|
|
আলোচনার জন্য মালয়েশিয়ার মন্ত্রী আসছেন আগামী সপ্তাহে
শাহেদ মতিউর রহমান : দীর্ঘ তিন বছরে নানামুখী তৎপরতার পরেও মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির বন্ধ দুয়ার খুলতে পারেনি সরকার। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই বিভিন্ন অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা আর পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মালয়েশিয়ার সরকার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সরকারের পক্ষ থেকে এই বন্ধ দুয়ার খুলতে উদ্যোগ নেয়া হলেও সবকটি পদক্ষেপেই ব্যর্থ হয়েছে সরকার।
ঈদের আগে মালয়েশিয়াতে জনশক্তি রফতানি সংক্রান্ত বিষয়ে দুদেশের মধ্যে একটি আলোচনার সূত্রপাত হলে সেটিও সফলতার শেষ প্রান্তে পৌঁছতে পারেনি। পরে দু'দেশের সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয় ঈদের পর মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সে দেশে জনশক্তি রফতানির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে হয়তো কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এ রকমই আশা করা হচ্ছে। তবে দেশের জনশক্তি রফতানিকারকদের মধ্যে নতুন এ আলোচনা-প্রক্রিয়ার সাফল্য নিয়ে অবশ্য যথেষ্ট সংশয় রয়েই গেছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমিক রফতানির দরজা প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কয়েক দফায় কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা হলেও এ দেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি দেশটি। সরকার এখন আশা করছে, ঈদের পরপরই মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এস সুব্রামানিয়ামের সফরের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসবে। সূত্র আরো জানায়, মালয়েশীয় মানবসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে থাকবে সে দেশেরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দল। তারা বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানির প্রক্রিয়া সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালয়েশিয়াতে কৃষি, বনায়ন, উৎপাদন ও নির্মাণক্ষেত্রে বাংলাদেশী শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সরকারের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। এ প্রেক্ষাপটে মালয়েশীয় মন্ত্রিসভা গত সপ্তাহে বিদেশী শ্রমিক ও অবৈধ অভিবাসী বিষয়ে এক বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানির পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার জন্য মানবসম্পদ মন্ত্রীকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব জাফর আহমেদ খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রফতানির বিষয়ে কয়েক দফায় আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে আমরা আশা করছি। গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজার চালুর জন্য কূটনৈতিকভাবে নানা ধরনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে সরকার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছেন। সর্বশেষ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল গত মে মাসে মালয়েশিয়া সফর করেন। এরপর জনশক্তি রফতানি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাদের সামগ্রিক একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এবার মানবসম্পদ মন্ত্রী এসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো বন্ধ হওয়ার মূল কারণ নানা ধরনের অনিয়ম। সেই সমস্যা দূর করতে এবার দুই দেশের মধ্যে সরকারিভাবে লোক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে চার লাখের বেশি কর্মী মালয়েশিয়া যান। তাঁদের কাছ থেকে দালালেরা দুই থেকে তিন লাখ টাকা করে নিয়েছে। কোনো কোম্পানিতে হয়তো ১০০ লোক লাগবে। দালালেরা সেখানে জালিয়াতি করে এক হাজার লোক পাঠিয়েছে। এসব কারণে হাজার হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ না পেয়ে রাস্তায় কাটিয়েছেন। এ কারণেই এবার উভয় দেশ সরকারিভাবে লোক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী এ বিষয়ে জানান, চার বছর ধরে আমরা শুনছি, কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। কিন্তু কোনো সফলতা দেখছি না। এবারও হয়তো সেটিই হবে। সরকারিভাবে লোক পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া চালু হলেও এটা সঠিক কোনো সমাধান নয়। মূলত এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণেই লোক পাঠাতে বিলম্ব হয়।

