Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 August 2012, 8 ভাদ্র ১৪১৯
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৪৮৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া

নির্দলীয় সরকারের বাইরে কিছু করার চেষ্টা করলে তা সরকারের জন্য অত্যন্ত খারাপ হবে

প্রতিবারের ন্যায় এ বছরও বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন গত সোমবার ইস্কাটন গার্ডেনের ঢাকা লেডিস ক্লাবে ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের বাইরে কিছু করার চেষ্টা করলে তা সরকারের জন্য অত্যন্ত খারাপ হবে। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যদি মনে করে থাকে যে তারা দেশের মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলে কাজ করেছে, তাহলে নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে জনগণের রায়ের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হবে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, অনেক কষ্ট করেছেন, অনেকে চোখের পানি ফেলেছেন, এখন আর নয়। দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করি।

গত সোমবার ঈদের দিন দুপুরে ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক ও সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া।

ঈদের মধ্যেও দেশের মানুষ ভাল নেই মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপার্সন আরো বলেন, সরকারের ব্যর্থতায় আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায় ঈদের জামাত পড়তে গিয়েও মানুষ খুন হচ্ছে। খুলনায় আমাদের দলের এক নেতা ওলিয়ার মুন্সীকে ঈদের জামাতে নামাজ আদায়ের সময়ে সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলেছে। কোথাও আজ মানুষের নিরাপত্তা নেই।

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দেশের মানুষ মোটেই ভালো নেই। উন্নয়ন-অগ্রগতি, আইন-শৃক্মখলা, নিরাপত্তা সকল ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ এই সরকারকে চায় না। সরকারের উচিত হবে অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। নির্দলীয় সরকারের বাইরে কিছু করার চেষ্টা করলে তা সরকারের জন্য অত্যন্ত খারাপ হবে।

জনগণের রায়ের জন্য আওয়ামী লীগকে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, দেশের মানুষ সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন চায়। আর এজন্য আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি করেছি। বর্তমান সরকার যদি মনে করে থাকে যে তারা দেশের মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলে কাজ করেছে, তাহলে নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে জনগণের রায়ের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সরকার নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। এভাবে নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। এই সরকারও পারবে না। কারাগারে আটক সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দেয়ারও দাবি জানান বিরোধী দলীয়  নেতা।

বেলা পৌনে ১২টা থেকে এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কূটনৈতিক কোরের ডিন শাহের মোহাম্মদ, সউদী আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ বিন নাসের আল বুশাইরি, পাকিস্তানের হাইকমিশনার আফরাসিয়াব মেহেদি হাশমী কোরেশী, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কাতারসহ মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, জাপান, কোরিয়া, ভ্যাটিকান সিটি, শ্রীলংকা, জার্মানী, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এফবিসিসিআই সভাপতি একে আজাদের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলও বিএনপি চেয়ারপার্সরনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এম কে আনোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, বেগম সারোয়ারি রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আববাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, শমসের মবিন চৌধরী, বিরোধী দলীয় নেতার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, রাজিয়া ফয়েজ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এম মোরশেদ খান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, অধ্যাপক এম এ মান্নান, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, যুব দল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এ্যাব সভাপতি আ ন হ আখতার হোসেন, মহিলা দল সভাপতি নুরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ কে এম নাজির আহমদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মহানগর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাপ সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব আলমগীর মজুমদারসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতারা বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের  সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর এ এস এম ফয়েজ, প্রফেসর আ ন ম ইউসুফ হায়দার, প্রফেসর মাহবুবউল্লাহ, প্রফেসর আবু আহমেদ, সাবেক সচিব আসাফ উদদৌলা, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস শহীদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কবি মাহমুদ শফিক, আব্দুল হাই শিকদার, চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামসহ শিক্ষক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাবেক সচিব, দলীয় এমপি, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবী নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এরপর শিশু-কিশোর, সর্বস্তরের মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা লাইনে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কূটনীতিক ও অতিথিদের সেমাই, জর্দা, মিষ্টি ও ফল দিয়ে আপ্যায়ন করেন বেগম খালেদা জিয়া।

ইস্কাটনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দুপুর ২টায় শেরে বাংলা নগরে খালেদা জিয়া দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুমাল্য অর্পণ করেন। দলের সিনিয়র নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ফোনে ইলিয়াস পরিবারের খোঁজ নিলেন খালেদা জিয়া : দীর্ঘ চার মাস আগে নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে  ঈদের দিন গত সোমবার বিকেলে ফোনে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ওইদিন সিলেটের বিশ্বনাথে প্রথমে ইলিয়াস আলীর মা ও পরে ইলিয়াসের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় আবেগ আপ্লত হয়ে পড়েন ছেলে হারানোর শোকে কাতর ইলিয়াস আলীর মা সূর্যবান বিবি। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে বলেছেন তার পরিবার ক্ষমতা চায় না, যে কোন মূল্যে অক্ষত অবস্থায় তার নিখোঁজ ছেলেকে ফেরত চায়। ইলিয়াস আলীর ভাই আসকির আলী এসব কথা জানান।

তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীসহ সকল রাজনৈতিক দলের কাছে তাদের পরিবারের একটিই চাওয়া তা হলো ইলিয়াস আলী এবং তার ড্রাইভারকে অক্ষত অবস্থায় যেন ফিরে পাওয়া যায়। আসকির আলী বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) ইলিয়াস আলীর স্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। বেগম জিয়ার সঙ্গে ইলিয়াস আলীর ফোন আলাপের সময় ইলিয়াস আলীর পরিবারের সঙ্গে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী।