|
|
0তারা প্রমাণ করেছে আ'লীগ মানবাধিকারে বিশ্বাস করে না -এম কে আনোয়ার
0পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করার মাধ্যমে আ'লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্রেরই বহিপ্রকাশ ঘটেছে -ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি
0মনে হয় আমরা কোনো জংলী শাসনে আছি -খন্দকার মাহবুব হোসেন
0এটা অসাংবিধানিক, নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী -প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমদ
0রক্ত দিয়ে কি আমরা এই স্বাধীনতা এনেছি -শফিউল আলম প্রধান
সামছুল আরেফীন, নাজমুল আহসান রাজু, জাফর ইকবাল : জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তার বাসার মেইন গেটে ও দরজায় পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে এবং লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। তার বাসা ঘেরাও করে এক ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। গতকাল জুমার নামায পর্যন্ত আদায় করতে দেয়া হয়নি এটিএম আজহারুল ইসলামকে। এভাবে স্বাধীন দেশের নাগরিককে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করাকে চরম মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের লংঘন বলে উল্লেখ করেছেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, একজন শীর্ষ রাজনীতিবিদের বাসায় এভাবে পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করার মাধ্যমে আ'লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্রেরই বহিপ্রকাশ ঘটেছে। এই সরকার জুলুমবাজ সরকার, তারা আবারো প্রমাণ করলো।
দীর্ঘ ১০ মাস ২৭ দিন কারাভোগের পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করলেও পুলিশী বেষ্টনীর বাইরে যেতে পারেননি তিনি। নিরাপত্তা দেয়ার নামে এটিএম আজহারের গাড়ির সামনে পিছনে ছিল ডিবি পুলিশ। মগবাজারের এফ টাওয়ারস্থ বাসার আশেপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নেয়। বৃহস্পতিবার রাতেই তার বাসায় সিসি ক্যামেরা বসায় পুলিশ। ভবনের প্রবেশ পথে, ৭ম তলায় তার ফ্ল্যাটের সামনে, এমনকি বাসার ছাদেও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে। ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটে কারা কখন প্রবেশ করছে তা লিপিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ি প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তল্লাশী করছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এটিএম আজহারুল ইসলামের সাথে কাউকেই দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গতকাল জুমার নামাজ পর্যন্ত পড়তে দেয়া হয়নি।
সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা : উচ্চ আদালত থেকে নিদের্শনা দেয়ার পরও এভাবে হয়রানী ও পুলিশ দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখায় রাজনীতিবিদ, আইনজীবীসহ দেশের বিশিষ্টজনেরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, কোন স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়।
এম কে আনোয়ার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার এমপি বলেছেন, বর্তমানে এমন একটি সরকার ক্ষমতায় আছে যারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। জাতির জন্য দুর্ভাগ্য যে, এই ফ্যাসিস্ট সরকারটি এখনো আমাদের ওপর জগদ্দল পাথরের মত বসে আছে। তিনি বলেন, আ'লীগের চরিত্রই এটি। তারা কখনোই বিরোধী মতকে সহ্য করে না। তারা প্রমাণ করেছে আ'লীগ একটি ফ্যাসিস্ট দল। তারা প্রমাণ করেছে আ'লীগ মানবাধিকারে বিশ্বাস করে না। আমি জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বাসায় পুলিশী অবস্থানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে তার বাসা থেকে পুলিশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ : বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি বলেছেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর তার বাসার ভেতরে, বাইরে, বাসার ছাদে পুলিশী অবস্থানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একজন শীর্ষ রাজনীতিবিদের বাসায় এভাবে পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করার মাধ্যমে আ'লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্রেরই বহিপ্রকাশ ঘটেছে। আসলে এটি বর্তমান সরকারের জন্য নতুন কিছু নয়। বিরোধী দলের নেতাদের দমন-পীড়নই তাদের একমাত্র কাজ। তিনি বলেন, যেহেতু তারা এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাদের কাছ থেকে জনগণ সরে গেছে, তাই তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে বিরোধী দলের নেতাদের দমনের চেষ্টা করছে। তবে তারা এটিতে সফল হবে না।
খন্দকার মাহবুব হোসেন : বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন দৈনিক সংগ্রামকে বলেছেন, যেখানে উচ্চ আদালতের আদেশের প্রতি প্রশাসনের শ্রদ্ধা নেই ও সম্মানবোধ নেই সেখানে আইনের শাসন থাকেনা। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম মুক্ত পেয়েছেন। হাইকোর্ট একটি আদেশে তাকে হয়রানি বা আটক না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরেও তার বাসভবন অবরুদ্ধ করে রাখা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। মনে হয় আমরা কোনো জংলী শাসনে আছি। পুলিশের এমন আচরণে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমদ : বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, এটা অসাংবিধানিক, নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার সকলেরই আছে। সরকার কোন নাগরিকের চলাচল করার ওপর অবরোধ আরোপ করতে পারে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শফিউল আলম প্রধান : জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেছেন, সত্য কথা বলতে হয়, রক্তে কেনা এই বাংলাদেশ এখন স্বাধীন কিনা? আমাদের পতাকা আছে, স্বাধীনতা নেই, নেই নাগরিক অধিকার। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন কারাভোগ শেষে মুক্তি লাভের পর এটিএম আজহারুল ইসলামের সাথে যে আচরণ করা হচ্ছে, তাতে আমার ভাবতেই কষ্ট হয়, রক্ত দিয়ে কি আমরা এই স্বাধীনতা এনেছি। এটাই কি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা? এর নিন্দা নয়, তীব্র গ্লানি বোধ করছি। তিনি অসম্মানজনক, বেআইনী, শিষ্টাচার পরিপন্থী পুলিশী প্রহারা প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানান।
আবদুল লতিফ নেজামী : ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, এটা অসম্ভব প্রতিক্রিয়াশীল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করারই বহিপ্রকাশ। তারা আইন কানুন, আদালত কিছুই মানে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। তিনি বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলাম এতদিন পর জামিন লাভ করলেন, তার ওপর এ ধরনের আচরণ চরম মানবাধিকারের লংঘন। এই সরকার জুলুমবাজ সরকার, তারা আবারো প্রমাণ করলো।
আহমদ আবদুল কাদের : খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, এটা খুবই নিন্দীয় বিষয়। আমার এর তীব্র নিন্দা জানাই। জেল থেকে মুক্তি লাভের পর এভাবে বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য নয়।
লেবার পার্টি : আজহারুল ইসলামের বাসা পুলিশ ঘেরাও করে রাখাকে মানবাধিকার পরিপন্থী বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও মহাসচিব হামদুল্লাহ মেহেদী। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে তারা বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলাম দীর্ঘ ১১ মাস বন্দী থাকার পর সব মামলায় জামিন লাভ করে গতকাল মুক্তি পান। এরপর থেকেই তার বাসা পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে। বাসার মেইন গেটে ও ভেতরের দরজায় পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। তার বাসা ঘেরাও করে এক ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে বাসা থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। কাউকে প্রবেশও করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি তাকে জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদেও যেতে দেয়া হয়নি। কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজে সরকারের এ ধরনের অন্যায় ও অমানবিক আচরণ কল্পনাও করা যায় না। সরকারের এহেন আচরণ গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।

