Quantcast
ঢাকা, শনিবার 18 August 2012, ৩ ভাদ্র ১৪১৯, ২৯ রমযান ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৭৩৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

বিভিন্ন ইস্যুতে দেশী-বিদেশী চাপে সরকার

ঈদের পরে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে রাজনৈতিক অঙ্গন

কামাল উদ্দিন সুমন : আগামী নির্বাচন পদ্ধতি, বিচার বহির্ভূত হত্যা,পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. ইউনূসকে অপসারণ, আইন-শৃক্মখলার চরম অবনতি, যুদ্ধাপরাধ ইস্যু, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, শ্রমিক নেতা আমিনুলসহ অসংখ্য গুমের ঘটনা, বারবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশী-বিদেশী চাপের মুখে পড়েছে মহাজোট সরকার। ক্ষমতা গ্রহণের  সাড়ে ৩ বছরের মাথায় সরকারের অনেক বিতর্কিত কর্মকান্ডে শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সরকারের শরীক দলেও অনেকে ব্যর্থতার দায় নিজেদের কাঁধে না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ মহাজোট সরকারের অনেক কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করছে। এমনকি বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী মিডিয়া সরকারের দুর্নীতিসহ নানা কর্মকান্ডের সমালোচনা করে সংবাদ পরিবেশন করেছে।

এদিকে, আগামী নির্বাচনকালীন সরকারের ধরন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষ। একদিকে প্রধান বিরোধী দলসহ ১৮ দলীয় জোট তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে ঈদের পর থেকেই সারাদেশে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। বিপরীতে আওয়ামী লীগের নেতারাও ঈদের পর বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলায় মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। বিরোধী দলের আন্দোলন আর সরকারি দলের প্রতিহত করার ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গন ফের ঈদের পরে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলেছেন, অতীতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যখনই নানা কারণে উত্তপ্ত হয়েছে, তখনই পরিস্থিতি অনিবার্য সংঘাতের দিকেই গেছে। বিশেষ করে ‘সরকারকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার অধীনে আগামী নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে' বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এই হুঁশিয়ারিতে এ আশঙ্কা পোক্ত হয়েছে বলে অভিমত নীতি নির্ধারক মহলে।

সূত্র মতে, সরকার নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার যে ফর্মূলা দিয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তা প্রত্যাখ্যান করে বিগত কয়েকটি অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যবস্থার অধীনে আগামী নির্বাচন দিতে সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করা হবে। ঈদের পর সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

ঈদের পরে সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতির ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দুর্বার আন্দোলন চলবে। আমাদের নেতা-কর্মীরা সকল আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ঈদের পর থেকে এই আন্দোলন জোরদার হবে।

 বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঈদের পর বিএনপি এবং ১৮ দলীয় জোট জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন জোরদার করবে। তিনি বলেন, আইন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে ওনারাই স্বৈরতান্ত্রিকভাবে আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দিতে প্রস্তুত হয়ে আছেন। বিএনপি গত পৌনে চার বছরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছে। জনগণ এটা দেখেছে। মানুষের কোনো কষ্ট হয় এমন কর্মসূচিও আমরা দিইনি। ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার আগে একটি দু'টি হরতাল দিয়েছি। ইলিয়াস আলীকে গুম করার প্রতিবাদেই আমরা তিন-চারটি হরতাল দিয়েছি।

তিনি বলেন, সরকার যাই বলুক দেশের মানুষ জানে বিএনপি এত দিন আন্দোলন করলেও কোনো নৈরাজ্য করেনি। তিনি বলেন, আন্দোলনের কর্মসূচি দিলেই যদি নৈরাজ্য বলা হয় তা হলে গণতন্ত্র চর্চা চলবে কিভাবে? সরকার আগেভাগেই বলে দিচ্ছে আমরা নাকি অরাজকতা করব। এভাবে বলতে বলতে তারা নিজেরাই অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। এর দায়ভারও সরকারকেই নিতে হবে। সূত্র মতে, বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে মহাজোট সরকার গঠন করলেও দেশ পরিচালনায় সরকারের বারবার ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকারের এসব ব্যর্থতার প্রতিবাদ করলেই বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে চরম হয়রানি করছে। এমনকি সরকরের ব্যর্থতার প্রতিবাদে অনেককে গুম হতে হয়েছে। আইন-শৃক্মখলার চরম অবনতির পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে দায়িত্বহীন এবং সাধারণ মানুষের সাথে তামাশা মনে করেন অনেকে। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাতিল করলেও এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য একগুয়েমী মনে করে মানুষ। আর সরকারের এসব ব্যর্থতার কারণে মহাজোটের শরীকরাও সরকারের সমালোচনা করছে।

এদিকে, বিএনপির কঠোর অবস্থান এবং ঈদের পর আন্দোলনের হুমকিকে আমলে নিয়ে বরাবরের মত সরকার পাল্টা হুমকি দেয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। ঈদের পর বিএনপির সম্ভাব্য আন্দোলন কর্মসূচিকে অরাজকতা বলে আগেভাগেই আখ্যায়িত করে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, এর আগেও বিরোধী দলের আন্দোলন-হুমকি দেখেছে দেশবাসী। সময় হলে সব কিছু বোঝা যাবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আন্দোলনের নামে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলে সরকার তা কঠোর হাতে দমন করবে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিরোধী দল যতটুকু নয় তার বেশি লাফালাফি করে। তারা কি আন্দোলন করবে। তাদের ঘর ঠিক আছে নাকি? আমরা অতীতেও যেমন সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে লড়েছি, আগামী দিনেও রাজপথে থাকব।

আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, ঈদের পর বিএনপি আন্দোলনের নামে অরাজকতা করবে। তারা আন্দোলনের নামে মরণ কামড় দিবে। কিন্তু সরকার তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত।