|
|
ইলিয়াসের পরিবারকে মির্জা ফখরুলের ঈদ উপহার
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সরকার সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বে বলে মনে করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ঈদের পর সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ইলিয়াস আলীর বনানীর বাসায় তার পরিবারের সদস্যদের ঈদ উপহার দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সরকার সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বে। আগামী দিনে সরকারকে এর জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বলেন, তাকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হলেও গত দু'মাস ধরে সরকার বিষয়টি নিয়ে কোনো কাজ করছে না। সরকারি সংস্থাগুলো কোনো প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে না। আমরা বারবার তাকে তার পরিবারের মাঝে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করে আসছি। কিন্তু এখনো সরকার তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। এতে আমাদের বিশ্বাস দিনে দিনে শক্ত হচ্ছে যে, সরকার ও তাদের লোকজনই ইলিয়াস আলী গুমের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে গুম একটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। জাতিসংঘ সনদেও এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ।
ইলিয়াস আলীর সন্ধান এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আমরা ইলিয়াসের সন্ধানের দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের গ্রেফতার পর্যন্ত করেছে। তিনি বলেন, আপাতত আন্দোলনের মাত্রা একটু কম মনে হলেও ঈদের পর এ দাবিতে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে। সে আন্দোলন হবে সরকার পতনের একদফার আন্দোলন।
এ সরকারের মেয়াদে ১৩৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের ড্রাইভারের কোনো খোঁজ নেই। ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা যারা প্রত্যক্ষ করেছিলেন তাদেরকেও এখন আর দেখা যাচ্ছে না। যারাই সামনে আসছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে তাদেরকেই গুম করা হচ্ছে।
ইলিয়াস আলী এখনও জীবিত মনে করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নেই এমন তথ্য এখনও পাইনি। প্রধানমন্ত্রীও তাকে ফেরত দেবেন বলেছিলেন। আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। ইলিয়াসের পরিবারও মনে করে তিনি জীবিত রয়েছেন। সরকার তাকে ফিরিয়ে দেবে।
ইলিয়াসের খোঁজ পেতে সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাচ্ছে না মর্মে দেয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুনের বক্তব্যকেও ‘মিথ্যা' আখ্যা দেন মির্জা ফখরুল।
সম্প্রতি এরশাদের দেয়া ‘দুই নেত্রীকে মাইনাস' করা বিষয়ক বক্তব্য বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এখনও বাংলাদেশের রাজনীতি দুই নেত্রীর ওপর নির্ভর করে। মাইনাস টু ফর্মুলা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে দুই নেত্রীকে বাদ দেয়ার মতো এখনো কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। এদেশে দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে কোনো রাজনীতি সফল হবে না। যারা এটি চিন্তা করছেন, তারা অলীক চিন্তা করছেন। লিভিং ইন ফুলস প্যারাডাইজ।
হরতালের মামলায় শীর্ষ নেতাদের আত্মগোপন ভুল হয়েছে। এজন্য দলকে মাসুল দিতে হবে শোনা যাচ্ছে বলে স্মরণ করিয়ে দিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এটা দলের সিদ্ধান্ত ছিলো। গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইলিয়াসের বাসায় পৌঁছান মির্জা ফখরুল। তিনি ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ইলিয়াস আলীর মেয়ে সাইয়ারা নাওয়ালকে কাছে টেনে নেন। মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দেন। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনার কাছে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে কিনা জানতে চান। ঈদ উপলক্ষে ইলিয়াসের মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল ও দুই ছেলে আবরাব সারার ও লাবিব সারারের জন্য উপহার নিয়ে তাদের বাসায় যান মির্জা ফখরুল।

