Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 16 August 2012, ১ ভাদ্র ১৪১৯, ২৭ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ১৪৮৩ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

কারা কর্তৃপক্ষ আদালত অবমাননা করেছে -আইনজীবী

সকল মামলায় জামিনের পরও এ টি এম আজহারকে মুক্তি দেয়নি কারাকর্তৃপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার : সকল মামলায় জামিন পাওয়ার পরও জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দেয়নি কারাকর্তৃপক্ষ। জামিনের কাগজপত্র কারাকর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হলেও দিনভর অপেক্ষার পর রাতে যাচাই-বাছাই করার নাম করে তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। সকল মামলায় জামিন পাওয়ার পর গতকাল বুধবার তার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কারা কর্তৃপক্ষের এ আচরণকে আদালত অবমাননা বলে উল্লেখ করেছেন আইনজীবীরা।

এ টি এম আজহারুল ইসলামকে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন শেষে বাসায় যাওয়ার পর গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পর একে একে তাকে ৫টি মামলায় জড়ানো হয়। এর মধ্যে পল্টন থানায় ৩টি মামলা। যার নং হচ্ছে ১৮(৯)১১, ১৯(৯)১১ ও ২০(৯)১১। এছাড়া রমনা থানায় ২টি মামলা, যার নং ৩৪(৯)১১ ও ৩৫(৯)১১। এসব মামলায় তাকে ২৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে যায়। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ টি এম আজহারুল ইসলামকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনও করা হয়েছে। তার ওপর এমন নির্যাতন করা হয়ে যা কোন জাতীয় নেতা এখন পর্যন্ত করা হয়নি।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলমকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে, হয়রানি করার জন্য ডান্ডাবেড়ি পড়ানো হয়েছিল। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি দাগি আসামীদের মতো ডান্ডাবেড়ি পরানোতে দেশে-বিদেশে তীব্র সমালোচনা হয়। পরে তাকে আর ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়নি।

৫টি মামলার মধ্যে ৪টিতেই তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। ১টিতে তিনি নিম্ন আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত হন। উচ্চ আদালত থেকে জামিন দেয়ার পাশাপাশি তাকে হয়রানিমূলকভাবে গ্রেফতার না করার জন্য নির্দেশনা দেয়।

৫টি মামলায় জামিন লাভ করার পর গত ২০ মার্চ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে জেল গেট থেকে সাদা মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া তাকে গ্রেফতার করা যাবে না উচ্চ আদালতের এমন নির্দেশের পরও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক থেকে পুলিশী নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পুলিশ পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক ও আইনজীবীদের ওপর চড়াও হয়। পরে তাকে আরো ৬টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এ সময় রিমান্ডে থানা অবস্থায় তিনি স্টোক করেন। ৬টির মধ্যে ৫টি মামলায়ই তিনি নিম্ন আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। সর্বশেষ পল্টন থানায় ২০১০ সালে দায়ের করা ৮(৭)১০ নং মামলায় গত ১২ মার্চ উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। এছাড়া হাইকোর্টের বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের যৌথ বেঞ্চে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া জেল গেট থেকে গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নিদের্শ দেয়।

দিনভর অপেক্ষা :

এ টি এম আজহারুল ইসলামের জামিন ও গ্রেফতার বা হয়রানি না করার সকল কাগজপত্রই গত মঙ্গলবার কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। গতকাল সকাল থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীরা ভিড় করতে থাকে জেল গেটে। প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য অপেক্ষা যেন শেষ হয় না। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা, তারপরও মুক্তি নেই। আইনজীবীরা কারা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা আশ্বস্ত করেন ইফতারীর পরই তিনি মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু রাত ৮টার পর কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এর জন্য মুক্তি দেয়া যাচ্ছে না।

কারা কর্তৃপক্ষ আদালত অবমাননা করেছেন :

রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেল গেটে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, সকল মামলায়ই তিনি জামিন লাভ করেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামিনের সকল কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হয়। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ দূরভিসন্ধিমূলকভাবে তাকে আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরের মহিমান্বিত রাতে হয়রানি করার জন্যই তাকে আটকে রাখা হয়েছে।

এ টি এম আজহারুল ইসলামের আইনজীবী এডভোকেট মশিউল আলম বলেন, জামিননামা আসার পর কারা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই তাকে আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। কিন্তু দিনভর যাচাই-বাছাই করার পর রাতে এ ধরনের বক্তব্য অসৎ উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যেই তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, উচ্চ আদালত থেকে গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ অমান্য করে আদালত অবমাননা করেছেন। এ সময় মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, হয়রানি করতেই মুক্তি দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে। এটা আদালত অবমাননার শামিল। তাকে মুক্তি না দিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।

তারপরও অপেক্ষা :

দলীয় নেতা-কর্মীরা তারপরও অপেক্ষা করতে থাকেন তাদের প্রিয় নেতার মুক্তির জন্য। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপি। তিনি বলেন, সারা দিন আমরা আমাদের নেতার মুক্তির জন্য অপেক্ষা করেছি। মুক্তি দেয়ার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষও আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যার পরই যাচাই করার নামে তারা মুক্তি দিতে টালবাহানা শুরু করে। এটা অন্যায়, অবিচার ও বাড়াবাড়ি।

নেতৃবৃন্দ যারা ছিলেন :

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের গেইটে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো যারা উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক তাসনীম আলম, ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন, মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান, এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন প্রমুখ।