|
|
রাজধানীসহ দেশব্যাপী জামায়াতের বিক্ষোভ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : কথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল সদ্য কারামুক্ত এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। গাইবান্ধায় জামায়াতের মিছিলে পুলিশ হামলা চালিয়ে ৭ জনকে আহত এবং ২ জনকে আটক করেছে।
ঢাকায় মিছিল শেষে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করতেই সরকার কথিত যুদ্ধাপরাধের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বলেন, ঈদের আমেজ শেষ না হতেই সরকার ক্যাঙ্গারো কোর্ট বসিয়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে তাকে তড়িগড়ি করে গ্রেফতার করে ফ্যাসিবাদের পরিচয় দিয়েছে। বক্তারা সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে আজহারুল ইসলামসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মুক্তি না দিলে সরকার পতনের আন্দোলন।
রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রিদওয়ান উল্লাহ শাহিদী, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, মোঃ ফরিদ হোসাইন ও আব্দুস সবুর ফকির, মতিঝিল থানা আমীর কামাল হোসাইন, শাহবাগ থানা আমীর এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, ডেমরা থানা আমীর হাফিজুর রহমান, কদমতলী থানা আমীর শাহাদাত হোসেন, ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সেক্রেটারি মঈনুদ্দিন মৃধা, সাবেক শিবির নেতা আতাউর রহমান সরকার, যাত্রাবাড়ী থানা কর্মপরিষদ সদস্য খন্দকার এমদাদুল হক, হাফেজ তাজুদ্দিন ও নাজির আহমদ ভূঁইয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলাম বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গ্রেফতারের পর এটিএম আজহারুল ইসলাম যখন জামায়াতের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে আওয়ামী সরকারের গণবিরোধী ও ফ্যাসিবাদী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছিল তখনই বাকশালী সরকার গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে তার ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। গত ১৬ আগস্ট উচ্চ আদালতের রায়ে জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পরও ফ্যাসিস্ট সরকার আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারকে অসম্মান প্রদর্শন করে আজহারুল ইসলামকে গৃহবন্দী করে রাখে। দলীয় নেতা-কর্মীসহ আত্মীয়-স্বজনের সাথেও দেখা করতে দেয়নি। এমনকি জুমার নামায পড়তে মসজিদেও যেতে দেয়নি। বাকশালী সরকার তাকে ছেলে-মেয়েদের সাথে ঈদের আনন্দটুকুও করতে দেয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই সরকার এখন আবার কথিত যুদ্ধাপরাধের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেছে।
তারা বলেন, কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারকে সরকার রাজনৈতিক দমন পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েমের পথে জামায়াতে ইসলামীকেই প্রধান বাধা হিসেবে মনে করছে। কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জামায়াতকে ধ্বংস করে সরকার দেশে ৭৪'র সেই বাকশালী শাসন কায়েম করতে চায়। ৭১'-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জামায়াতের কোন নেতা-কর্মীই জড়িত ছিলেন না। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ৪০ হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। এখনো তাদের খুন, হত্যা ও ধর্ষণ অব্যাহত আছে। আওয়ামী লীগের এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও জনগণ একদিন করবে। কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে রাজনৈতিক দমন পীড়ন বন্ধ করে অবিলম্বে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মুক্তি না দিলে জনগণ দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী অপশক্তির পতন ঘটিয়ে গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্ত করবে বলে বক্তারা আবারো হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
খুলনা অফিস : মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার প্রায় এক বছর ধরে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। কয়েকবার আদালত থেকে জামিন পেলেও জেল গেট থেকে তাকে আবারও অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছিল। সর্বশেষ উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের এতে খায়েশ মেটেনি। মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ঈদ-উল-ফিতরের একদিন পরই তাকে নিজ বাসভবন থেকে পুনরায় গ্রেফতার করেছে। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এর পরিণাম ভাল হবে না। এমন বিধ্বংসী কর্মকান্ড থেকে বিরত থেকে সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করার আহবান জানান।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার শফিকুল আলম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি খান গোলাম রসুল, এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ডাঃ কাজী ইয়াসিন উদ্দীন আহমেদ, খালিশপুর থানা আমীর মোঃ আজিজুর রহমান, দৌলতপুর থানা আমীর বিএম জসিম উদ্দিন, মহানগরী ছাত্রশিবির সেক্রেটারি মোঃ আজিজুর রহমান ফারাজি প্রমুখ।
কয়রা উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে উপজেলা আমীর অধ্যাপক সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে পৃথক এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগরী আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা আমীর মাওলানা আ খ ম তমিজ উদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম সরোয়ার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা হাফেজ শাহিনুর রহমান ও আ য ম মুজাহিদুর রহমান রুমি, খুলনা সদর থানা জামায়াত আমীর অধ্যাপক জিএম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু তালেব, সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাফিজুর রহমান মন্টু, ড. ইয়াসিন আলী, উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি মাওলানা মাকসুদুর রহমান, এডভোকেট আওসাফুর রহমান প্রমুখ।
পাইকগাছা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আল আমিন ট্রাস্টে উপজেলা আমীর কামাল হোসাইনের সভাপতিত্বে অপর এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগরী আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা আমীর মাওলানা আ খ ম তমিজ উদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা নায়েবে আমীর এডভোকেট লিয়াকত আলী, কাজী তামজিদ আলম, এডভোকেট আব্দুল মোমেন, ডা. মাকসুদুল হক, এডভোকেট আক্কাস আলী, ছাত্রশিবিরের দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু তালেব, সেক্রেটারি মু. রুহুল আমীন প্রমুখ।
সিলেট ব্যুরো : সিলেট নগর জামায়াত প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের আরেকটি প্রতিহিংসার শিকার হলেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহার। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও অত্যাচারের সরকারি নীল নকশার অংশ হিসেবে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক বছর বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর তিনি আদালত থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। মাত্র কয়েকদিন যেতে না যেতে ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়ে সরকার আবার তাকে গ্রেফতার করলো। তিনি বলেন, গ্রেফতার-নির্যাতন আর জেল-জুলুম চালিয়ে জনতার আন্দোলন দমানো যাবে না। অতীতের স্বৈরাচারী শাসক এরূপ অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে কোনো আন্দোলনকে দমাতে পারেনি। এ সরকারও দমাতে পারবে না। নগর জামায়াতের সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম শাহীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগরী নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, সহকারী সেক্রেটারি মোঃ ফখরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা এডভোকেট জিয়া উদ্দিন নাদের, শিবির নেতা আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপু প্রমুখ।
রংপুর অফিস : মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ নূর হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা আমীর মাওলানা এটিএম আজম খান প্রমুখ। বক্তাগণ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের সকল ব্যর্থতা এবং দেউলিয়াত্ব ঢেকে রাখতেই এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ৪১ বছর পর ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করেছে। অথচ এসময়ে তার বিরুদ্ধে একটি জিডি পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। বক্তাগণ অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা : জামায়াতে ইসলামী চৌমুহনী শহর শাখার উদ্যোগে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বেগমগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে চৌমুহনী দক্ষিণ বাজার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হোয়াইট হাউজের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন শিবিরের নোয়াখালী উত্তর জেলা সেক্রেটারি মাসুম বিল্লাহ, শিবির নেতা মো. মায়াজ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
ঝালকাঠি সংবাদদাতা : গতকাল বিকেলে জেলা জামায়াতের নিজস্ব কার্যালয়ে শহর আমীর এডভোকেট ফারুক হোসেন খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা আমীর এডভোকেট মোঃ হাফিজুর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা নেছার উদ্দিন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি এডভোকেট রুহুল আমিন প্রমুখ।
ফরিদপুর সংবাদদাতা : গতকাল জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর পৌরসভা শাখার উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পৌর আমীর আলী আফজাল মো: খালেছের নেতৃত্বে শহরের পশ্চিম খাবাসপুর বাজার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেটে গিয়ে শেষ হয়।
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে পুনঃ গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে তার মুক্তির দাবিতে সিরাজগঞ্জ শহর শাখার উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টুকু ব্রিজে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম ও সদর জামায়াতের সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।
কক্সবাজার সংবাদদাতা : পর্যটন শহর কক্সবাজার ও ঈদগাঁওতে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ঈদগাঁওয়ে স্থানীয় আমীর ডাঃ আমীর সুলতানের নেতৃত্বে আজহারুল ইসলামের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে মুক্তি দাবি জানিয়ে তাৎক্ষণিক মিছিল বের হয়। কক্সবাজার শহর জামায়াতের মিছিলে নেতৃত্ব দেন শহর সেক্রেটারি সাইদুল আলম, মাহেদুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণের এম ইউবাহাদুর ও সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ।
পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা : গতকাল বিকেলে পাথরঘাটা জামায়াতে ইসলামী অফিসে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ আঃ কাদের এবং উপজেলা সেক্রেটারি মোঃ শামীম হোসাইন।
ধামইরহাট (নওগাঁ) সংবাদদাতা : উপজেলা সদর ফার্সিপাড়া হাটে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পৌর আমীর আবু মুছার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঈন উদ্দীন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন থানা সেক্রেটারি মাওলানা আতাউর রহমান, বিএনপি উপজেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (চপল), জামায়াত নেতা মাওলানা সাদেকুল ইসলাম প্রমুখ।
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : উপজেলা ও শহর জামায়াতের কয়েকশ নেতা-কর্মী বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি দবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম বাবলু, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, আনিছুর রহমান, বজলুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, জহির রায়হান তুফানি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
গাইবান্ধা সংবাদদাতা : জামায়াতের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং তার মুক্তির দাবিতে গতকাল বুধবার বিকেলে গাইবান্ধা শহরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হলে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ মিছিলের উপর লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে ২ পুলিশ সদস্যসহ জামায়াতের জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাজেদুর রহমান ও কর্মী সোলায়মান হোসেনসহ ৮ জন আহত হয়। পরে সেখান থেকে তাদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। জানা গেছে, মিছিলটি স্টেশন রোডের দাশ বেকারী মোড় থেকে বের হয়ে শহরের সার্কুলার রোড দিয়ে ডিবি রোড কাচারী বাজার এলাকায় আইনজীবী সুপার মার্কেটের সামনে পৌঁছলে পিছন থেকে পুলিশ মিছিলে হামলা করে। এতে জামায়াত শিবিরের ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাজেদুর রহমান ও সদস্য সোলায়মান আলী। গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
রাজশাহী : কথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের রাজশাহী মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আতাউর রহমান ও মহানগরী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার বিরোধীদলকে দমন করতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের ধুঁয়া তুলে একের পর এক জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করছে। মিথ্যা মামলায় জামায়াত নেতা আজহার প্রায় এক বছর কারাভোগের পর মাত্র কয়েকদিন পূর্বে জামিনে মুক্ত হলেও তাঁর বাড়ি পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করে রাখা এবং তারপর মানবতাবিরোধী অপরাধে মিথ্যা মামলায় আবার গ্রেফতার, প্রমাণ করে এই সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই বিরোধীদলের আগামী দিনের আন্দোলনকে দমন করতে সাজানো ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবিলম্বে জামায়াত নেতা আজহারসহ সকল নেতৃবৃন্দকে মুক্তি না দিলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটায়ে তাঁদের মুক্ত করা হবে।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতাবৃন্দ রাজশাহীতে পুলিশ কতৃক বিনা উস্কানীতে শিবিরের ৪ জনকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের মুক্তি দাবি করেছেন।
নাটোর শহর স্থানীয় হরিশপুরে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী নাটোর জেলা আমীর অধ্যাপক মোঃ ইউনুস আলী আরও বক্তব্য রাখেন শহর শাখার কর্ম পরিষদ সদস্য খন্দকার বেলাল উদ্দীন এবং জামায়াত নেতা আবু দাউদ।
সিংড়া উপজেলা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিংড়া উপজেলা শাখার উদ্যেগে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিংড়া উপজেলা আমীর মাওলানা আলী আকবরের সভাপতিত্বে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা তারবিয়াত সেক্রেটারি অধ্যাপক বেলালুজ্জামান, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য মাস্টার জয়নাল আবেদীন এবং সিংড়া উপজেলা সেক্রেটারী অধ্যাপক আ.ব.ম. আমানুল্লাহ প্রমুখ। মিছিল শেষে রাজশাহী-বগুড়া মহাসড়কে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
নাটোর সদর উপজেলা: জামায়াতে ইসলামী নটোর সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা সদর থানা আমীর মাওলানা মীর নুরুন্নবীর সভাপতিত্বে উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা আমীর অধ্যাপক ইউনুস আলী, ছাত্রশিবির নাটোর জেলা সভাপতি আলী আল মাসুদ মিলন, সদর থানা সভাপতি নাজমুল হোসেন প্রমুখ।
জয়পুরহাট সংবাদদাতা : শহর জামায়াতের উদ্যোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলশেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামাতের আমীর ডা: ফজলুর রহমান সাঈদ, সেক্রেটারি প্রভাষক নজরুল ইসলাম, জেলা সহ-সেক্রেটারি মাওলানা শামসুল ইসলাম, শহর সেক্রেটারি হাসিবুল আলম লিটন প্রমুখ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা ঃ শহরের উদয়ন হল মোড়ে জামায়াতের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উদ্যেগে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পৌর আমীর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমানের নেতৃত্বে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পৌর নায়েবে আমীর অধ্যাপক আমানুল্লাহ শিবিরের জেলা সভাপতি এনায়েতুল্লাহ ও পৌর কমিশনারবৃন্দ।
বরিশাল অফিস : গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর চকবাজারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্বদেন মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান বাচ্চু, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, জামায়াত নেতা অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার, মোঃ শামীম কবির ও শিবির বারিশাল মহানগর সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
মিছিল পরবর্তী এক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রায় একবছর কারানির্যাতনের পরে এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা কয়েকদিন আগে জামিনপ্রাপ্ত হন। সরকার হিংসা ও প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে আবার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার গ্রেফতার চেয়ে আবেদন করলে আজ আবার তাকে গ্রেফতার করে। সরকার এবং তার বিদেশী দোসররা বাংলাদেশ থেকে ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন মুছে ফেলার জন্য এরকম পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার স্পষ্টত যুদ্ধাপরাধ বিচারের নামে কাল্পনিক ও বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু সরকারকে মনে রাখতে হবে এভাবে অন্যায়-অত্যাচার করে কোন ইসলঅমী আন্দোলন বা সংগঠনকে নির্মূল করা যায় না। বরং বাকশালী সরকারকে একদিন এ সমস্ত জুলুম-নির্যাতনের জবাব জনগণের কাছে দিতে হবে।
পটুয়াখালী সংবাদদাতা : জামায়াতে ইসলামী পটুয়াখালী পৌরসভার উদ্যোগে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পৌরসভা সেক্রেটারি এইচ এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সেক্রেটারি এম এ সালাম খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল আহসান, পৌরসভার সহকারি সেক্রেটারি মুহাম্মদ জলিলুর রহমান প্রমুখ।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া শহরে মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি শাহজাহান আলী মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হাশেম, সদর থানা সেক্রেটারি হামিদুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও কুষ্টিয়ার কয়েকটি থানায় পৃথক পৃথক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে সকল মামলায় জামিন পাওয়ার পর পুনরায় গ্রেফতার করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঠাকুরগাঁও শহর ও সদর শাখা। গতকাল বুধবার বিকালে জেলা জামায়াত কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সদর জামায়াতের আমীর শামসুজ্জামান দুলাল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহর জামায়াতের আমীর মুঃ আলমগীর। আরো বক্তব্য রাখেন শহর সেক্রেটারি কফিল উদ্দিন আহমেদ, শিবির জেলা সভাপতি আবুল বাশার।
হাটহাজারী সংবাদদাতা : জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী জামায়াতের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে। সংগঠনের উপজেলা আমীর শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন উপজেলা সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম, ডাঃ ইদ্রিস চৌধুরী, ওমর ফারুক ও এসএম কবির চৌধুরী। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বগুড়া অফিস : গতকাল বুধবার বিকালে কেন্দ্রীয় জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে পুনরায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে বগুড়া সদর থানা জামায়াতের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর থানা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক রফিকুল আলমের নেতৃত্বে মিছিলটি বাঘোপাড়া বন্দরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা সুলতান আলী, অফিস ও প্রচার সম্পাদক রায়হান আলী, জামায়াত নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান, আবু ইমরান, শিবির নেতা হেলাল উদ্দিন, সেলিম, জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক, শাহাবুদ্দিন, রবিউল ইসলাম, আব্দুর রহীম সাজুসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ কর্মী-সমর্থক। মিছিল শেষে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পীরগাছা সংবাদদাতা : সদ্য কারামুক্ত জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রংপুরের পীরগাছা জামায়াত গতকাল বিকালে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা আমীর মোত্তালেব হোসাইন, সেক্রেটারি বজলুর রশিদ মুকুল, ইউনিয়ন আমীর বক্তজামাল মন্ডল, শিবির সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়ে সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করছে। তারা অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি দাবি করেন।

