Quantcast
ঢাকা, শুক্রবার 24 August 2012, ৫ ভাদ্র ১৪১৯
Online Edition
Twitter
Facebook
Sangram RSS
Our videos
Weather

প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর মেইলে পেতে চাইলে গ্রাহক হোন -

Delivered by
FeedBurner

| পড়া হয়েছে: ৯৭৮ বার | মন্তব্য টি

মূলপাতা » প্রথমপাতা

জামিন আবেদনের শুনানি শেষ- আদেশ হবে রোববার

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আজহার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আযহারুল ইসলামকে গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় -সংগ্রাম

0আটক রাখার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারা ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করতে চায়- ব্যারিস্টার রাজ্জাক

0আটক অবস্থায় তিনি সাক্ষীদের ভয় দেখালেন কিভাবে- আদালতের জিজ্ঞাসা

শহীদুল ইসলাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের জামিন আবেদনের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী রোববার আদেশ দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ঐদিন পর্যন্ত তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার সকালে পুনরায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে বলা হয়েছে। জামিন আবেদনের শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকার তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করছে। ১১টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আর আটক রাখার মত কোন সুযোগ সরকারের হাতে ছিল না বিধায় কথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় তারা আটকাদেশ চেয়েছেন। যদি এই ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন হয় তাহলে সেটা কারো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বাহন হতে পারে না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর নির্দেশে গত বুধবার বেলা ২টার দিকে এটিএম আজহারুল ইসলামকে তার মগবাজারস্থ বাসভবন থেকে গ্রেফতারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল রাতে। গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আদেশ তামিল করার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে তাকে নিয়ে আসা হয় ট্রাইব্যুনালে। পুরাতন হাইকোর্ট ভবনস্থ ট্রাইব্যুনালের নীচতলায় হাজতখানায় রাখা হয় আজহারুল ইসলামকে। হাজতখানার মধ্যেই তিনি জোহরের নামায আদায় করেন এবং বাইরে থেকে সরবরাহ করা কিছু খাবার খান।

বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, বিচারপতি আনোয়ারুল হক এবং একে এম জহির আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এজলাসে বসেন বেলা ২টায়। তার মিনিট পাঁচেক আগে এটিএম আজহারুল ইসলামকে হাজতখানা থেকে বের করে ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিচারকক্ষে নেয়া হয়। বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে দাখিলকৃত ২টি আবেদনের ওপর শুনানি ও আদেশ হয় প্রথমে। বেলা ৩টায় শুরু হয় এটিএম আজহারুল ইসলামের জামিন আবেদনের শুনানি। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। অপরদিকে জামিনের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম। পক্ষে-বিপক্ষে শুনানি করতে বেলা সোয়া ৪টা বেজে যাওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান আগামী রোববার আদেশের দিন ধার্য করেন। এটিএম আজহারুল ইসলামকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ এবং রোববার ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন তিনি। পরে তাকে দ্বিতীয় তলায় ট্রাইব্যুনাল কক্ষ থেকে নিয়ে আসা হয় নীচে হাজতখানায়। সেখানে আসরের নামায আদায়ের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালে উঠা ও নামার সময় এটিএম আজহারুল ইসলাম দু'জন পুলিশের কাঁধে ভর করে উঠা-নামা করেন। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারের পর তাকে যে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল সে কারণেই তিনি এখনো ঠিকমত পাঁ ভাজ করতে পারেন না এবং স্বাভাবিক হাঁটা চলা করতে পারেন না।

ট্রাইব্যুনালে এটিএম আজহারুল ইসলামের জামিন আবেদনের শুনানিতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আটক রাখার পক্ষে প্রসিকিউশন যে গ্রাউন্ড তুলে ধরেছে তা অযৌক্তিক ও অসত্য। তাদের ডকুমেন্টেই রয়েছে যে এই বছরের ১৬ এপ্রিল থেকে তদন্ত সংস্থা এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করেছে। আবার অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি তদন্ত কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছেন, দেশে-বিদেশে এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছেন। এটা কি করে সম্ভব? তিনি তো ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ সাল থেকেই জেলে। ১৬ আগস্ট তিনি মুক্তি পেয়েছেন বিপুল সংখ্যক পুলিশ পরিবেষ্টিত অবস্থায়। তারপর থেকে বুধবার পর্যন্ত ৬ দিন তার বাসায় পুলিশ, আশপাশে পুলিশ। তিনি কার্যত ছিলেন গৃহবন্দী। তাকে জুমার নামায পড়তে দেয়া হয়নি, হাসপাতালে যেতে দেয়া হয়নি এমনকি ঈদের দিনসহ একদিনও কোন আত্মীয়-স্বজনকে তার বাসায় আসতে দেয়া হয়নি। জেলখানায় থেকে একটা মানুষ কিভাবে তদন্ত কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করলেন? দেশে-বিদেশে অপপ্রচার করলেন কিভাবে আর সাক্ষীদের হুমকিই বা কিভাবে দিলেন? এটা বাস্তবসম্মত নয়। কাজেই আটক রাখার পক্ষে তাদের যে যুক্তি তা মোটেই যৌক্তিক নয়।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে গ্রেফতারের পর এটিএম আজহারুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলের কার্যক্রম যাতে ঠিকমত চলতে না পারে সে জন্যই গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করে ৬টি মামলায় জড়ানো হয়। এর প্রত্যেকটি মামলায় তিনি জামিন পেয়ে গত ২০ মার্চ তাকে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু জেলগেট থেকেই ডিবি পুলিশের গাড়িতে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় অজ্ঞাত স্থানে। পরে তাকে আরো ৫টি মামলায় আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এই ৫টি মামলায়ও জামিন পেয়েছেন আজহারুল ইসলাম। কিন্তু যেহেতু তাকে জেলগেট থেকেই আবারো গ্রেফতারের আশঙ্কা ছিল তাই আমরা হাইকোর্টে রীট পিটিশন করি। হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট ওয়ারেন্ট ছাড়া আজহারুল ইসলামকে পুনরায় গ্রেফতার বা হয়রানি করা যাবে না মর্মে নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশ জেল কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরও তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে ৩ দিন পরে। সেটাও করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। জেলখানা থেকে তাকে পুলিশ পরিবেষ্টিত অবস্থায়ই মগবাজারের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং এ ক'দিন পুলিশ বেষ্টিত অবস্থায় কার্যত তিনি ছিলেন বন্দী।

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আজহারকে আর আটকে রাখার কোনো আইনগত সুযোগ ছিল না। কিন্তু সরকার তাকে জেলে রাখতে চায়। এ জন্য এই ট্রাইব্যুনালের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন। এটা কারো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে না। তারা আজহারকে আটক রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য এই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করছে। এ জন্যই তাকে আটক রাখার আবেদন করেছেন। এই ট্রাইব্যুনাল যদি স্বাধীন হয় তাহলে কারো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে না।

তিনি বলেন, তদন্ত যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধেই হতে পারে। তদন্তে অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একজন প্রফেসর ও তার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে হত্যা করার কথা আছে। কিন্তু বিগত ৪১ বছরে তার পক্ষ থেকে কেউ একটি জিডি বা এফআইআর কিছুই করেনি। তাহলে কি ঘটনার কোন সত্যতা আছে বলে মনে হয়?

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আইসিটি এ্যাক্ট ১৯৭৩ এ যাই থাকুক বিধিতে উল্লেখ আছে যে ট্রাইব্যুনাল যে কোন পর্যায়ে অভিযুক্তকে জামিন দিতে পারেন। আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়ে থাকলেও তা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। কাজেই তিনি জামিন পেতে পারেন আইনসঙ্গতভাবেই। দ্বিতীয়ত তিনি ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্তচাপ, মাথা ঘুরানোসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত। এক বছর জেলখানায় থাকার কারণে এসব অসুস্থতা আরো বেড়ে গেছে। এখন তার চিকিৎসা প্রয়োজন যা জেলখানায় ব্যাহত হয়েছে এবং হবে। কাজেই তাকে এই মুহূর্তে জামিন দেয়া প্রয়োজন।

জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম বলেন, যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতো তাহলে জেল থেকে বের হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়া হতো। আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী বিস্তর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে। এই পর্যায়ে তদন্ত চলাকালে তাকে জামিন দেয়ার কোন বিধান এই আইনে নেই।

ট্রাইব্যুনালের সদস্য একেএম জহির আহমেদ তাকে প্রশ্ন করেন উনি জেলে থেকে তদন্ত ব্যাহত করলেন কিভাবে? দেশে-বিদেশে ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালেন কিভাবে আর সাক্ষীদের ভয়-ভীতিই বা দেখালেন কিভাবে? এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি প্রসিকিউটর মালুম। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যগত যে গ্রাউন্ড তারা জামিনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন তা সঠিক নয়। আমার নিজের রক্তচাপ উনার চেয়েও বেশি।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, তাকে আটক রাখার জন্যই এই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করতে চাইছেন প্রসিকিউশন। এটা সভ্য সমাজে কাম্য নয়।

ট্রাইব্যুনালে আজহারুল ইসলামের হাজির করা এবং তার জামিন আবেদনের শুনানির কারণে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। তার পক্ষে অর্ধশত আইনজীবী ছিলেন এজলাস কক্ষে। আর সরকার পক্ষেও ছিলেন অন্তত ১৫ জন আইনজীবী। অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী এবং পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আদালত কক্ষের বাইরেও বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ব্যারিস্টার রাজ্জাক ছাড়াও এটিএম আজহারুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট নিজামুল ইসলাম, এডভোকেট তাজুল ইসলাম, মনজুর আহমেদ আনসারী, জসীম উদ্দিন সরকার, আশরাফুজ্জামান, ফরিদ উদ্দিন খান, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিক, ব্যারিস্টার নাজির মোমেন, ব্যারিস্টার আরমান, এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন মিঠু, শিশির মনির, কামাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।