর ও  আজ  ভোররাত  থেকে  পুনরায়  মাওয়া  ঘাটে ফের  যানবাহনের   চাপ  বাড়তে  পারে  বলে  একাধিক  মহল  মনে  করছে ।

 এদিকে ঈদ  উপলক্ষে মাওয়া  ফেরি  বহরে রো রো  ফেরি  কেরামত  আলী  ও  ফেরি  লেংটিংসহ মোট  ১৫টি  ফেরি চলাচল করলেও মাওয়া-কাওড়াকান্দি  নৌরুটে নাব্যতা সঙ্কটের  কারণে  হুমকির মুখে  পড়েছে ফেরিসহ  সকল  নৌযান  চলাচল। অন্যদিকে গতকাল  ডাম্প ফেরি  রাণীগঞ্জসহ দু'টি টাগ ফেরি মেরামতে পড়ে থাকে ডকইয়ার্ডে। এছাড়াও মাওয়া  থেকে  কাঠালবাড়ী  যাওয়ার  পথে ফেরি  কাকলী  রাত  ১০টা  থেকে সকাল  সাড়ে  ৬টা পর্যন্ত ৬টি যানবাহন নিয়ে কবুতরখোলা  পয়েন্টে চরে আটকে  থাকে। পড়ে জোয়ারে পানি বাড়লে ফেরিটি উদ্ধার  হতে  সক্ষম  হয় ।

এদিকে সকাল  থেকে ঢাকা  মাওয়া  মহাসড়কে  ও মাওয়া  লঞ্চঘাটে যাত্রীদের  চাপের  সুযোগে একশ্রেণীর  অসাধু পরিবহন মালিক বাস ভাড়া ৬০  টাকার  স্থলে ১০০  টাকা আদায়  করছে। পাশাপাশি  রুট পারমিটবিহীন ঢাকা,  নারায়ণগঞ্জ, দোহার ও  কেরাণীগঞ্জ রুটের  লক্কর-ঝক্কর মার্কা  পরিবহন চলাচল  করে বাড়তি  ভাড়া  আদায়  করেছে ।

এ  ব্যাপারে হাইওয়ে  পুলিশের  সার্জেন্ট  সাহাদত  জানান, সকাল  থেকে এ  সড়কে  ৩/৪ ঘণ্টাব্যাপী  দীর্ঘ  যানজট  সৃষ্টি  হলেও  বিকেলে  তা  পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে  আনা  সম্ভব  হয়েছে । তবে  লক্কর-ঝক্কর মার্কা বেশকিছু  পরিবহন   এরুটে  চলাচল  করেছে  বলে  তিনি   স্বীকার  করেন ।

অন্যদিকে    মাওয়া লঞ্চঘাটে বিআইডব্লিউটিএ ও  জেলা  পরিষদের  টোল যথারীতি  ৫  টাকা  আদায়  করা  হলেও লঞ্চ ভাড়া ২৮  টাকার স্থলে ৩০  টাকা  নেয়া  হচ্ছিল  বলে  অভিযোগ  পাওয়া  গেছে। একই সাথে  ধারণক্ষমতার  অতিরিক্ত  যাত্রী  নিয়ে  ছেড়ে  গেছে নৌরুটের  লঞ্চগুলো । সূত্র  জানায়,  প্রকারভেদে  এ  রুটের  লঞ্চগুলোর  ধারণক্ষমতা ৮৫  থেকে  সর্বোচ্চ ১৯৮  হলেও  ঈদে  যাত্রী  নেয়া  হয়ে  থাকে ২শ'  থেকে  ৩  শতাধিক। এছাড়া নতুন  বেশ  কয়েকটি  লঞ্চ  চলাচল  করছে  এ  রুটে।  

তবে  সীবোটে  কাউন্টারে মাথাপিছু  টোলসহ ভাড়া নির্ধারিত ১৩০  টাকা  নেয়া  হলেও সকাল  ১০টার  দিকে ঘাট  ইজারাদারের অগোচরে একশ্রেণীর দালালচক্র যাত্রীদের কাছ  থেকে ২শ'  টাকা করে ভাড়া  আদায়  করছে।

এ  ব্যাপারে ঘাট  ইজারাদার হামিদুল  ইসলাম চঞ্চল  জানান, আমাদের অগোচরে অতিরিক্ত  ভাড়া  আদায়ের দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও আমরা  সাথে সাথে কঠিনভাবে  তা  প্রতিহত করেছি। একশ্রেণীর  দালালচক্র  আমাকে  হেয়প্রতিপন্ন  করার জন্যই এ  ঘটনা  ঘটিয়েছে ।