Quantcast
ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 August 2012, 8 ভাদ্র ১৪১৯
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ২৪৭ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

আজহারকে পুনরায় গ্রেফতারের নিন্দায় মকবুল আহমদ

জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পূণরায় মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ গতকাল বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর অন্যায়ভাবে এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে বন্দী করে রাখে। বিগত মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৬টি মিথ্যা মামলায় উচ্চতর আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। তা সত্ত্বেও তাকে মুক্তি না দিয়ে সরকার তার বিরুদ্ধে সাজানো নতুন মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করে।

ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন, এটিএম আজহার তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলায় উচ্চতর আদালত থেকে জামিন লাভ করে গত ১৬ আগস্ট ঈদুল ফিতরের চারদিন পূর্বে জামিনে মুক্তি লাভ করেন। তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করা সত্ত্বেও পুলিশ তার সাথে তার বাসা পর্যন্ত এসে তার বাসা ঘেরাও করে রাখে এবং সিসি ক্যামেরা বসায়। তাকে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে দেয়নি এবং তার পরিবার-পরিজন ছাড়া আর কাউকে তার সাথে দেখা করতে দেয়নি। ঈদুল ফিতরের দিনেও কাউকে তার সাথে দেখা করতে দেয়নি। তিনি বলেন, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ঈদুল ফিতরের দিন তার সাথে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে চাইলে পুলিশ তাকে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেয়নি। এভাবে পুলিশ গৃহবন্দী করে রেখে তাকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তিনি আরো বলেন, তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার মিথ্যা, কাল্পনিক অভিযোগে সাজানো মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। সরকারের এ ধরনের অন্যায় আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর কোন ভাষা নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্ব শূন্য করে ধ্বংস করার যে ষড়যন্ত্র সরকার শুরু করেছে তারই অংশ হিসেবে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারের এ ধরনের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান। সেই সাথে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে এটিএম আজহারুল ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করার জন্য সরকারের প্রতি তিনি আহবান জানান।

মহানগরী জামায়াতের নিন্দা

জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে কথিত যুদ্ধাপরাধের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারী নুরুল ইসলাম বুলবুল।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, কথিত যুদ্ধাপরাধের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে তাকে মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। বিগত ৪০ বছরে যার বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের কোন অভিযোগ উঠেনি কিন্তু বর্তমান সরকার একটি ফরমায়েশী আদালতের মাধ্যমে ৩ ঘন্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে ১২০০ লোককে হত্যার মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগ তুলে অন্যায়ভাবে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে তাকে গ্রেফতার করেছে। কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে যে সরকার জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে এটা এখন দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফ্যাসিষ্ট সরকার তার পতন আন্দোলন ঠেকাতে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। এ ধরনের গ্রেফতার শুধু গণতন্ত্র আর আইনের শাসনেরই পরিপন্থী নয়, মৌলিক মানবাধিকারেরও পরিপন্থী। সরকারের এই প্রতিহিংসামূলক আচরণের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। অবিলম্বে আজহারুল ইসলামসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে নেতৃদ্বয় সরকারের নিকট জোর দাবী জানান।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলাম বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি কখনো মানবতাবিরোধী কোন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না। স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকার কথিত যুদ্ধাপরাধের নামে জঘন্য মিথ্যাচার করে চরিত্র হনননের জন্য এ টি এম আজহারুল ইসলামকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। সরকার দেশে দ্বৈত নীতির শাসন চালাচ্ছে। নিজ দলীয় খুনী ও সন্ত্রাসীদের জামিন দিয়ে দেশের নিরপরাধ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আটক রেখে তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। সরকার কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তারা সরকারের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতেও সরকারের কোন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না। নেতৃদ্বয় বলেন, আজহারুল ইসলামসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া না হলে এ দেশের জনগণ গণঅভুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী আওয়ামী বাকশালী সরকারের পতন ঘটিয়ে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করবে।

মহানগরী জামায়াতের শোক

সরকারের কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে আটক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সম্পাদক মো: কামারুজ্জামানের মাতা সালেহা বেগমের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল।

এক শোক বার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, মরহুমা সালেহা বেগম একজন দ্বীনদার ও পরহেজগার মানুষ ছিলেন। তিনি সব সময় অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতেন। নেতৃদ্বয় মরহুমা সালেহা বেগমের নেক আমলগুলোকে কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করতে ও তার শোক সন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।